Sunday, July 29, 2018

ত্রিভুজ

কুয়াশা এত সকালে কাটার কথা নয়। বুড়ির দোকানের স্পেশ্যাল চা এক চুমুক মিষ্টি শব্দে গ্রহণ করলো ভূমিকা । প্রেসিডেন্সী থেকে ফিজিক্স অনার্স পাস করেছে সে । কথায় চোখে মুখে সবসময় বুদ্ধিমত্তার ছাপ। চা খেতে খেতে সিগ্রেট খাচ্ছিল ভূমিকা। পাশের লোকগুলো হাঁ করে দেখছিল । ভূমিকার তাতে কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। সে লিবারেল। তার হাতে সিগ্রেটটা যেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতি একটা অঘোষিত তাচ্ছিল্যের জিহাদ। তার পরণে একটা টিশার্ট আর জিন্স। চুল বয়েজ কাট্। পেপার পড়ছিল। আমায় পেপার থেকে মুখটা তুলে জিজ্ঞেস করল, 'তা সুত্রধার বাবু আজ আপনি যাবেন কোথায় ?' আমি বললাম - 'আপনার সাথে সাথেই যাবো । নামবো একেবারে শেষে। যেখানে সবাই নেমে যাবে। '

- আচ্ছা আপনার আরেকটা নাম যেন কি ?

 - নেপথ্য।

- ও হ্যাঁ।

বলতে বলতে বাস চলে এল। আমরা দুজন উঠে পড়লাম। ফাঁকা বাস। ভূমিকার জন্য তবু সিট রেখেছিলেন তার সহযাত্রী বন্ধু - বান্ধবীরা। একসাথে গল্প করতে করতে যাবে বলে। আমিও গিয়ে ওইদিকেই বসলাম। বন্ধু-বান্ধবীর নামগুলো যেদিন প্রথম জেনেছিলাম খুব মজা লেগেছিল। কেন সেটা আর নাই বা বললাম। কিসব নাম। মাখন, প্রিয়া আর কোকিল। একদিন আমি বাসের শুরু থেকে উঠেছিলাম, যেখান থেকে মাখন আর প্রিয়া উঠেছিল। সেদিন বুঝেছিলাম মাখন প্রিয়াকে অন্য চোখে দেখে। কিন্তু প্রিয়া অলরেডি কমিটেড তাই মাখন প্রিয়ার জাস্ট গুড ফ্রেন্ড ঠিক যেমন সকালবেলার বাটার টোস্ট, উপরে একটু চিনি ছড়ানো। মাখন তার আর প্রিয়ার বাসযাত্রাটার একান্ত সময়টাকে যে কোকিল আর ভূমিকা এসে ঘেঁটে দেয় সেটা নিয়ে মাঝে মাঝে বিরক্তি প্রকাশ করেই ফেলে। যাই হোক, আজ এসেই ভূমিকা বকতে শুরু করলো।



****
প্রথম ভুজ - 'লি-বালের'



'আজ পুরো ঝেড়ে দিয়েছি ওকে।' মাথা নেড়ে জানালো ভূমি।

প্রিয়া জানালো - দেখ তুই আবার শুরু করবিনা ওর কথা।

মাখন বললো - আ: বলতে চাইছে বলতে দে না। কোকিল সম্মতি জানালো - কি বলেছিস বল তো। ভূমিকা বললো - আর বলিস না আমি কাল একটা ডিপি দিলাম আমার কতদিনের একটা বন্ধুর সাথে একসাথে। আমরা অলি পাবে মদ খেতে গিয়েছিলাম। ও দেখে সেই পজেসিভ কমেন্ট শুরু করলো। আমি কিছু বললাম না। বিকজ ইউ নো সবাই উত্তর ডিজার্ভ করেনা। ডিপি চেঞ্জ করে দিলাম, ও তখন কি বলল জানিস এটা সুস্থ পোশাকের পরিচয় নয়। ও যে আমার সাথে একটা রিলেশানে আছে ভাবতে কেমন লাগছে। আমি আর থাকতে না পেরে ওকে বলে দিলাম অসুস্থ ছোটলোক। নিজেকে সাইকিয়াট্রিতে দেখাতে। বলে ব্লক করে দিয়েছি। আর নিতে পারছি না জাস্ট। একটা বাল।

প্রিয়া বললো - ভালো করেছিস বাবু। সারাজীবনের ব্যাপার। আর তুই যেরকম। আসলে সব ছেলেরাই এক।

ভূমিকা এবার রেগে বললো- 'আমি যেরকম মানে কি, তোদের মত বউ সেজে থাকতে পারবো না। ইফ ইউ কান্ট চেঞ্জ দা বয়, চেঞ্জ দা বয়। আমার সিম্পল ফান্ডা। সারমেয়, শারুখেয় এরকম কত ছেলেরা আমার সাথে ডেটে যেতে চায়। ভাবছি এবার অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া ভালো। '

সবাই হা হা করে হেসে উঠলো। এমন সময় প্রিয়ার বয়ফ্রেন্ডের ফোন এল। 'হ্যাঁ বাবু, না বাবু। তুমি বিশ্বাস করো।' একটু আড়ালে এরকম চলছিল । সেই সময় ওই বাসটায় একজন ভদ্রমহিলা উঠলেন নর্থ-ইস্টার্ণ।

তাঁকে দেখে ভূমিকা 'চিংকি' বলে উঠলো। সবাই হা হা হি হি করে নিল। প্রিয়া ফোন রাখতে মাখন বললো - 'দেখছিস আমাদের মধ্যে একজন বলছিল ছেলেরা এই,ছেলেরা ওই সে কিন্তু সবার আড়ালে ঠিক সহ্য করে নিচ্ছে।' প্রিয়া কিছু বললো না। ভূমিকা বললো - হ্যাঁ করবেনাই বা কেন, ওদের তো বাড়িতে সব ঠিক।

কোকিল এবার মুখ খুললো - হ্যাঁ তো ? তোরও তো বাড়িতে ঠিক ছিল। তুই লিবারেল বলেই তো বেরিয়ে আসতে পেরেছিস।

মাখন বললো - তোরা এত লিবারেল লিবারেল করিস। লিবারেল মানে কি জানিস ? কোন ভিন্ন মতকে সম্মান জানানো। এই যে তোরা একজনকে চিংকি চিংকি করছিলি আমি কিন্তু সাপোর্ট করিনা। তবুও আমি কিন্তু বন্ধুত্বের খাতিরে হেসেছি।


বলে একবার প্রিয়ার দিকে তাকালো সে শুনছে কিনা দেখে নিল। আবার বলতে শুরু করলো - আমি ভূমি যেগুলো করে সেগুলো মন থেকে সাপোর্ট করিনা। ও আবার তিনদিন পর কথা বলবে। এদিকে অন্যদের সাথেও ফ্লার্ট করবে।

ভূমি বললো - বেশ করেছি আমার ছাগল আমি কাটব না চরাবো আমার ব্যাপার।

 আমি এতক্ষণ ওদের কথা শুনছিলাম, এবার বললাম- বলছি ঝগড়া তো আপনাদের খুব জমে উঠেছে। আমি এতক্ষণ আপনাদের কথা শুনছিলাম। আপনাদের সাথে রোজ একসাথেই যাই। ভূমিকা আমায় চেনে। যখন আপনারা যেতেন না আমিই ওর সহযাত্রী ছিলাম। আমার মনে হয় ঝগড়া থামানোর একটা ভালো উপায় আছে। ভূমিকা বললো- কি?

আমি বললাম - আমার যা কাজ। একটা গল্প লিখেছি। গল্পটা আপনাদের মতই একজন ভদ্রমহিলাকে নিয়ে। রোজ বাসে আমাদের সাথেই যান। আমার সাথে আলাপ আছে নাম অন্তরা দেবী। গল্পটা লিখে ঠিক সুখ হচ্ছেনা। তাই আপনাদের পড়ে শোনাচ্ছি। আপনারা যদি কোন সুন্দর ফিনিশিং টাচ দিয়ে দেন বেশ হয়। আজকের যুগে আসলে গল্পে চমক না থাকলে মানুষের ইমোশনে ঠিক ঘা দেওয়া যায়না, তাই ভালো ফিডব্যাক পাইনা । আমার গল্পটা দার্শনিক হয়ে গেছে। রবিঠাকুরের যুগের অনুভূতির কচ কচানি এই যুগে কে পড়বে ? তাই মশলা চাই। মাংসের কষা টা যাতে আহামরি লাগে। যতবার পড়বে আলাদা মানে বেরোবে। মাখন বললে - 'বেশ, বেশ পড়ে শোনান। শুনতে শুনতে আমাদের গন্তব্য চলে আসবে। একঘেয়েমি কাটাতে আমাদের কিছু টুইস্ট সাজেস্ট করার থাকলে বলে দেবো। আপনার পাঠকরা পড়ে উদ্ধার করুক। '


আমি শুরু করলাম।



*****
দ্বিতীয় ভুজ-

'লাভের Love, Love-এর লাভ'


'সখী ভালোবাসা কারে কয়, সে কি কেবলি যাতনাময়, তোমরা যে বলো দিবস-রজনী ভালোবাসা, ভালোবাসা '

হেডফোনে কানে পরিচিত গলায় গিটারের সাথে রেকর্ডিংটা শুনছিলেন অন্তরা দেবী। তাঁর ডাক নাম রেণুকা। ছোট করে সবাই রেণু বলে ডাকে। এমন একটা গলা যেটা শুনলে পাগলের মত ছুটে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে। তাকে অনেকে অনেক ভাবে বুঝিয়েছে বেরোনোর উপায়, বা এটা ভালোবাসা নয় ইত্যাদি। এখান থেকে বেরোনোর উপায়, লোকজনের সাথে ভাঁটাও বন্ধু হিসেবে। কাউকে না কাউকে ভালো লেগে যাবে। সব বন্ধু, দাদা, দিদি কে বলেই দিয়েছে ওকে আর পাত্তা দেয়না। ওকেও বুঝিয়ে দিয়েছে, কিন্তু যে গানই শোনে মনে হয় ওর গলায় কি না ভালো লাগতো। ও তো ভেবেই নিয়েছে রেণু অন্য কারো সাথে রিলেশানে। ও ও হয়তো প্রেম করে নেবে । করুক। যা খুশি পাগলামি করুক। ওকে আর পাত্তা দেওয়া যাবেনা। অবহেলা করলে একদিন ও অন্য কারো সাথে চলে যাবে। রেণুও বসে থাকবেনা। অপশন খোলা রাখবে। আজ দেখলো ফেসবুকে একজনের স্ট্যাটাস 'অভ্যেসগুলো এখনো অবহেলার মানে ধরতে শেখেনি।' গানটা তাই হঠাত শুনতে শুনতে ভাবছিল, সত্যি ভালোবাসা মানে কি অভ্যেস ? রেণু কি সত্যিই ভালোবাসে ওকে ? ও বলে নানারকম দর্শন ভালোবাসার কিরকম ব্যাখ্যা দেয়। বাউলের নিষ্কাম প্রেমের সাধনা। রাধা-কৃষ্ণর প্রেমের ব্যাখ্যা। বিভিন্ন এদেশী, স্বদেশী কবিদের চোখে প্রেম। প্রকৃতি, প্রেমিকা, ঈশ্বর সব যেখানে মিলেমিশে একাকার। মাঝে মাঝে মন ভালো থাকলে শুনতে ভালো লাগে বেশ। কিন্তু এত ফিলোজফিতে তার মাথা গুলিয়ে যায়। ও কি সত্যি যা বলে অনুভব করে। অনুভব করলে মাঝে মাঝে এরকম ইনডিফারেন্ট হতে পারত ? অনেক পরীক্ষা করেও দেখেছে ও ওই ব্যবহারগুলো একা থাকার জন্যই করে, অন্য কোন মেয়েকে সময় দিতে নয়। রেণু কি করবে, ওর কথা ভাবলে ডুবে যায়, চেষ্টা করে তাই যতটা সম্ভব নিজেকে ডাইভার্টেড রাখার ওর থেকে। নানা ভাবে। ভুলে গেছে। আসলে প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে দুটো সত্তা থাকে। স্বপ্নবিলাসী আর বাস্তববাদী। ভালোবাসা এক, সম্পর্ক আর এক। সম্পর্কের মাধুর্য যখন কেটে যায় অভ্যসেটাই কোন সম্পর্ককে ধরে রাখে। তাতে ভালোবাসা থাকলো বা না থাকলো। আর ও বলে ভালোবাসা না থাকলে সম্পর্কের মরা অভ্যেসের কোন দাম নেই। ওর সাথে রেণুর আলাপ একটা মেন্টাল আসাইলামে। রেণু পেশায় একজন সাইক্রিয়াটিস্ট। ওর সেলের পাশ দিয়ে যখন যাচ্ছিল শুনছিল ওর গলায় -' তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা।' গান অনেকেই ভালো গায়। কিন্তু কিছু গলায় এমন ব্যথা থাকে ভেতরে স্বাদ লেগে থাকে। সেলের ভেতর অনুরণনটা ভেতরে অনুভব করছিল। বুকটা ধড়পড় করে উঠেছিল। কি অসাধারণ। তারপর ওর উপর একটা মায়া পড়ে যায়। এখন ওর আরোগেন্স অনেক কমে গেছে। ওর একটাই কথা -'মানুষ হল শিক্ষিত জানোয়ার। ' রেণু জানে ও মেন্টালি ডিসব্যালান্সড। কিন্তু এটাও জানে রেণু নিজে ওর প্রেমে পড়ে গিয়েছে। এটাকেই হয়তো কাউন্টার-ট্রান্সফারেন্স বলে। আচ্ছা যদি ভালোবাসা অভ্যেসই হবে রেণুর ছয়জন বন্ধু সবাইকেই ওর ভালো লাগে আর অনেকদিনের বন্ধু। প্রায় নিয়মিত কন্টাক্ট। তাহলে এদের কাকে ভালোবাসে সে ? নাকি ওই পাগলটার প্রতি যে ভালোলাগার পাগলামি তৈরি হয়েছে সেটাই ভালোবাসা ? ওর খাতায় সেদিন রেণুকে নিয়ে কথায় কথায় ওর সামনে ও পেন নিয়ে লিখল । পড়ে দেখল - 'আমার মুক্ত সরলরেখা কবে এক জোড়ায় বৃত্তের সমীকরণ হল তোমার ছায়া ধরে। সেই পেয়ার অফ স্ট্রেট লাইন কখনো সসীম বৃত্ত, কখনো অসীমে বিলীন। আর একটু সময় ভালোবেসো, হয়তো যে স্বপ্নেরা গোলাপ ফোটায়, সে স্বপ্নেরা তোমার আমার ঠোঁটে বাসা বাঁধবে।'


শুধু অভ্যেসে এত অবলীলায় এই লেখা সম্ভব ? ও বলে - 'ভালোবাসা একটা কোয়ান্টাম পসিবিলিটি ওয়েভের মতো। একটা একটা ফেজে আসে। একটা একটা পকেটে। যেরকম সমুদ্রের তীরে একটার পর একটা ঢেউ আছড়ে পরে। ফেজে। একটা ঢেউ জানেনা পরের ঢেউএর টাইম টেবিল। কিন্তু বালুতট জানে সমুদ্রের পরের চুম্বনটা তার জন্যই রাখা। সমুদ্রও জানে বালুতট এর মনের কথা। এক্ষেত্রে অবশ্যই কথা টা হচ্ছে বঙ্গোপসাগর যদি আরব সাগরের তীরের মনের কথা জানে ভেবে ভাবে যে তাকে ভালোবাসে তবে হাস্যকর। যেমন একটা জাহাজের জন্য প্লাটফর্মে ওয়েট করা যায়না। এসব মহান অনুভূতি তাই যোগ্য পাত্রে দান করা উচিত। তুমি সেই আধার।'


ওকে মাঝে মাঝে বলে তোমার এসব লেখা আমি যদি লিক করে দিই নিজের নামে, বা অন্য কেউ মেয়ে পটানোর কাজে ব্যবহার করে ? তোমার চিন্তা হয়না? ও বলে-' হ্যাঁ , আমি অনেকের প্রেমপত্র লিখে দিয়েছি। কিন্তু চিন্তা হয়না। লেখাগুলো তো আমার নয়।'

রেণু মুখ বেঁকিয়ে বলে - ও আপনিও তাহলে অন্যের টুকে মেয়েদের মনে প্রভাব বিস্তার করেন।

ও বলে - কি জানি টুকে কিনা, তবে আমাকে নিয়ে কেউ যেন লেখায়। আর আমি তখন এই জগতে থাকিনা।


রেণু অবাক হয়ে তার কথা শোনে। সত্যি না অনুভব করলে এভাবে ভাবা যায়, বলা যায় ? ভুলে যায় এটা ২০১৬ সাল। নাকি সৃষ্টির শুরুতে সে আদমের সামনে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর একমাত্র নারী হিসেবে একমাত্র পুরুষের কথা শুনছে। এই যুগে কে এত গভীরতা নিয়ে ভাবে ? মাঝে মাঝে তার এত স্বপ্ন, দর্শন পোষায়না। পাতি বাস্তব ধরে ভাবলে সে কোন কুল কিনারা পায়না। ওর সামনে এসে সময় থেমে যায়। সব দুশ্চিন্তা ভুলে যায়। মনে হয়, অনেক কিছু মনে হয়। মাঝে মাঝে সত্যি কথাগুলো মাথার উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। হ্যাঁ কিছুদিন প্রেম করার জন্য ঠিক আছে, কিন্তু সারা জীবন। না না। একটা পাগলের সাথে সারা জীবন কাটানো যায় না। সে তো অনেকের গলাই ভালো লাগে, তার মানে কি তাদের সাথে প্রেম করবে ? তার নতুন কয়েকটা বন্ধু হয়েছে। ও নতুন প্রেমে পড়লেই রেণু তাদের একজনকে ধরে বিয়ে করে নেবে। কাকে যে আসলে ভালোবাসে, সেটাই বুঝতে পারেনা রেণু। ওর মত স্বপ্নের দুনিয়াতে ভেসে গেলে মনে হয় ওকেই। কিন্তু বাস্তবে এলে এমসিকিউ চলতেই থাকে শেষ হয়না। শান্তি পাবে কি করে ? সোজা কথায় এত না ভেবে বেঁচে থাকতে গেলে কারো কন্সট্যান্ট কেয়ারে থাকতে হবে। তাই এত স্বপ্ন না ভেবে বাস্তব ভাবলে কারো সাথে রোজ শান্তিতে বেঁচে থাকাটাই ভালোবাসা। Love নয় লাভ চাই সবার। রেণুর বান্ধবী খুব পরিণত বাস্তববাদী।বলে-' বয়স হয়েছে এবার সেটলমেন্টে আসতে হবে। না ভেবেচিন্তে কাউকে আই লাভ ইউ বল। ডেট কর। কিস্ কর। দেখ এসব করার পর সে তোর আঁচলে বাঁধা থাকছে কিনা। না থাকলে ওকে স্ট্যান্ডবাই রেখে নতুন খোঁজ। একইভাবে। যেখানে লাভের গুড় মিলবে সব থেকে বেশি সেখানে বাসা বাঁধো। বাকি সবাইকে বন্ধু বানিয়ে নাও। '

রেণু বলে, 'ভালো না বেসে কিস্ করবো ? '

তার বান্ধবী বলে -' হ্যাঁ করবি। ছেলেরা এই যে বাতেলা করে প্রেমের, কেন করে মেয়েদের কাছে এসব পাওয়ার জন্যই তো। মেয়েরা কাছে কেন যায়, ছেলেদের পারমানেন্ট খুঁটি বানিয়ে রাখার জন্য। এটাই মোদ্দা কথা। যে খুঁটির শিকড় যত গভীরে সেই খুঁটি বেশি লাভবান। কাছে গেলেই ছেলেরা খুশি। আর যদি ছেড়ে দিতে হয় এভাবেই দেখাবি দোষটা ওরই ছিল। সোজা কথা যে শান্তিতে রোজ ঘুমাতে দেবে তার রোজ খোঁজ নেওয়াটাই ভালোবাসা।'


এভাবে লাভ দেখে Love হয় ? কিছুটা নরমাল জীবনে ফেরার পর ওকে অনেক ভাবে আবার খোলাখুলি প্রোপোজ করাতে চেষ্টা করে রেণু। কিন্তু পারেনা আর। এর থেকে ওরাই কেউ ভালো ছিল। সত্যি কথা বলতে মনে অশান্তি হলেও ও এমন কথা বলে শান্তি আসে। ওকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিল - কাকে ভালোবাসেন আপনি ?

বলেছিল - 'পরে বলবো। '

তারপর দু'রাত পরে এসে বলেছিল, 'দু'রাত না ঘুমিয়ে ভেবে দেখলাম আমি কোন মানবীকে ভালোবাসার যোগ্য নয়।' রেণু জিজ্ঞেস করেছিল - 'তবে ?' ও রেণুর হাত ধরে হিড় হিড় করে ছাদে নিয়ে গিয়ে খোলা মাঠ দেখিয়ে বলেছিল - 'ওই যে বিরাট পৃথিবীটা চুপ করে পড়ে রয়েছে, ওই যে দূরের ঝিলে ঝুপ করে সন্ধ্যে নামছে, ওই যে সূর্যটা মা'র টিপের মত দিগন্তে মিশে যাচ্ছে ওদের সবাইকে ভালোবাসি।' তারপর একটা গাছকে দেখিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল - 'ভালোবাসি।' এ কি সত্যি এরকম। অনেকটা নরমাল হওয়ার পর ওকে সিডিউস করার বহু চেষ্টা করেও পারেনি। ও পাগল। এটা বুঝেছে। আগে প্রচন্ড আরোগ্যান্ট ছিল। এখন আর নেই। রেণু একদিন জিজ্ঞেস করেছিল - 'আমি অন্যকাউকে বিয়ে করে নেব ভাবছি।' ওর মুখের দিকে একবার তাকিয়ে তারপর আবার রেণু বলল -' আপনি কি করবেন আমি বিয়ে করে নিলে ?' ও কোন উত্তর দিলনা। পাশ দিয়ে একটা বাচ্চা মার কোলে হাসছিল তাকে দেখিয়ে বললো হঠাত - 'দেখো দেখো। ' বলে নিজে খিল খিল করে হাসতে লাগলো। এতক্ষণ সূর্যের আলোটা একটা বট গাছের মগডালের ওপারে ঢাকা পড়ছিল। হঠাত সেই সূর্যের আলো ওই বটগাছের শেষ পাতাকে চুম্বন করে ওর মুখে এসে পড়ল। মুখ তুলে তাকিয়ে বললো- 'ছবি আঁকবো আপনার। নতুন গান লিখবো। কবিতা লিখবো। '

 'কি লাভ এসব করে ? কি পান ? ' চেঁচিয়ে জানতে চেয়েছিল রেণু।

 'মাঝে মাঝে পাই,সব সময় পাইনা। পেলে ভালো হত। ' বলে রবি ঠাকুরের মাঝে মাঝে তব দেখা পাই চিরদিন কেন পাইনা গাইতে গাইতে চলে গেল। দূরে গিয়ে আপন মনে মাউথর্গান বাজাতে লাগল। ' এটা তো ব্রম্ভসংগীত !! এইসব আঁতলামি সময়ের সাথে সাথে হাস্যকর মনে হচ্ছে তার। টিনেজ চিন্তাভাবনা। কথাটা বলতে ও একদিন হেসে বলেছিল- 'হ্যাঁ এটা ঠিক। ভাবুন রবি ঠাকুর শেষ বয়সেও টিনেজ কবিতা লিখে গেছেন। ' ওর সাথে কথায় পারা যায়না। কখন আপনি বলে, কখনো তুমি। মাঝে মাঝে দুকানে দুহাত চাপা দিয়ে ও বলে- ' আমি আর ভাবতে পারছি না। পাগল হয়ে যাব।' পুরো পাগল। নেহাত পাগল তাই কিছু বলতে পারেনা। সে বছরের বসন্ত মাস। গাছের পাতারা বাতাস আর অভিকর্ষের মধ্যে মারামারি চালাচ্ছে। রেণুর চোখে স্বপ্নের মোহ কেটে গেছে। রেণুর বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। লাভ ম্যারেজ।





******
তৃতীয় ভুজ- 'ক্রসিং ওভার'



নিজের লেখা এতটা গল্প পড়ে একটা বড় শ্বাস নিলাম। সবাই চুপ করে ছিল। প্রিয়া হঠাত বলে উঠলো - এখানেই শেষ ? আর নেই ?

আমি বললাম - না। এরপর কি লেখা যায় বুঝতে পারছিনা।

মাখন বললো - সেই একই বিষয়, বড় একঘেয়ে। এত শোকের ছায়া গল্পে। সারকাজম হলে ভালো হত মাঝে মাঝে। ভূমিকা এতক্ষণ থমথমে মুখ নিয়ে বসেছিল। তার মুখ দেখে মনে হচ্ছিল সে যেন একটা অন্য পৃথিবীতে ছিল।

হঠাত ভূমিকা বলে উঠলো - আপনার যেটা আসবে সেটাই তো লিখবেন। বিনোদন অনেকে করে। অভিনয় করেন সৌমিত্র। আপনি কোনটা হবেন আপনার ব্যাপার। আর তাছাড়া শোক ছাড়া তো শ্লোক হয়না। আমি উতসাহ পেলাম শুনে।

কোকিল বললো - ভূমি এসব কথা কার মুখে শুনছি ?

ভূমিকা বললো - কেন আমাকে কি ভাবিস?

মাখন বললো - তুই বাতেল না দিয়ে বরং শেষটা কিরকম হবে সাজেস্ট কর।

 আমি তাড়া দিলাম - হ্যাঁ ম্যাডাম বলুন বলুন। ভূমিকা শুরু করলে - অন্তরা দিয়ে জিনিসটা বেশ হল। সমাপ্তিটা আমিও দিতে পারবো না। ওটা আপনার কাজ। তবে একটা লেভেল ক্রসিং এর গল্প বলতে পারি। ওকে নিয়ে কিছু ফাঁক ফোকর বুজে দিতে পারি। ও পাগল। ওর মাথায় সব সময় কিছু না কিছু ঘুরছে। প্রচন্ড রকম মুডি। ও মানুষ খুব ভালোবাসতো। ওর পেশাটা ডাক্তারিই ধরা যাক। ওর পাশে শুলে একটাই প্রবলেম। ও যদি ডিউটি থেকে বাড়ি ফেরে মাঝরাতে কিরকম হয় জানেন তো। ধরুন আপনি ঘুমাচ্ছেন। হঠাত মাঝরাতে শুনলেন ও ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছে। বিড় বিড় করছে - 'হ্যাঁ হ্যাঁ নিয়ে চলে আসুন। না না কোন চিন্তা নেই। চাদরে মুড়ে নিয়ে চলে আসুন। ' আপনি ভাববেন কে এত রাতে ফোন করেছে রুগী দেখাতে। দেখবেন ও আসলে আপন মনে বকছে। একবার ও একটা গানের কাজ করছিল। ওর মাথাতেও ওটাই ঘুরছিল।গানের লিরিক্স, সুর। এতটাই যে শিয়ালদহ তে টিকিট কাটতে ভুলে গেল। ও টিকিট কাটবে না এটা হতে পারেনা। কিন্তু ওর খেয়ালই নেই। বিনা টিকিটে প্লাটফর্মে ঢুকছিল এমন সময় এক টিটি র সাথে ধাক্কা লাগলো। টিটি কে দেখে ওর টিকিট কাটার কথা মনে পড়ল। এতটাই অন্যমনস্ক ছিল টিটি র মুখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো -' এই রে আমার তো টিকিট কাটা হয়নি। যাই টিকিট কেটে আসি।' টিটি ওকে খপ করে ধরলো। ও এতটা বোকা নয়। কিন্তু যখন যে চিন্তায় ডুবে থাকে এরকমভাবে। ওকে তখন ঘাঁটালে ক্ষেপে যায়। ওটাই অন্তরা আর ওর শেষ দেখা ছিল। অন্তরার সাথে দেখা করতে যাচ্ছিল ও। একটা প্লাটফর্মে অন্তরা আসত দেখা করতে। অন্তরার মুখে শুনল ওর বিয়ের কথা। তারপর প্লাটফর্ম থেকে বেরিয়ে অন্তরা একদিকে চলে গেল। ও রেলগেটের অন্য দিকে। রেলগেট পড়ে গেল। ও বিদায়সূচক হাত নাড়ল। তারপর মাঝখানে ট্রেন পেরোচ্ছিল। অন্তরা উঁকি ঝুঁকি মারছিল ওকে দেখার জন্য। খুঁজে পাচ্ছিল না। কখন ট্রেনটা শেষ হবে। ট্রেনটা শেষ হল। লেভেল ক্রসিং এর এপারে দাঁড়িয়ে অন্তরা আর ওকে খুঁজে পেলনা।

এতটা বলে ভূমিকা থেমে গেলেন। সবাই চুপ। শুধু উল্লাসটা আমার মধ্যে ছিল।

প্রায় লাফিয়ে উঠলাম- পেয়েছি। দারুণ। আমায় এখুনি লিখতে হবে। আমি নামি।

মাখন বললো -' আরে চললেন কোথায় ? মাঝরাস্তায় ? '

আমি বললাম - আমার কাজ শেষ। সামনে আমার এক বন্ধুর অফিস। ওখানেই গল্পটা লিখে ফেলতে হবে। নাহলে ভুলে যাবো। চলি আবার দেখা হবে। ভূমিকা বললে - 'সূত্রধার বাবু, শুনুন একটা অনুরোধ। গল্পে মেয়েটির নাম অন্তরা না দিয়ে সমাপ্তি দেবেন। আর জানবেন ছেলেরা যেরকম গল্প, সাহিত্য, সিনেমার নায়কদের সাথে নিজেদের মিলিয়ে স্বপ্নে ভাসে কেউ সামনে, কেউ মনে। মেয়েরা কিন্তু নিজেদের স্বপ্নে ভাসে। একান্তই নিজেদের। সেই স্বপ্নগুলোই ওদের সব হয়। তাই এসব গল্প পড়ে দেখলে মেয়েদের বড্ড বেশি বাস্তববাদী চরিত্রহীনা লাগে। অন্তরা কিন্তু সেদিনেই সমাপ্তি হয়েছিল। ' বলে ভূমিকা ছল ছল চোখে বাইরে জানালা দিয়ে তাকালো। আমি নেমে পড়লাম। বাসটা চলে গেল আমাকে নামিয়ে। সামনের ফ্ল্যাটের রেলিং এ হাত দিয়ে থেকে দাঁড়িয়ে বাসটাকে দেখছিলেন সমাপ্তিদেবী। তাঁর মাথায় সিঁদুর। বাসটা যেন এতক্ষণ তার মনের তিনটে স্তরের রাস্তায় চলছিল ।।

ইনকা সভ্যতা, মমি ও বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮


সাল আনুমানিক ১৫০০। সন্তর্পণে সবার আড়ালে চোখের জল মুছলেন প্রৌঢ় ব্যক্তিটি। একটু আগেই তার বছর ৬ এর ছেলেকে আন্দীজ পর্বতমালার লুল্লাইল্লাকো আগ্নেয়গিরি র অনেক উপরে মাটি র ৫ ফুট গভীরে রেখে এসেছেন তিনি। লুল্লাইল্লাকো কথাটার আক্ষরিক অর্থ হল - মিথ্যে ছলনাময়ী জল। এরকম নাম হওয়ার কারণ - ওই আগ্নেয়গিরি  হল পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। উচ্চতা অনেক হওয়ার কারণে উপরে বরফ থেকে গলে জল হয় , কিন্তু নীচে নামতে না নামতেই পাহাড়ের গায়ে শোষিত হয়ে যায়। তো যাই হোক, বর্তমান ম্যাপ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা আর চিলির বর্ডারে এই আগ্নেয়গিরি। যার খুব কাছেই আবার আটকামা মরূভূমি। আসলে আমরা আজ একটুক্ষণের জন্য চলে যাবো আমেরিকার ইনকা সভ্যতার সময়কালে। হ্যাঁ, ইনকা সভ্যতার বিস্তার বর্তমান পেরুর কুসকো কে কেন্দ্র করে হলেও তার বিস্তার আর্জেন্টিনা,  চিলি অবদিও ছিল । প্রৌঢ় ব্যক্তিটির ছেলে কিছুতেই ওখানে যেতে চাইছিল না। প্রচুর ছটপট করায় ওকে নিজের হাতে শক্ত করে বেঁধে ওই আগ্নেয়গিরি র যেখানে উষ্ণতা জিরো ডিগ্রী সেলসিয়াস এর অনেক নিচে সেখানে মাটির পাঁচ ফুট গভীরে আরো দুজন মেয়ের সাথে ওকে নামিয়ে আসা হয়। ওরা খুব ভালো জানে, ওই ঠান্ডায় আর আটকামা মরূভূমির শুকনো ওয়েদার ওদের এখনো অনেক বছর একইরকম ভাবে রেখে দেবে। শুধু থাকবেনা ওদের প্রাণবায়ু। মমি হয়ে থেকে যাবে। বাকি দুজন ও ওদের মত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির মেয়ে। একজনের বয়স বছর পনেরো। আর একজন ওর ছেলের থেকে একটু ছোট। ওদের সবাইকেই কোকো গাছের নির্যাস খাওয়ানো হয়েছে যাতে ওরা ঘুমিয়ে পড়ে ওই বরফশীতল আবহাওয়া তে । শান্তিতে নিথর মোমের মূর্তির মত। ওদের প্রাণবায়ু বেরোলেই ইনকা সভ্যতার উপর যে দুর্ভিক্ষের অভিশাপ চলছে সেটা থেকে মুক্ত হবে এলাকা বাসীরা। এরকম বিশ্বাস তাদের। এই প্রথাকে "ক্যাপাকোচা" বলে।  কে জানতো তার ১০০ বছরের মধ্যে ইনকা সভ্যতা কে গ্রাস করে নেবে কলম্বাসের পথ ধরে আসা স্প্যানিশরা। ওদের ভাষা বাংলা নয়। রবীন্দ্রনাথ তখনো জন্ম নেন নি। কিন্তু মানুষের অনুভূতি তো পালটায় না।  কে জানত হয়তো ওই কাল্পনিক প্রৌঢ় পিতার মনে "দেবতার গ্রাস " কবিতার লাইনগুলোই এসেছিল। ওদের ওই বলিদান তখন কাজে এসেছিল কিনা আমরা নিশ্চিত নই। তবে কে জানত ৫০০ বছর পর ২০১৮ সালে সেটা কারো কাজে আসবে? কিভাবে?
তাহলে চলে আসুন , ২০১৮ বিশ্বকাপ পূর্ববর্তী ২০১৭ র কোয়ালিফায়ার ম্যাচগুলোতে চলে যাই। চলে আসা যাক টিম পেরুর অন্দরমহলে। নিজেদের টিমে গোল করার ভরসা একজন সে ব্রাজিলের ফ্ল্যামেংগো ক্লাবে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলে। পেরুর ক্যাপ্টেন পাওলো গুরেরো। ১৭ টা কোয়ালিফাইং  ম্যাচ খেলে পেরুর বিশ্বকাপ খেলা তখনো নিশ্চিত হয়নি। এই অবস্থায় আর্জেন্টিনা র বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর ২০১৭ র ৩রা নভেম্বর পেরু টিমে খবর এল পেরুর ক্যাপ্টেন গুরেরো ডোপ কন্ট্রোল টেস্টে ফেল করেছেন। গুরেরো কে আপাতত ৩০ দিনের জন্য ব্যান করা হল। বায়ার্ন মিউনিখ ক্লাব এ একসময় খেলে আসা এই সিনিয়র প্লেয়ার কে ছাড়াই পেরু নিউজিল্যান্ড কে হারালো আর বিশ্বকাপ খেলার ছাড়পত্র পেলো। কিন্তু বিশ্বকাপে যে ক্যাপ্টেনকে দরকার। এদিকে ৮ই ডিসেম্বর ২০১৭ তে প্রমাণিত হল গুরেরোর প্রস্রাবে পাওয়া গেছে কোকেন এর একটা মেটাবোলাইট - বেঞ্জোইলক্গ্নিন। তাই উনি এক বছর খেলতে পারবেন না। পেরু টিম ম্যানেজমেন্ট এর মাথায় হাত। খুব ভালো উকিল নিযুক্ত করা হল। কোনভাবে যদি প্রমাণ করা যেত যে পেরুতে যে কোকো পাতা থেকে তৈরি চা খাওয়া হয় সেখান থেকেও ওই বেঞ্জোইলক্গ্নিন তৈরি হয় তাহলেই এই নির্বাসন তোলা সম্ভব। গুরেরো র হয়ে তার উকিল সওয়াল করতে গিয়ে ফিরে যান ইনকা সভ্যতার ওই তিন মমির প্রসঙ্গ এ। ১৯৯৯ সালে আবিষ্কার হওয়া ওই মমি তিনজন এর শরীরে ওই মেটাবোলাইটটি পাওয়া যায়। এদিকে কোকেন কে কোকো পাতার অ‍্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট হিসেবে আইসোলেট করা হয় ১৮৬০ সাল নাগাদ। মমি গুলো তো তারও পুরানো। তার মানে ওদের শরীরে ওই মেটাবোলাইট এর অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে, কোকো পাতার নির্যাস খেলেও ওই মেটাবোলাইট পাওয়া যেতে পারে। প্রত্নতাত্ত্বিক রা এই মতবাদের বিরোধিতা করতে পারেন না। কারণ তারাই ১৯৯৯ সালে ওই মমিকে গবেষণা করে বলেছিলেন, যেহেতু কোকেন তখনো আবিষ্কার হয়নি, কোকো পাতার নির্যাস খাইয়ে তাদের এইখানে ঠান্ডায় জমে যেতে ফেলে যায় ইনকা সভ্যতার লোকজন রা। এই সওয়াল শুনে ব্যান উঠে যায় গুরেরো র উপর থেকে। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরোতে না পারলেও অস্ট্রেলিয়া কে হারানোর পেছনে গুরেরো র অবদান বিশাল। একটা ভালো গোল নিজে করেছেন, একটা গোলের পেছনে গুরেরো র ক্রস। ফ্রান্স ও ডেনমার্ক কে গ্রুপ লিগে সমানে সমানে টক্কর দিয়েছে পেরু।
আমরা কেউ জানিনা, গুরেরো সত্যি কোকেন নিয়েছিলেন কিনা।
তবে এটুকু জানি, চিলি, প‍্যারাগুয়েকে হঠিয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলা পেরুর সম্মান রাখার পেছনে অবদান রয়ে গেলো সেদিনের ইনকা সভ্যতার তিন মমির।।

তথ্যসূত্র : Dr Angshuman Roy, Google news articles and Wikipedia

জিহাদ

" বন্ধুরা, সময় এসেছে আমাদের উপর যা অন্যায়, অবিচার হয়েছে তার জবাব দেওয়ার। আমাদের মধ্যে দুজন জিহাদি এখুনি রওনা দেবেন যকৃতের উদ্দেশে...."

সভায় চলছিল কিছু টিউমার সেলের মহান নেতার ভাষণ। আমরা এখন দুজন শ্রোতার কাছে যাব।।দুজনেই সচেতন স্যাম্পলিং এর শিকার।
একজন বললো
 - উফ্, এরকম গায়ের উপর চাপাচাপি করার স্বভাব গেলনা, না??
 - দোস্ত, এটা কি কথা, জন্মেছি ক্যান্সার সেল হয়ে, আমাদের এই বস্তিতে ভালোভাবে বেড়ে ওঠার তো নিয়ম নাই। উদ্বাস্তু হয়ে গায়ের উপর চাপাচাপি করেই তো বাঁচতে হবে।
 - চুপ কর্, আমাদের মহান নেতা আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলছেন।
 - হ্যাঁ, জানি বলির পাঁঠা আমাদেরকেই বানাবে।কুফার সেলের নাম শুনেছিস?? আমাদেরকে গিলবে বলে বসে আছে।
 - এই চুপ, আমাদেরকে মহান নেতা উৎসেচকের টিকা পড়াতে আসছেন।

মহান নেতা এসে বললেন দুজনকে,
 "বন্ধুরা , এটা ধর্ম রক্ষার যুদ্ধ। এতদিন ওদের টি-সেল আমাদের মারতো। এবার আমরা এর জবাব দেব। পথে যেতে যেতে কোন টি-সেলের হাতে যদি আপনাদের মৃত্যু হয়, তাহলে মনে রাখবেন আমরা যখন গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাব, সেই সোনার দিনে আপনাদের এই বলিদান সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। আপনারা ওখানে দেখে সিগন্যাল পাঠালেই আমাদের অস্ত্র মিছিল যকৃত কলোনি তে পৌঁছে যাবে। জয় টিউমার"

- জয় টিউমার। জয় টিউমার।

 টিউমার সেল ভাইদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দুই দোস্ত এগিয়ে গেল কোলাজেন সীমান্তের দিকে। একজন আরেকজন কে জিজ্ঞেস করলো।

 - দোস্ত এই জিহাদে কার লাভ??
 - মানে?
 - মানে জানিসনা??  ধর যদি পথে আমার মৃত্যু হয়, তখন আমার কাছে তো এই দুনিয়া শেষ।
 - হ্যাঁ, কিন্তু তার সুফল পাবে আমাদের পরের প্রজন্ম।
 - কিন্তু দোস্ত আমরা যদি চারিদিকে ছড়িয়ে যাই, তখন আমরা সেই মরা দেশের রাজা হয়ে কি করব ??

 দুজনের মধ্যে নীরব কুয়াশা নেমে এল।তাকে ভেদ করার ক্ষমতা দুজনের কারোরই ছিলনা। সামনেই দেখা যাচ্ছে রক্তবাহের লাল আভা।এপিথেলিয়াল লেয়ার পেরোলেই দুই বন্ধু ঢুকে পড়বে রক্তস্রোতে।।

পরমাণু-র গল্প

পাড়ার পান সিগারেটের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলো কিছু ইলেকট্রন। আমি একটি বিশেষ সংবাদপত্র পড়ে হাম্পটি-ডাম্পটি কণা খুঁজতে বেরিয়েছিলাম।

ইলেকট্রনগুলো সারাদিন ডিপ্রেশনের কথা বলে, বেকারত্বের জ্বালা নিয়ে মেঘের মত ঘুরে বেড়ায় ক্লাবে ক্লাবে। হাইসেনবার্গের অনিশ্চয়তা আজও তাদের ভবিষ্যৎ ঘিরে বর্তমান। শুধু টিউশন থেকে পাড়ার যুবতী মেয়েগুলো যখন সন্ধ্যেবেলা ফেরে ওদের দেখে, টোন কাটে, চারিদিকে ঘুরঘুর করে। মেয়েরা পড়শি প্রো-টোনের দল, পজিটিভ এনার্জি দিয়ে যায় ওদের মনে। চারিদিকে ওদের দাদা, অভিভাবক নিউট্রন এর মত ঘিরে থাকায় আজ অবদি ইলেকট্রনদের প্রেমপত্র বিতরণ হল না। নাহলে কত প্রেমের চিঠি কত ভাবে লেখা হয়ে পড়ে আছে। ওদের দেখে খুব উত্তেজিত হয়ে পড়ে কিছু ইলেকট্রন, কিন্তু ওরা চলে গেলে আবার নেতিয়ে যায়। ওদের নাম ফোটন মস্তান ইলেকট্রন।

তো ওদের জিজ্ঞেস করলাম
- ভাই তোমরা হাম্পটি ডাম্পটি কে দেখেছো?

- দাদা আমরা তো "হাম্পটি শর্মা কি দুলহনিয়া" দেখেছি। তাও অনেক আগে। আপনি টরেন্টে পেয়ে যাবেন।

- আরে না সেটা নয়। এটা একটা অন্য জিনিস।

- কি জিনিস দাদা?

- যেটা ছাড়া সমাজ চলেনা, যেটা মানুষের উপর মানুষের উপর বিশ্বাস ফিরিয়ে আনে।
একটা মোটা ভারী নাম "আদর্শ "। খুবই ক্ষণস্থায়ী আর ভারী। হাম্পটি ডাম্পটির মত।

( সবাই সমস্বরে হাসলো)

আমি আবার বিনীত ভাবে বললাম -
আরে রাস্তা ঘাটে খুঁজতে বেরিয়েছি পেপার পড়ে, তাকে নাকি খুঁজে পাওয়া গেছে। তারপর দেখলাম পূজার নাম করে বক্স বাজিয়ে মদ খেয়ে উত্তাল নাচ চলছে। বাম হাত আর বাঁকা পথ এ এত সক্রিয় মানুষ। তারপর দেখলাম সব কিছুই শর্ট আজকাল। সম্পর্ক। বন্ধুত্ব। ঘরে এক, ফোনে দশ ; এক রাতের মজা। শুধু প্রেমের সম্পর্ক নয়। খুব সেনসিটিভ সম্পর্ক যেগুলো যেমন শিক্ষক-ছাত্র, ডাক্তার-রুগী, বাবা-মা-ছেলে সব জায়গায় খুঁজলাম। মানুষের মূল্যবোধ, জীবনের দাম ছাড়া পেট্রোল - ডিজেল সহ সব কিছুরই দাম শুধু বাড়ছে। বন্ধু বন্ধুকে ঠকাচ্ছে। শর্ট যুগে কোথাও হাম্পটি ডাম্পটি কে পেলাম না।

একজন ইলেকট্রন আমার দু:খ বুঝে বললো-
আরে দাদা, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুকের যুগে মানুষের আটেনশন স্প্যান এত কমে গেছে
আজকাল সব কিছু শর্ট। আগে লোকে গোটা কবিতা পড়তো আর গোটা গান শুনতো। এখন একটা লাইন শোনে। আর কয়েক বছরে দেখবেন কয়েকটা শব্দ শুনবে। পরের শব্দের, পরের লাইনের প্রাসঙ্গিকতা কি ভেবেনা দেখলেও চলবে। লিরিসিস্ট দের ও সুবিধে, এক ছিলিম গাঁজা খাও যা মাথায় আসছে লিখে যাও।

- যেমন কিরকম?

- যেমন ধরুন, একটি মেয়ে তার ডিপি র নীচে আজকাল ক্যাপশন দেয় ধরুন "প্রতি চুম্বনে স্থির"। সে নিজে সেই গানটা পুরোটা শুনেছে কিনা সন্দেহ। তার শর্ট আটেনশন স্প্যান ওই তিনটি শব্দ শুধু ক্যাচ করেছে।

- কিন্তু মানুষ তো উপন্যাস পড়ছে।

- ছাই পড়ছে। কতজন আজকের যুগের লোক উপন্যাস পড়ে হাতে গুনে বলা যাবে। এখন মানুষের ছোট গল্প পড়ারও সময় নেই। অণু গল্প, পরমাণু গল্প এর যুগ বুঝলেন দাদা। এখন তো সরকার ডাক্তার হওয়ার ও শর্টকাট ব্যবস্থা করছে কয়েক মাসের ব্রিজ কোর্স করে।

- তাহলে কি হাম্পটি-ডাম্পটি কণাকে কোথাও খুঁজে পাবোনা ?? পেপারে যে লিখেছে সে নাকি সার্ণের সুড়ঙ্গ এ সুড়সুড়ি দিচ্ছিল।

- আরে ওরা এপ্রিল ফুল বানিয়েছে দাদা। সাংবাদিকেরও তো খবর দরকার। তাই ছেপে দিয়েছে। বাড়ি ফিরে যান। হাম্পটি ডাম্পটি কে শুধু বাচ্চাদের পড়ার বইতেই খুঁজে পাবেন ।।

Vaccine

স্থান - National Institute of health , Bethesda, Maryland, জুলাই, ২০১৪ ...

অন্ধকারে কিছু ছায়া ঘোরাফেরা করছে। হঠাত একজন আওয়াজ করে উঠলো। 'ওহ মাই ফিংগার, ফাক্।' হাতের গ্লাভস্টা খুলতেই একটা রক্ত আর ঘামের ফোঁটা আর একজনের হাতে ধরে রাখা বস্তুতে পড়লো। আর একজন বললো 
- হে ডেভিড, একবার দেখে নাও বেবি ঠিক আছে কিনা ? আমারটায় ঠিক আছে।

ডেভিড একবার বস্তুটা খুলে দেখে নিল। রক্ত আর ঘাম থেকে কিছু ব্যাক্টেরিয়া আর ফাজ ভাইরাস ওই বস্তুর মধ্যে প্রবেশ করলো। হঠাত সেই মুহূর্তে একটা পুলিশের ভ্যানের সাইরেনের আওয়াজ পাওয়া গেল। ওই অবস্থাতেই তাড়াহুড়ো তে পালাতে গিয়ে ডেভিড হোঁচট খেয়ে পড়লো। তার হাতের বস্তু থেকে একটু কাঁচের মত বস্তু মাটিতে ঠোক্কর খেলো। ব্যাক্টেরিয়া আর ফাজ ভাইরাস প্রবেশ করলো স্মলপক্সের গুহায়। 'আমার মনে হয় পাত্রে চিড় ধরেছে। ' ডেভিড চেঁচিয়ে উঠলো। 
'আমরা পাত্র পালটে ডেলিভারি দেবো। এখন চলো '

********

স্থান - বায়োসেফটি লেভেল-৪ ল্যাব, State Research Center of Virology and Biotechnology VECTOR, Russia, জুলাই, ২০১৪

বিজ্ঞানী ড. ইউগুশি পেপারে একটা খবর দেখে চমকে গেলেন। আমেরিকার ম্যারিল্যান্ডে এফ.ডি.এ ল্যাবে স্মল পক্সের কিছু ভায়াল পাওয়া গেছে। ফোন করলেন কাউকে, হালকা হেসে জানতে চাইলেন - কোড ৯১৪, বেবি কবে আসছে আমাদের এখানে ? আমাদের ভ্যাকসিন তৈরির টিম রেডি। 

******** 
স্থান - ভারতের একটি গ্রাম

'কি করছো ? ' প্রায় এক সপ্তাহ পর ফোনে প্রেমিকার এই প্রশ্নের কি উত্তর দেওয়া উচিত ভেবে পেলোনা সৌমিত্র।
 অনেক অভিমান ভরা গলায় বললো 
- ' এটাই ভাবছিলাম আমি সিংগেল না কমিটেড ?? ' 
- দেখো তুমি আবার একি কথা বলছো, তুমি তো জানো আমি একটা খুব কনফিডেন্সিয়াল রিসার্চে আছি। এই রিসার্চে কিছু করতে পারলে আমার দেশে আমি যেখানে চাইবো সেখানে আমাকে লুফে নেবে। আমরা তখন একসাথে থাকবো। 
- হুহ্, লাস্ট এক বছর ধরে এটাই শুনে আসছি, যে কটা দিন রাশিয়া, তারপরেই ভারতে আসবেন মিস রোশনি, সারা জীবন। এত কিসের কাজ।
 - দেখো তোমাকেও বলেছিলাম বিদেশে আসতে, কিন্তু তোমার সেই দেশী সেন্টিমেন্ট। দেশের জন্য কাজ করবো। গ্রামে ডাক্তারি করবো। আর তুমি যদি সত্যিই জানতে চাও আমি নিজেই কিছু জানিনা, আর যেটুকু জানি ফোনে বলতে পারবোনা। আমাদের সবার ফোন ট্যাপ হয়। 
- ফাইন, হোয়াট আ রিলেশন ! শোন আমি আসছি রাশিয়া। এক মাসের মধ্যে।

ফোনটা কেটে দিল সৌমিত্র। পেপারটা খুলল আজকের। হেডিংটা দেখে চমকে গেল। আমেরিকা আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের হাত মেলানোর ছবি প্রথম পাতায়, আর উপরে লেখা দ্বিতীয় গাল্ফ ওয়ার কি আসছে ? প্রতিবেদন টা পড়ে বুঝলো, গাঁজাখুরি বলে উড়িয়ে দেওয়া যায়না কথাটা। গোপন সূত্রে খবর, আমেরিকা আর রাশিয়া হাত মিলিয়ে একটা নতুন অস্ত্র গোপনে ইরাক, আরবের দেশ র উপর প্রয়োগ করবে। তারপর সব তেলের খনি সব চলে যাবে এই দুই শক্তির দখলে। অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে আবার চাংগা হয়ে উঠবে দুই দেশ। তারপর গোটা পৃথিবী এদের পায়ের তলায়। নিজের মনেই হাসল সৌমিত্র। রোশনি রাশিয়া তে যবে থেকে আছে, এই বাইরের খবর গুলো ভালো করে খোঁজ রাখে সে। সে জানে আমেরিকা আর রাশিয়া এমন দুটো শক্তি, পৃথিবীতে এদের অসাধ্য কিছু নেই। আর এরা দুজন মিললে পৃথিবী ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। তারপর অবশ্য নিজেদের মধ্যে মারামারি করে মরবে। এর মধ্যে যদি উ: বা দ: কোরিয়ার মত কিছু পাগল দেশ আণবিক/ পরমাণবিক শক্তি প্রয়োগ করে ফেলে তাহলে এ পৃথিবীর আর কিছু বাকি থাকবেনা। যে কজন মানুষ বাঁচবে আবার সেই আদিম যুগে ফিরে যাবে। এইসব ভাবতে ভাবতে সে জীবনানন্দ আপন মনে আওড়াতে লাগলো - 
"অদ্ভুত আঁধার এক আসিয়াছে পৃথিবীতে আজ, 
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা; 
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই-প্রীতি নেই-করুণার আলোড়ন নেই
 পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া। 
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি, 
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয় মহৎ সত্য বা রীতি,
 কিংবা শিল্প অথবা সাধনা 
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।"

******

স্থান - রাশিয়ার একটি রেস্তোরাঁ

একটি টেবিলে একটি যুগল খেতে বসেছে।
 - তারপর বলো এবার তোমার রিসার্চ কি নিয়ে, কি এমন কনফিডেনসিয়াল ? 
- আস্তে। কেউ জানেনা আশে পাশে কোন স্পাই আছে কিনা। 
- দেখো রোশনি এটা কিন্তু ড়িলিউশান অফ পারসিকিউশন। 
- আচ্ছা ডিলিউশান ? ওই দেখো পাশের টেবিলে একজন আমাকে ল্যাব থেকে পিছু করছে। 
- হম্, কিন্তু কিসের এত কনফিডেন্সিয়াল রিসার্চ ? 
রোশনি একটা টিস্যু পেপারে লিখে দিল - স্মল পক্সের একটা মিউটেটেড ভারসান তৈরি হয়েছে, তার উপর কোন একটা কারণে ভ্যাকসিন কাজ করছেনা। তার উপর রিসার্চ, আমেরিকা আর রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে।
 - কিন্তু এটা এত কনফিডেন্সিয়াল কেন ? 
            টিস্যু পেপারে লিখল সৌমিত্র। রোশনি লিখলো জানিনা। অল্প কিছু খেয়ে তারা উঠে পড়লো। টিস্যু পেপার টা পাশের ডাস্টবিনে ফেলে দিলো, মুড়ে। ওরা চলে যেতেই ওই অজানা ব্যক্তি ডাস্টবিন থেকে টিস্যু পেপার খুলে দেখলো। একটা ফোন করলো - স্যার, বেবির খবর বাইরে লিক হয়ে গেছে। 
"ওই দুজনকে জ্যান্ত তুলে নিয়ে এসো "
 ওপাশ থেকে অজানা কন্ঠ উত্তর দিল।

*****

স্থান - রাশিয়ার একটি গোপন আর্মি বেস ক্যাম্প

চোখ খুলতেই মাথাযন্ত্রণা টের পেল সৌমিত্র। চোখ খুলে দেখলো রোশনি একজন মিলিটারি ড্রেসের লোকের কাছে কান্নাকাটি করছে। সৌমিত্র র চোখ খুলেছে দেখে, লোকটি বললো 
- ডা: সৌমিত্র রে। অসাধারণ ট্যালেন্টেড, কিন্তু পড়ে আছে ইন্ডিয়ার কোন নোংরা কোণে। আর তার বউ কে পাঠিয়েছে রাশিয়ার ল্যাবে রিসার্চ করতে।

সৌমিত্র উত্তর দিল 
- আপনি কে? আমাদের কেন এখানে এনেছেন? 
- বলছি বলছি। আজই তোমাদের শেষ দিন। তার আগে সব জেনে যাও। আপনি খুব বুদ্ধিমান ডা: রে। নাহলে এই প্রশ্ন টা আপনার মাথায় স্ট্রাইক করতোনা যে কেন এত কনফিডেন্সিয়াল। আমি কে সেটা না জানলেও চলবে। আপনি নিশচয়ই জানবেন আমাদের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হাত মিলিয়েছেন। 
- হ্যাঁ। 
- এই দুই দেশ সব তেলের খনি নিজের অধিকারে করতে চায় গোপনে যাতে রাষ্ট্রপুঞ্জ কোন টের না পায়। জানেন অস্ত্র কি? 
- না। নীরব অস্ত্র কোন। বোমা তো হবেনা। নইলে সবাই বুঝে যাবে। 
- এক্জাক্টলি, আমাদের অস্ত্র হল বায়োউইপন। স্মল পক্স ভাইরাস ইরাকের বাতাসে, খাবারে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। কে ছড়িয়েছে কেউ জানতেও পারবেনা। কিন্তু মুশকিল হল, আমেরিকার ল্যাব থেকে ভাইরাসের স্যাম্পেল চুরি করতে গিয়ে একটা স্যাম্পেল কোনভাবে কন্টামিনেটেড হয়ে মিউটেট করে। এখন সেই ভাইরাসে ভ্যাক্সিন কাজ করেনা। তাই যতদিন না সেই ভ্যাক্সিন আমরা হাতে পাচ্ছি, আমরা দ্বিতীয় সাইলেন্ট গাল্ফ ওয়ার শুরু করতে পারছিনা। আমাদের ল্যাবে অলরেডি দুজন সায়েন্টিস্ট, তিনজন কর্মী স্মল পক্সে মারা গেছে। এই ভাইরাস এখন শুধু ম্যালিগনান্ট আর হিমোরহেজিক স্মল পক্স করে। মাইল্ড ডিজিজ করেনা। জেনে গেলেন, এবার মরতে প্রস্তুত হন।
 - আচ্ছা আমি যদি বলি আমায় বারো দিন সময় দিন আমি এর ভ্যাক্সিন বের করে দেবো।
                              সৌমিত্রর কথায় লোকটির চোখ চিকচিক করে উঠলো। 
"ওকে এটাই যদি আপনাদের শেষ ইচ্ছে হয়, তাহলে তাই হোক। কোইন্সিডেন্টালি, স্মল পক্সের ইনকিউবেশন পিরিওড ও বারো দিন। আজ আপনাদের শরীরে ওই মিউটেটেড ভাইরাসের স্যাম্পেল ইঞ্জেক্ট করছি, বারোদিনের মধ্যে না কিউর বের করতে পারলে আপনারা মারা গেলেন। "

******

১২ নং দিন, রাত দশটা, স্থান- রাশিয়ার একটি ল্যাব,

"আর কয়েক ঘন্টা তারপরেই স্মল পক্স আমাদের শরীর শেষ করে ফেলবে, আমরা মরে যাব, আজ শেষ দিনে তোমাকে তুই করে বলবো সেই শুরুর দিন গুলোর মতো " বলে হা হা করে হাসতে লাগলো রোশনি। 
"হুম্ গাঁজাটা প্রথমবার ভালোই কাজ করেছে বুঝতে পারছি তোর শরীরে" সৌমিত্র বললো। 
- " বাজে না বকে, কিছু উপায় বের কর, ইডিয়ট। তখন তো বেশ বড় মুখ করে বলে এলি বারো দিনের মধ্যে... আমরা বছর ভর উদয় অস্ত পরিশ্রম করে কোন উপায় পেলাম না, আর উনি বারো দিনে... " 
- " ভাব্ , আমরা আমাদের জীবনের শেষ বারোটা দিন একসাথে কাটালাম ঘড়ি দেখে সময় গুনে । আমরা চাইলেও পারবো না পালাতে। চারিদিকে গার্ড। "
 - " সাট আপ জাস্ট থিংক। আমাদের হাতে খুব কম সময় বেঁচে আছে। " 
- "বারোদিন বিভিন্ন প্রাণীতে তো আমরা আন্টিবডি সৃষ্টি করার অনেক চেষ্টা করলাম হানি, লাভ তো হল না। লাইফ আর লাভ দুটোই সারভাইভ করার ঠিক রাস্তা খুঁজে নয়। এই স্মল পক্সের স্যাম্পলটাও সেরকম। " 
- আমি মরতে চাইনা, আমি তোমার সাথে বাঁচতে চাই। কত স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমাদের একটা বাংলো থাকবে। আমাদের ছেলে হবে। সে নাসার সাইন্টিস্ট হবে।
 - নাসা না ইসরো। 
- সেই দেশী সেন্টি। 
- আর ছেলে না মেয়ে।
 - যেই হোক, আমি বাঁচতে চাই, আমাদের কত প্ল্যান ছিল বিয়ের পর।
 - কে তুমি ? 
- মানে?
 - Time kills us everyone .. what is reality ? Who are you ? I just don't exist in some dimensions in this multiverse .. I am a prisoner of this time loop .. Every loop leads to different possibilities , probabilities.. One after another time loops .. repeating the same incident but different ways and results .. What is death ? It's just projection into another dimension leaving our physical body .. along a time loop .. Honey, when I met you i felt deja-vu .. as if it occurred earlier .. so even if we die we will meet again in different form, in different time loop, ডিফারেন্ট ডাইমেনসান with different probabilities and results .. আমাদের তখন ছেলে বা মেয়ে হবে। আমরা যদি এক না হতে পারি, তার মানে আমাদের ভালোবাসা মিথ্যে নয়, হয়তো এটা সেই আমাদের ডাইমেনসান নয় বা টাইম লুপের সেই ব্রাঞ্চ টা নয়। 
- তোর মাথা আর তারকাটা নেই, আর খাস না গাঁজা, পুরো ওয়াই-ফাই হয়ে গেছিস। 
- ওয়াইফের সামনে ওয়াই-ফাই হয়েছি। অসুবিধে কোথায়।
 -আচ্ছা আমি এখুনি ভাবছিলাম, আমাদের তো এতক্ষণে কিছু না কিছু উপসর্গ দেখা যাওয়ার কথা, কিছুই সেরকম হচ্ছেনা কেন? 
- এসব বাদ দে, মৃত্যুর সামনে অনেক কবিতা মাথায় আসছে শোন । 
খোলা চ্যাটবক্সে শব্দের ভীড়, 
লেখা হয় খুব দ্রুত, 
আবেগে মন্ত্রপুত, 
জানি শেষে সব মুছে দেবো,
 তোমার কাছে তো সবই অর্থহীন। 
তবু বারবার লিখি, অদৃশ্য কান্নায় রংগীন।

- ধুস এটা ঠিক রোমান্টিক হলনা। 
- আচ্ছা, এটা শোন। 
বহুদিন কাব্য আসেনা, 
শুষ্ক পাহাড় পাড়ি দিতে দিন ফুরায়, 
বিক্ষিপ্ত মন মুক্তিপণ খোঁজে, 
তবু কাব্য আসেনা। 
তারপর একদিন কালো মেঘে, বৃষ্টিপাত।
 তুমি ঝোড়ো হাওয়া হয়ে এলে। 
জানালায় ছিলো দারুণ আঘাত, 
তবুও শিহরণ প্রতিটা সেলে।
 খিদে পেটে রোদে রোদে সারাটা দিন, 
যখন টাকা নিজের দাম বোঝায়, 
রাতে ঘরে ফিরে আসার ডাক দেয়,
 তোমার লিখিত খোঁজ-খবর। 
নিখোঁজ প্রেম দানা বাঁধে, 
যখন নিজের ভুলে যাওয়া কথা, 
তোমার দেওয়ালে কাঁদে। 
অবিশ্বাসী নাস্তিকও তখন ধূপ জ্বালায়, 
ভালোবাসার ফাঁদে। 
তবুও নীরবে গোপন, 
অস্ফুট স্ফুরিত আশা, 
তোমার মুখে রোজ তবু শুনি, ভালোবাসা, ভালোবাসা। 

রোশনি !!! 

- কি হল ? 

- জাস্ট একটু আগে কি বললি ? 
- আমি মরতে চাইনা ? 
- না তার পরে। 
- আমাদের কিছুই হচ্ছে না কেন এখনো। 
- হ্যাঁ। হোয়াট আ ফুল উই আর। দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছি আর ঘরের পাশে ধানের উপর শিশির বিন্দু খুঁজে পাইনি।
- মানে? 
- হানি, এই প্রোজেক্টে কজন মারা গেছে ইনফেকশনে আর কজন মারা যায়নি তাদের ডিটেল কেস হিস্ট্রি চাই। এক্ষুনি। দ্যা ফ্যাক্টর উই আর সার্চিং ইজ ইন আওয়ার বডি, হানি। 
- হোয়াট্ !!!?

***** 
পরের দিন
 স্থান -রাশিয়ার আর্মি বেস ক্যাম্প

- আই আম গ্ল্যাড আন্ড সারপ্রাইজড্ টু সি বোথ অফ ইউ আলাইভ। এনি প্রোগ্রেস ড. রে?
 - হ্যাঁ।
 - কি বলছেন? বারো দিনে !! 
- আমি নই, আপনার বিজ্ঞানী রোশনি না থাকলে এটা সম্ভব ছিল না। আর আমি শুধু পথ দেখাবো আর সেই পথের পক্ষে প্রমাণ দেবো। এর পর আপনাদের দায়িত্ব। তবে একটাই শর্তে, যদি বেঁচে থাকি আমাদের মুক্তি চাই। 
- আই মে বি আ ভিলেন টু ইউ। কিন্তু আমি একজন হনেস্ট ভিলেন। বৃহত্তর স্বার্থে আপনাদের সাথে এরকম করতে হয়েছে। প্লিজ টেল মি স্যার, আবাউট দা ওয়ে। 
- দেখুন যারা এই প্রোজেক্টে মারা গেছে স্মল পক্স ইনফেকশনে তাদের প্রত্যেকের কেস হিস্ট্রি আমরা দেখেছি। ওদের মধ্যে অনেক কমন ফ্যাক্টরের মধ্যে একটা কমন ফ্যাক্টর হল, ওরা সবাই এমন দেশে বড় হয়েছে, যেখানে টিউবারকিউলোসিস এনডেমিক নয়। ফলে ওদের শরীর কখনো এক্সপোজড্ হয়নি টিবি তে। ওদের শরীরে কোন প্রাইমারি কম্পলেক্স নেই টিবি ইনফেকশনের। 
- সো হোয়াট?
 - কিন্তু এবার আমরা তাদের কেস হিস্ট্রি দেখেছি যারা স্মল পক্সের ওই স্যাম্পেলে ইনফেকটেড হয়েছে কিন্তু তারা মারা যায়নি। বরং যেখানে স্মল পক্সের কেরিয়ার হয়না। ওরা সেই ক্যারিয়ার স্টেট এ চলে গেছে। ওদের মধ্যে কমন হল ওরা এমন দেশে বড় হয়েছে যেখানে টিবি এন্ডেমিক। ওদের প্রত্যেকের ফুসফুসে ঘন্ ফোকাস রয়েছে। 
- হোয়াট ইজ দিস রাবিশ্। হোয়ার ইজ দ্যা ওয়ে ?? 
- প্লিজ লেট মি ফিনিশ। এখান থেকে একটা হাইপোথসিস ড্র করা যায় যে, স্মল পক্স ওদের শরীরে গিয়ে আন্টিবডি আর ইমিউন সেল থেকে বাঁচতে এমন একটা জায়গা খোঁজে যেখানে সে নিরাপদ। আর ভুল করে তারা ওই ঘন্স ফোকাস কেই ভেবে ফেলে সেই নিরাপদ জায়গা। এই মিউটেটেড স্মল পক্সের একটা ফিচার হল সে নিউরামিনিডেজ, হায়ালিউরুনোডেজ এইসব এন্জাইম বের করে।ঘনস্ ফোকাসের স্পেসিফিক কোন একটা ফ্যাক্টরের পিছু নিয়ে স্মল পক্স ওই এনজাইমের সাহায্যে ফোকাসে ঢোকে, ওখানে বাসা বাঁধতে শুরু করে, কিন্তু ওই ফোকাসে এমন এমন কোন ফ্যাক্টর থাকে যেটা ওদের আর ওখান থেকে বেরোতে দেয়না। তাই ওই ভাইরাস আর ব্লাড স্ট্রিমে না গিয়ে ওখানেই বাসা বাঁধে। মাঝে মাঝে কিছু ভাইরাস কে আর ফোকাস আটকে রাখতে পারেনা। তখন সেই হিউমান বিইং টেম্পোরারি কেরিয়ার হয়ে যায়। তাই উপসর্গ আসে, কিন্তু মরেনা। 
- কিন্তু এটা তেও এই স্মল পক্স কে আটকানোর উপায় পেলাম না। 
- এখনো আমি তো শেষ করিনি। যাদের আগে আক্টিভ ইনফেকশন অফ টিবি হয়েছে, তাদের শরীরে যে প্রচুর আন্টিবডি তৈরি করার মেমোরি সেল তৈরি হয় সেটাই এই মিউটেটেড স্মল পক্স কে টিবি ব্যাসিলিতে থাকা কোন একটা কমন ফ্যাক্টর এর জন্য টিবি ব্যাসিলি চিনে বসে আর মেরে ফেলে। 
- হোয়াট আ বুলশিট স্টোরি। ক্যান ইউ প্রুভ ইট্ ? 
- ইয়া। প্রমাণ আপনার সামনেই দুজন দাঁড়িয়ে। আমাদের দুজনের শরীরে স্মল পক্সের জন্য একটা ফোস্কাও বেরোয়নি। আর আমাদের দুজনেই ইন্ডিয়ান। যে দেশ টিবির খনি। আমাদের দুজনেরই সৌভাগ্যজনক ভাবে টিবি হয়েছে আগে। 
- ওহ মাই গড, ইউ আর আ জিনিয়াস। ইউ বোথ আর ফ্রি টু গো। গো মেক ইউর লাইফ। 

****

দু মাস পর স্থান - ভারতের একটি গ্রাম

ফোনটা রেখে সৌমিত্রর দিকে ফিরে তাকালো রোশনি। 
- "কি হয়েছে? " সৌমিত্র জিজ্ঞেস করলো। 

- আমাদের থিওরি বেস করে এক্সপেরিমেন্ট সফল। They injected in a Guinea pig BCG vaccine followed by that virus sample . Then they extracted that confused non-specific antibody . ইউ সি স্মল পক্স ফাউন্ড ইটস্ ওয়ে। আওয়ার ইমিউন্ সিস্টেম অলসো হ্যাভ ফাউন্ড দা ওয়ে।

- কিন্তু লাভ, আমাদের কি হবে? 
- মানে? 
- উড্ ইউ লাইক টু বি মাই ভ্যাক্সিন, ম্যাডাম্ ? ফরেভার। 
- ইউ আর জাস্ট..... হা হা হা। বদমাশ ভাইরাস কোথাকার। 
- ভাইরাস তাও ভালো ভাই বলিস নি!! 
- হা হা হা।



[ Written On - 28 th July, 2017]
[Special Thanks to - Dr Swaraj Mandal] 

Wednesday, June 20, 2018

বয়সন্ধিকালের লেখার একটি সংকলন


**"তবু বারবার তোকে ডাক দিই, একি উপহার, নাকি শাস্তি??"***

-বাবা কিছু দিয়ে যাবি বাবা??
 অন্যদিন হলে হয়ত পাশ কাটিয়ে চলে যেতাম। কিন্তু আজ যাচ্ছি প্রথম ডেটিং এ। ছোটবেলায় স্কুলে পরীক্ষা দিতে গেলে যেমন পথে কোন খারাপ কিছু ঘটতে দিতামনা, কলেজে প্রথম ডেটিং সেরকম। দিলাম ৫ টাকা। বুড়ি খেয়ে খুশী হোক।আমায় পুণ্য দিক।আজ যার সাথে ডেটিং এই মেয়েটি খুব ভাল।আগের বান্দরীটার মত  না। এখন নতুন একটা ছাগলের সাথে ঘুরছে। আমাকেও দেখ। বসে নেই রে।আমি আজ খুব খুশি। মাঝের কয়েকদিন দেবদাস না হয়ে আরো তাড়াতাড়ি যদি একে পেতাম তাহলে মাঝের কটা দিন শুধু শুধু  ওইভাবে... দাদারা ঠিকই বলত আরেকটা প্রেম করতে।থাক আজকের শুধু শুধু ওর কথা ভাববো না।হ্যাঁ ওইতো দাঁড়িয়ে আছে।
 -কেমন আছো?
      জানতে চাইলাম।
 -একি হাত ধরলে যে
 -ও আসলে উত্তেজনায় সামলাতে পারিনি।চল আমরা হেঁটে কলেজ স্ট্রীট যাই।
 -হেঁটে!!!  ট্যাক্সি কি দোষ করল??
 ট্যাক্সি এল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ও এলিয়ে পড়ল আমার গায়ে। ওই পেঁচীটা এরকম ছিলনা। ও অন্য। অন্যরকম ছিল।একসাথে হেঁটে যেতে খুব পছন্দ করত।বলত হাঁটলে পায়ের সাথে সাথে মনও চলতে লাগে। প্রথম যেদিন দেখা করতে গেছিলাম আমার হাত ধরে বলেছিল - প্রেম করলে এভাবে হাত ধরতে হয়।নাহলে নাকি হাতের লেখা মেলেনা। হ্যাঁ ঠিক এখানেই তো ফুচকা খেয়েছিলাম। আমার মাথায় গাঁট্টা মেরে জীবনানন্দের কবিতা বুঝিয়েছিল। এইতো এই দোকানটা থেকে ওর প্রজেক্ট এর জিনিস কিনেছিলাম।আর কখনো ও ফিরবেনা। এক মিনিট, আমি কার সাথে হাঁটছি!!????
 -কি হল, দাঁড়িয়ে গেলে যে???
 -সরি, আমি দুকখিত ম্যাডাম, আমি এটা পারবনা। পারবনা।আমি এখনো তাকে ভালোবাসি।




***NO Title ***

সকাল থেকেই শরীরটা ক্যাঁচরা মেরে আছে। সর্দি, মাথাযন্ত্রণা সংগে হ্যাঁচ্চো।দুপুরে বাড়িতে রুগীর পথ্য খেয়ে খিদে আরো বেড়ে গেল।একটু পরে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে ঝালমুড়ি আর আলুকাবলি খেয়ে এলাম।তাও খিদে মিটলনা।মা বলল- পেটে কি হাঙ্গর ঢুকেছে নাকী?? রেগে বাড়ী থেকে বেরিয়ে গেলাম ট্রেনে চেপে কাকার বাড়ির দিকে।উদ্দেশ্য আসলে কাকার বাড়ি নয়।ট্রেনে যেতে যেতে প্রচুর সস্তা খাদ্য পাওয়া যায়। মার সঙ্গে রাগারাগি করাটা ঠিক হয়নি।সত্যি যদি আমি একটা হাঙ্গর মাছ গিলতে পারতাম আমার এতদিনে গিনেস এ নাম উঠতনা?? কি সব যুক্তিহীন কথা।আমিও কেমন ছেলে।বাপ, তুই অসুস্থ, বিছানায় শুয়ে থাক।কেউ ডাকলে চোখ আধবোজা করে, মুখে একটা মৃত্যু মৃত্যু ভাব এনে তাকাতে হয়। লোকে অসুস্থ শরীরে ল্যাদ খায়। আর আমি নিমকি, ছোলার যতরকম আইটেম হয়- সিদ্ধ, ভাজা, কাঁচা, চানা, কাঠিগজা, বকুলের খাজা, বরফি, দিলখুশ, শনপাপড়ি, এমনকি ফটাশ জল যা উঠছে খেয়েই চলেছি।এদিকে নেমে ছানার জিলিপি, রাজভোগ, কিটক্যাট, পেয়ারা, কাকার বাড়িতে ঢুকে শেষ হল কোল্ডড্রিংক্স দিয়ে।এখুনি মুখ দিয়ে একটা ঢেকুর উঠল।এরপর কি??
 হুম, মনে হয় এবার একটা রুম ফ্রেশনার লাগবে।



***"মেজাজটাই তো আসল রাজা"**

দৃশ্য ১ - শিবুই নদী। কিন্তু সাত কিমি দূরে। নদীর নামটা শুনেই ধস খেয়ে গেলাম।খেয়েদেয়েই বেরিয়ে গেলাম আমি আর দেবারুণ সাইকেল নিয়ে।পথে পড়ল মহাশ্মশান। সেখানে বিশ্রাম নিতে নিতে ভাবলাম। দূর শালা। এত হাওয়া।জামাটা গায়েই রাখবনা।দুজনেই সহমত হলাম।খালি গায়ে পাড়ি দিলাম।
 দৃশ্য ২- মাথায় কালো মেঘ।চারিদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে।বাসে সিটও আছে।তবু বাসের ছাদেই যাব।এই বাসের ছাদটা গড়পড়তা বাসের তুলনায় কিছু উঁচু ছিল। চোখের সামনেই গাছের ডালে কিছু খড় ঝুলে থাকতে দেখছিলাম আর একটু অসাবধানতায় যে আমাদেরও ওই হাল হঁতেই পারে সেটা বেশ বুঝছিলাম। বাসে ধরার রেলিংটা ভরসা দিচ্ছিলনা। এত জোরে হাওয়া দিচ্ছিল যে নিজের কথাই শোনা যাচ্ছিলনা। চোখে আমদানী হচ্ছিল বিদেশী বস্তু (foreign body)। সামনের গাছের ডালগুলো এত আক্রমণাত্মক হয়ে আসছিল যে মোবাইল গেম টেম্পল রাণের কথা মনে পড়ছিল।দেবারুণকে বল্লাম আজ আর বেঁচে ফিরব বলে মনে হচ্ছেনা।ও বলল-আমি আর কোথাও যাবনা।আমায় এখানেই খেতে দে।বিছানা পেতে দে ঘুমাই।এই বলে কলা খেতে লাগল।
 দৃশ্য ৩- আর একটা দৃশ্য বুকে আছে।একটা খালের জল টলটল করছে।সেখানে নগ্ন চাঁদের আলো একটা শব্দব্রহ্মর সৃষ্টি করছে। আর আমি জলে ছিপ ফেলছি।
 কি মনে করছেন আমি ক্ষ্যাপা*দা ???? 
 হ্যাঁ। ঠিক তাই। এমতাবস্থায় নিজেকে হঠাৎ খুব করে জীবিত মনে হচ্ছে।


***A Tribute to Gurudev***

সে ছিল বা নেই - সেটা পরের  কথা, /
আসল কথা আমি ছিলাম, আছি, থাকব।/
সে কোথায় জানতে চাইনা,/
আসল কথা জীবনকে ভালোবাসব।/
স্রোত চলে স্রোতের মত,/
গাছের ডালে ফুল আসে, ঝরে যায়।/
কোন নকল প্রেমে ধরা পড়ে আবার আমি হাসব।/
সন্ধ্যেবেলা কাজের শেষে,/
আঁধার যখন তোমার বেশে,/
করতে চাইবে আমায় আলিঙ্গন। /
আবার আমি কাজের দেশে,/
ছুটে যাব অক্লেশে-/
ব্যস্ততার ছলছুতোয় ধরণীতে ভাসব।/
আবার আমি গান গেয়ে, আবার আমি হাসব।/
তোমার বাণী স্মৃতি হয়ে আসবে যখন ভেসে,/
বিশ্বপ্রেমের জালটি ফেলে দু'কান খোলা রাখব।/
চোখের জলে দেখবে তুমি আবার আমি হাসব ।।



***কবি বচন***
তুমি সুন্দর, আমি সজীব /
তুমি বদ্ধ , আমি মুক্ত /
তোমার ব্যারিকেড এ আমি চুম্বন এঁকে যাই।/
তুমি সফল, আমি শিল্পী /
তুমি নিয়ম, আমি দর্শন /
তোমার বাস্তব কে আমি সেলাম জানাই।
I know I have lost many things, also I am losing many things, And pretty sure I shall lose many more things,  but can never lose my principles.If you have a nice face, make smile on it. It will be good. If you have a nice brain, make hard work on it. It will be better.  If you have nice heart, use it tactfully.  It will be best.You make group by permutations & combinations to criticise those who don't belong to that group. If you call it society, sorry , my dear better I stay away from being social.What an idiot human being is. Searching for a life partner in half of its life & regret in another half for that partner.Two types of happy idiots are there.  1. Would be husband 2. Would be doctorDaktar der future life niye kokhono chinta thakena...Karon Seta exist i korena20 year to 22 year- Well your name is still same, but You are different. 22 year gives reply with a smile - meet with 18 year, he will complain the same thing to you.Shortest Love Story: Oh, how beautiful you are!!! Oh, sorry I didn't notice that red signal on your forehead. Bye.I opened once a female dictionary where I found in the place of 'Love' , it was written- See 'Money','Settlement', 'Option'Ultimate settlement is death....It seems to be ridiculous though, I feel civilization leads to death of humanityThe word LOVE you're saying about is just a dependence. This is not the truth. THE TRUTH is in freedom. Sorry, but I can't find freedom in that love. For me Love is a freedom. It's like, you love rain. But you never gonna bother about who else is drenched in that rain.Where no girls, no words, no thoughts, no loss. No demand, no car, no friends, no war. No debate, no love.  Into that truth let me dream..Wound is good. Didn't you ever see light to take its entry through the wound into a dark room ??? I can feel now wound is better.Isn't it surprising , when we see a beautiful lady, consciousness of all of us compelling to see the same lady ???Theme song for a medico - Ajeeb dastan hai ye, Kaha suru kaha khatam Its good to see hardcore Gangulians are resurrected after the birth of Atletico de Kolkata...Treatment of choice of sleep onset insomnia = internship


**তুমি-ই সে**

তুমি বিপ্লবী /
হয় চেতনায়, নয় স্বপ্নে, /
প্রতিবাদের, প্রতিরোধের নির্ভীকতার লগ্নে।/
তুমি চিনেও চেনোনি/
তুমি-ই সুভাষ,/
বন্ধ দুয়ার গুঁড়িয়ে দিয়ে,/
দেখ বিশাল আকাশ।/
ভয় কিসের? /
ভয় তো নাই তোমার প্রাণে, ডরাও কাকে তবে? /
সুপ্ত সিংহ ঘুমিয়ে আছে,/
জাগাবে তাকে কবে??


***Diamond Harbour**
পাখির ডানার মত দুচোখ মেল্লে তুমি আমার হৃদয়াকাশে, /
কি রূপে তুমি দেখালে তোমায়, /
বিনা পূরবাভাষে। /
আমার সজল  নয়ন থেকে  ঝরে  পড় পৃথিবীর 'পরে,/
বৃষ্টির শব্দে মুখরিত হোক শুকনো মাটি,/
 ভিজে মাটির ঘ্রাণ আমার প্রাণে তুলুক শিহরণ,/
 বাতাসের চুম্বন আমার শীতল প্রাণে কামনা জাগাক, /
দিক-দিগন্তে হোক আদিম প্রাণের সঞ্চারণ। /
তোমার খেতের সবুজ, আকাশের ঘন নীল, এ মৃত প্রাণে সঞ্জীবণী সুধা হোক।/
 আমিও তোমার নদীর ঢেউ হই, /
আছড়ে পড়ি সবুজ নদীর তটে।



***কবির আকুতি***
বেশ হত ভেজা চুলে হেসে,/
তুমি ঠিক আয়নায় বসে।/
বেশ হত ডাক্তারি ছেড়ে/
তুমি হতে লেন্সের মুখে।/
বেশ হত ষষ্ঠীর দিনে,/
তুমি যেন মায়ের বোধনে।/
বেশ হত ঘর বেঁধে কষে,/
সাজাতে নিজের যতনে।/
বেশ হত কলসির গায়ে,/
আলপনা ভরপেট হলে।/
বেশ হত অভিমান ভরে,/
জল দিতে কাঁচের গেলাসে।/
সব কিছু আরো ভালো হত,/
যদি তুমি একসাথে যেতে।/
সব পেয়ে যদিও তখন,/
না বেরোত গিটারেতে গান।/
ক্যানভাসে ধুলো পড়ে যেত,/
ট্রাজিক নভেল হত ম্লান।/
বনলতা হয়েছ যখন,/
এভাবেই তুমি থেকে যাও,/
ফাঁকা গলিতে আর ট্রাফিক এনোনা।

***সব চরিত্র কাল্পনিক***

To
স্নেহাশিস
From
সৃজনী
চিঠির উপরে খামে এই সম্বোধনটুকু দেখেই মাথাটা হাল্কা ঘুরে গেল স্নেহাশিসের। খামটা খুলতে বেরিয়ে এল বিয়ের কার্ড। সৃজনী বিয়ে করছে তাহলে। হাতে একটা সিগার ধরিয়ে অনেকক্ষণ অনেককিছু ভাবল সে। হঠাৎ হাতে তুলে নিল মোবাইল। হাতের রিফ্লেক্সে ডায়াল করে বসল সেই নাম্বারটা।
-হ্যালো, মানা, আমি অপু। খুব খুশি হলাম বিয়ের কার্ডটা পেয়ে। তুমি যে তোমার মত করে কাউকে পেয়েছ খুব ভালো লাগল।আমি যাব, প্রচুর রসগোল্লা খাব।
-তোমার কিছু বলার নেই??
-যা বলার আর কি দরকার আছে মানা? তুমি সুখি হও।
এতটা লিখে কলমটা খাতার পাশে রাখল অনিমেষ। পেশায় একজন লেখক সে। ট্রাজিক কবিতায় প্রাণ আনতে সে তার প্রেমিকা কে ত্যাগ করে।খুব বড় কবি হল সে। তার কবিতায় প্রাণ এল। একটু আগে আসা বিয়ের কার্ডটা থেকে এখনো পিওনের ঘামের গন্ধ যায়নি। কলমটা তুলে নিয়ে পাশের দেওয়ালে সাঁটা পোস্টারে লিখল বড় বড় করে। "সৃজনী ভালো থেকো"


***ঠিক এরকমই এক দিনে***

ঠিক  এরকমই এক দিনে, /
ছিলে তুমি আমার সনে।/
সেদিনও এভাবেই সন্ধে নেমেছিল নদীর ধারে, /
সূর্য ধোওয়া জলে নেমেছিল আকাশকুসুম, /
তোমার আমার চেতনার 'পারে। /
সেদিনও গাছের ডালে পাখি গেয়েছিল গান, /
উতাল হাওয়া তোমার মাথায় এলোমেলো, দিয়েছিল সম্মান।/
আজ তুমি নেই দেখি। /
যা ছিল সেদিন, আজও তাই, /
শুধু নতুন ভাবে দেখে যাই। /
'সবের শেষে সন্ধ্যে নামে। /
এ ধরাধামে, /
এরকমই কত যুগ, সরণ শূন্য কত দিন, /
সুখের সেদিন মিলেছে সুখের আজে কার্যবিহীন ।।


***বন্ধু**

ভেবে দেখিস দূরে সরে যাওয়া বন্ধু,/
কার দোষ ছিল, কে ক্ষমা চেয়েছিল- তাই কি ভাবার কথা?? /
ভেবে দেখিস,/
দোষ দুজনেরই,/
কেউ ভুল করেছিল,/
কেউ সেই ভুলকে দিয়েছিল প্রশ্রয়।/
ভেবে দেখিস/
ক্ষমা দুজনেই চেয়েছি কারণ-অকারণে/
কেউ মুখফুটে, কেউ হয়ত বা মুখবুজে।/
প্রশ্ন হল নীতির বিচার/
সেটা যদি এক হয়/
সময় মিলিয়ে দেবে- কিসের আবার ভয়।/
সেদিন পাশে দাঁড়ালেই তুই বন্ধু/
নাহয় নয়।।



**কে সে ?***

"ওয়েটার, আরেকটা লার্জ "
প্রতি শনিবারের মত এই শনিবারও চেনা বারটিতে এসেছেন সুজিত বাবু। গালে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি আর চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, পরনে পাজামা-পাঞ্জাবী। পেশায় একজন প্রফেসার তিনি। তিরিশ বছরের অবিবাহিত  জীবন ঠিক এই শনিবার এসেই একা একা অনুভব করে। তাই এই রাতটা মদের সংগে কেটে যায়। আর রবিবারটা হ্যাংওভারে। বাকিদিনগুলো তিনি মন দিয়ে ছাত্র পড়ান। বারটিতে এখন চলছে লাইভ মিউজিক। বড় ভালো গাইছেন ভদ্রলোক। সুজিতবাবুর ইচ্ছে করছে হাত উঠিয়ে তালি দিতে। কিন্তু বারের সেই আলো-আঁধারি পরিবেশে নেশাগ্রস্ত মাথাটা এত পরিশ্রমকে আর সায় দিচ্ছেনা।
হঠাৎ একজন ভদ্রমহিলা এসে তার সামনের চেয়ারে বসলেন।
-একি, আমার এই টেবিলটা আমার একার ভাড়া করা থাকে প্রতি শনিবার, আপনি-আপনি এখানে বসলেন যে??
-জানি।
-জানি!!!??
-আপনি রোজ শনিবার এখানে এসে মদ খান। একা। আমিও খাই।একা। আপনাকে রোজ দেখি। আজ আলাপ করতে ইচ্ছে হল। আপনি যদি বলেন  তো উঠে যেতে পারি।
আরেকবার মহিলাটির দিকে ভালো করে তাকালেন। দেখে তো ভদ্রমহিলা ই মনে হয়। তবে এই বার এ একা শাড়ি, ম্যাচিং ব্লাউজে পড়ে যে মদ খেতে আসে তার উপর একটা অন্যরকম সন্দেহ না করতে চাইলেও হয়। আজকাল পেপারে কত কিছু তো রোজ পাওয়া যায়!!
-কি ভাবছেন,  আমি ছেলেধরা মেয়ে কিনা??
চমকে উঠলেন সুজিতবাবু।
-নান্-না।
-অবশ্য ভাবাটাই স্বাভাবিক।
-না না। মানে আপনি কি করেন??
- আমিও আপনার মত প্রফেসর।
-আপনি?
-আপনাকে আমি আগে দেখেছি। আমার ভাইপোকে কলেজে ভর্তি করাতে গিয়ে।
-ওহ্।
-আমার ভাইপোর মুখে শুনেছি আপনি খুব যত্ন দিয়ে পড়ান। সেই আপনি রোজ শনিবার। কেন??
-আসলে খুব একা লাগে। তাই....
অনেক্ষণ চুপ দুজনেই। হঠাৎ মহিলাটি বলে উঠলেন, জানেন আমি বিধবা?
সুজিতবাবু  অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।
-বিয়ের এক বছরের মধ্যে আমার স্বামী গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান।সেই থেকে আমিও একা।
-না,আপনি চাইলে রোজ শনিবার  আমরা এখানে দেখা করতে পারি যেখানে আমাদের সমস্যাটা এক।
-স্যার,আর কিছু লাগবে স্যার???
- কে??
সুজিতবাবু পাশে চেয়ে দেখলেন ওয়েটার দাঁড়িয়ে। ঘাড়টা আবার ঘোরালেন মহিলাটির দিকে। দেখলেন সামনের কাঁচে তাঁর নিজের প্রতিবিম্বকে।


***বোকা চিঠি***

মাঝরাতে,/
অচেতন হাতে।/
লীলা জাগে।/
আমি কবি, /
বোকা চোখে ধরা পড়ে জগতের ছোটখাটো ছবি।/
ছবি আঁকে তাই দিয়ে গোপন ক্যানভাস।/
হে অনুপমা,/
এ বোকাকে বোকা করা কঠিন কাজ।।
হঠাৎ সকালে,/
ভালোবাসা আসে যদি,/
খুব করে ছুঁয়ে যাব তোমার কপালে।/
তুমি নেই,/
আমি আছি। /
আমি ভালোবাসা দিয়ে ভালোবাসি।/
তাই দিয়ে ঝলমল বেদনার সাজ।/
হে নিরুপমা, /
ভালোবাসাকে ঘৃণা করা কঠিন কাজ।।


***কাল্পনিক আলাপ***


প্রিয়তম,
তুমি দূরে বহুকাল হল ।
কতবার ভেবেছ আমায় ব্যস্ত জীবনে ।

প্রিয়তমা,
পাইনি অবসর।
শুধু, এক মনে বুনে গেছি মোদের দোসর।

প্রিয়তম,
এতদিনে হয়েছ প্রবীণ,
কাটিয়েছি কত মাস, কত বিরহের দিন,
আজ হিসেব চাইতে মন চায়।
কত চিঠি এতদিনে লিখেছ আমায়???

প্রিয়তমা,
রয়েছি নবীন।
মনে আছে প্রতিক্ষণ, প্রতিদিন-
একসাথে পেরোনো সময়।
হিসেব চেওনা এ ভিখারির কাছে।
সব চিঠি গোপনে লুকানো আছে।

প্রিয়তম,
এ মন,
তোমার সুরে চেয়েছে অনুরণন।
কথা রেখেছ কি তুমি?

প্রিয়তমা,
ভয় পাই চেতনার সংঘাত,
এখনো সময় আছে- পারনাকি?
চেতনার বহুদূরে হারাতে সময়।
যান্ত্রিক জীবনে এক চিলতে হাসি।
যেখানে কেউ নাই।
সেই শুদ্ধ আবেগের আলিংগনে,
ভালোবাসা-বাসি।।



**যখের ধন**
বাড়ির এদিকটা কেউ আসেনা। লোকে বলে এদিকে নাকি যখ থাকে, সে তার সম্পত্তি আগলায়।বহুবছর আগে একজন সাহস করে এসেছিল, সে পাগল হয়ে ফিরেছে। লোকে বলেছিল যখে ভর করেছে। ডাক্তারি ভাষায় একে সিজোফ্রেনিয়া বলে পরে জেনেছে রিজু। এত মানুষের রক্ত দেখার পর, ডেডবডি কাটার পর কাউকে আর যখের ভয় আটকে রাখতে পারেনা।তাই ছোটবেলার অপূর্ণ সখ পূরণ করতে সে বাড়ির পিছনের জংলি ঘাস, মাকড়সার জাল পেরিয়ে চলেছে। আজ এক বছর পর বাড়ি এসেছে, কোথায় তার মাংসের ঝোল খেয়ে বাড়ির আরামের বিছানায় ঘুমানোর কথা, কিন্তু সে গামছায় মুড়ি আর তেঁতুল বেঁধে এগিয়ে চলেছে রহস্য উধ্ঘাটনের নেশায় ।মিনিট দশেক হাঁটার পর ঘন জংগল শুরু হল।বৃদ্ধ শাল, বট, হিজল, অশত্থ্ব গাছেদের একটা বৃদ্ধাশ্রম যেন জংগলটা। বেশ ঘন। তবু যেন কোথা থেকে ফুরফুরে হাওয়া দিচ্ছে।বৃক্ষরা যেন রিজুকে বলল - বাবা, তুই এসেছিস ?  আমাদের সবাই ভুলে গেছে। তোর এতদিনে মনে পড়ল। আয় তোকে একটু বাতাস করি। গা টা জিরিয়ে নে।
রিজু এগোতে থাকল। আরো আধ ঘন্টা হাঁটার পর গাছের ঘনত্ব কমে গেল। একটা ছোট খাল দেখল রিজু। তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে খালপাড়ে গাছের ছায়ায় শুয়ে পড়ল। মৃদুমন্দ হাওয়ায় সে বাঁশি বাজাতে শুরু করল।চারিদিকে সবুজের ফৌজ সেই সুরে মন্ত্রমুগ্ধের মত মাথা দোলাতে লাগল। নদীতে মাছেরা জলের মধ্যে তাদের সাড় জানাচ্ছে। পাখিরা তাদের কলতানে তুলেছে অনুরণন। আর বাঁশি বেজে চলেছে।সেখানে মানুষের আর্তনাদ নেই, হিংসা নেই, টাকার লালসা নেই, ট্রাফিকের ক্যাকোফনি নেই, মুখোশধারী মানুষ নেই। আছে গানের সুর, আর আদিম বিশুদ্ধ  প্রকৃতি।আনন্দের শিহরণে রিজু ঘাসে গড়াগড়ি খেতে লাগল। এই তো তার যখের গুপ্তধন।


**ফিরে আসবই***

হঠাৎ একটা দমকা হাওয়া হুঁশ ফেরাল সৌগতর। কতক্ষণ এই স্টেশনের এই বেঞ্চে একা বসে আছে সে জানেনা। স্টেশনটার নাম কি সে জানেনা। হারিয়ে যাবে বলে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে সে। একাই বসে ছিল। হঠাৎ পাশে এক লজেন্স-বিক্রেতা এসে বসল।
" কোথায় যাবে বাবা? "
সৌগত ফিরে তাকাল। হতবাকের মত।তার কাছে এর উত্তর নেই। জীবনের সব যুদ্ধে সে হেরে এখন ছাই এর মত হাওয়া যেদিকে নিয়ে যাবে সেদিকে উড়ে চলেছে। এর উত্তর জানা নেই।
" জানো তো, এটাই আজকের শেষ ট্রেন আসছে। "
" শেষ ট্রেন কেন??  " যেন কয়েক যুগ পর তার মনে কোন প্রশ্ন জাগল।
"লাইনের কাজ চলছে। আমার আর কি?  আজ দশ টাকা কম রোজগার হবে। কাল ভোরে উঠে উসুল করে নেব। "
এরা জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত হয়না। এরা হারতে শেখেনি। এদেরকে পায়ে পিষে মেরে ফেললেও এরা ঘুরে দাঁড়াতে জানে। এদের কাউকে পাশে দরকার হয় না। কে থাকল,  না থাকল এরা খেয়াল রাখেনা। রোজ পাঁচটা-দশটার জীবন এদের। তবুও এক ফোঁটা ক্লান্তি নেই। ওরা পারে !!!! সৌগত পারেনা।।
না, পারে। সৌগত উঠে দাঁড়াল। ট্রেন প্লাটফর্মে এসে দাঁড়াল। সে পা সামনের দিকে বাড়িয়ে দিল।।


***প্রবন্ধ -১**


কেউ এই পৃথিবীতে কোন আফসোস রেখে যেতে চায়না। কিন্তু সত্যি কি তাই হয় ? পাশ্চাত্য দর্শন বলে - জীবন একটা কমলালেবুর মত, যতদিন বাঁচো সেই লেবুর রস নিংড়ে নাও। 
তবু কি আফসোস থাকবেনা ? জীবনকে দুভাবে উপভোগ করা যেতে পারে -
১) বহির্মুখী জীবন - সে চাইবে অনেক বেশি সম্পর্ক স্থাপন করতে, অনেক বেশি খ্যাতি, যশ, টাকা-পয়সা।  এর বিনিময়ে সে প্রতিদিন সুখ-দু:খকে উপভোগ করবে। এরা শুধু বর্তমানকে নিয়ে চলে।
২) অন্তর্মুখী জীবন - সে চাইবে তিন কালকে মাথার মধ্যে রেখে সৃষ্টি করতে। সে যখন সৃষ্টি করবে তার কাছে গোটা পৃথিবী তার ঘরের অন্ধকার কোণে এসে স্থান নেবে। তার কাছে তার সৃষ্টিই সব। সে সেই সৃষ্টিকে অমর করে রেখে যেতে চাইবে। এটাই তার সুখ-দুখের মাপকাঠি হবে।

আমরা প্রত্যেকে এই দুই জীবন মিশিয়ে চলি। একজন রিকশাচালককেও আমি আনমনে গুনগুন সুরে গান করতে শুনেছি। একজন বড় মাপের অভিনেতাকেও তার প্রথম প্রেম নিয়ে হা-হুতাশ করতে শুনেছি। কার আফসোস নেই ? অন্তর্মুখী জীবন গবেষক-শিল্পীর জীবন - তাও ভাল, সে পৃথিবীকে নতুন কিছু দিয়ে যায়। বহির্মুখী জীবন ছাড়া আবার মানবসমাজ ধ্বংস হতে বসে। দুটোই একে অপরের পরিপূরক।
আফসোস ছাড়া একমাত্র মুনি-ঋষিরাই দেহ রাখতে পেরেছেন। তারা পিৎজা না খাওয়া, নতুন কোন মুক্তি পাওয়া সিনেমা না দেখা, কোন নারীকে জীবনে নিজের করে না পাওয়া, কোন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ার আফসোস করেন না। ভাবতেও অবাক লাগে, খালি গায়ে ছাই মেখে বছরভর নিজের ভাগ্যকে কোন এক অজানা মহাশক্তির উদ্দেশ্যে সঁপে দিয়ে তারা প্রার্থনা করে চলেছেন একমনে। এদের কাছে কমলালেবুও যা, তার বিচিও তাই। এখানেই প্রাচ্য দর্শনের সার্থকতা। 


***উত্তরণ***
হেডফোনটা কানে গুঁজে নিল অনিকেত। আজ গড়িয়ার একটা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পি.জি.এন্ট্রান্স পরীক্ষা আছে তার। সারা বছর সে বইতে মুখ গুঁজে ছিল। এখানে গেটের সামনে পাংশুটে মুখগুলো দেখে মুখ শুকিয়ে গেল তার। এখন নিজেকে আয়নায় দেখলে হয়তো ওই মুখগুলোর মতই লাগবে। না আর শ্রেয়া ঘোষালের গানে চলবেনা। কানে তুলে নিল আধুনিক বিট-জর্জরিত গান। এই গানগুলো শুনলে নিজের হার্টবিট মনে থাকেনা, ওটা যেন কানে উঠে আসে। শুরু হল "চার বোতল ভদকা "। হঠাৎ...
সুস্মিতা না??  একসময়ের প্রেমিকের দিকে তাকিয়েই চোখটা নামিয়ে নিল মেয়েটি । ওর ও কি এখানে সিট!!!???  হে ভগবান!!! 
"স্যার,  আপনার ব্যাগটা এখানে রাখবেন। এই নিন আপনার টোকেন। "
কত স্মৃতি, কত কথা, কত একসাথে ঘোরা,  কত আবেগ, হাসি,আদর সব কোন এক মাতাল ব্ল্যাকহোলের অতলে তলিয়ে যাওয়া নীহারিকার কেন্দ্রবিন্দু থেকে তার মাথায় প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
"স্যার, এটা আপনার সিট। "
চেয়ার টেনে বসল সে। তিন বছর পর। সম্পর্কটার সাথে অনিকেতকেও মেরে দিয়ে গেছিল মিতা। উফ্,  আজকেই এটা হতে হল। কেন?
কত গুরুত্বপূর্ণ আজকের পরীক্ষাটা তার কাছে । আজকেই হতে হল?? 
" কেমন আছো অনি??? "
চমকে উঠল অনিকেত।
" এ...একি তুই, আমার পাশে!!  "
" এদিকে তাকিয়ো না। মনিটারে তাকিয়ে কথা বল।"
"আমি কেমন আবার?  তুই নিশ্চয়ই ভালো...  মিতা,  সেদিন আমি... "
"আপনি নিজের মনে মনে কথা বলুন,  এভাবে বিড়বিড় করবেন না,  বাকিদের ডিস্টার্ব হতে পারে।" পরিদর্শক বলে উঠলেন।
" সরি, এক্সট্রিমলি সরি। "
সময়টা এরপর খুব তাড়াতাড়ি কেটে গেল। ওরা পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে এখন রাস্তা দিয়ে হাঁটা শুরু করেছে। দূরের রাস্তাকে অন্ধকারে কুয়াশা চুম্বন করছে।
"আজ পরীক্ষাটা ভালো হলনা। মিতা আমি বোধহয় এবারও..."
"থাক্"
অনিকেতের বাম হাতটা আঁকড়ে ধরল সুস্মিতা আর কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠল " আমি মরে যাইনি "



Sunday, July 30, 2017

অমীমাংসিত

আজ থেকে অনেক বছর আগে মুঘল সাম্রাজ্যের সময়ের কথা। বাইরে থেকে আগত মুসলিমরা যেসব হিন্দুদের ঘর থেকে উত্খাত করে, তারা এসে হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় এসে স্থান নেয়। কেউ যুদ্ধকলা শেখে শুধু আত্মরক্ষার্থে আর বুদ্ধিস্ট মঠে স্থান নেয়। কেউ শিবের আরাধণা করে অস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠে। এরকমই একটি দলের কথা আজ বলবো। হিমালয়ের কোলে এক দুর্গম এলাকায় এদের ঘাঁটি। প্রতি মাসে এরা তরবারি নিয়ে মুসলিম নিধন যজ্ঞে বেরোয়। একদিনে যে যত মুসলিম মারতে পারবে সে তত উঁচু পদ পাবে। এদের দলের সর্দারের নাম মহাদেব। সবাইকে তরবারি চালনা আর যুদ্ধবিদ্যা শেখায়। মহাদেবের ভক্ত। তাই নাম ও একই। এর প্রধান শিষ্য হল শম্ভু। জন্ম দেবীপক্ষে। তাই নিজেকে মহাদেবের অংশ বলে কল্পনা করে বিশেষ সন্তোষ লাভ করে। তরবারি বিদ্যা বা যুদ্ধবিদ্যায় এর সামনে কেউ দাঁড়াতে পারবেনা। একাই কুড়িজনকে নিমেষে শেষ করার ক্ষমতা রাখে। ছোটবেলায় ওর বাবা-মা কে কোন মুসলিম মেরেছে তাই ওর জীবনের লক্ষ্য মুসলিমদের পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করা। চোখের জল তো দূরের কথা, একজন যুবকের মুখে যেটুকু অনুভূতি থাকার কথা সেটা এর মুখে নেই। একদম ভাবলেশহীন।
আজ সেই দিন। রাত হতেই আবার বেরোল তারা তরবারি নিয়ে। সামনে একটা মুসলিম বসতি দেখে তারা একটু দূরে ঘোড়াকে গাছে বাঁধল। সবাই গাছের তলায় বসে গঞ্জিকা সেবন করলো। তারপর 'হর হর মহাদেব' বলে ঝাঁপিয়ে পড়ল ওই বসতিতে। শম্ভু একের পর একজনের মুণ্ডছেদ করার পর হঠাৎ একটি বাড়ির ভেতরে এসে থমকে গেল। একটা আওয়াজ শুনে। সে এগিয়ে গেল আওয়াজ লক্ষ্য করে। একজন মুসলিম তার দিকে তরবারি নিয়ে এগিয়ে এল। তাকেও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল শম্ভু। মুখে বলল - ওম্ নম: শিবায়।
আর একই সংগে আবার সেই আওয়াজ। ঠিক ওম্ নয়। 'ওঁয়া'। এরকম আওয়াজ আগে কখনো শোনেনি সে। একটা আওয়াজেই সে পরিচিত। মর্মবিদারী প্রাণনাশি 'আ আ আ'।
আবার হল ওঁয়া।
এগিয়ে এসে থমকে গেল। একটি শিশু কাঁদছে। তাকে দেখেই কান্না থেমে গেল।
শম্ভু বললো -ওম্ বল্। নাহলে আমার তরবারি তোর গলা কাটবে।
শিশুটি খিলখিল করে হেসে উঠলো। শম্ভুর তরবারিটি তখনো রক্ত মাখা। লাল রং এর দিকে আকর্ষিত হয়ে শিশুটি হাত বাড়ালো। যথারীতি তরবারির ধারে শিশুটির হাত কেটে গেল। আবার কান্না শুরু করলো। শম্ভুর হঠাৎ কি মনে হল। শিশুটিকে কোলে নিয়ে তার আংগুলটা নিজের মুখে চেপে ধরলো রক্ত বন্ধ করার জন্য। তারপর তাকে কোলে নিয়ে ছুটে বেরিয়ে গেল। সে আগে কখনো শিশুর কান্না শোনেনি। তাকে ছোট থেকে একটি আওয়াজের সাথেই পরিচিত করা হয়েছে। তাই সে বুঝলো এ মুসলমান বসতিতে থাকলেও ওম্ বলে। এ ভালো। একে মারতে পারবেনা সে। কিন্তু একে নিয়ে ফিরে গেলে ওরা মেরে দেবে। তাই বাচ্চাটাকে নিয়ে ঘোড়াতে চেপে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিরুদ্দেশের পথে রওনা দিল। অনেক পথ ঘুরে সে একটি পাহাড়ের কোলে কুটিরের সন্ধান পেলো। ঘোড়াটা গাছে বেঁধে সে কুটিরে কিছু খাবারের আশায় গেলো। দরজার বাইরে ডাকাডাকি করতে একটি মেয়ে বেরিয়ে এল। মেয়েটি অসাধারণ দেখতে। কিন্তু জীবন সংগ্রামের ছাপ আষাড়ের মেঘের মত তার মুখের লাবণ্যকে ঢেকে রেখেছে। অন্য কোন যুবক হলে ওর দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারতো না। কিন্তু শম্ভু এভাবে ভাবতে শেখেনি। তার একটা হাত সবসময় তরবারির খাপে থাকে। আর ইন্দ্রিয়গুলো ভালো লাগার অনুভূতি ভুলে শত্রুর জন্য সদা সজাগ থাকে। এরকম অবস্থায় সে বুঝতে পারলো তাকে পেছন থেকে কোন দুর্বল কাঠের চেলা নিয়ে কেউ পিঠে আঘাত করতে আসছে। কিন্তু সে কোন আপত্তি করলোনা। মার খেয়ে প্রচুর লেগেছে এরকম ভাব দেখিয়ে সে মাটিতে বসে পড়লো। তার কোলে বাচ্চা দেখিয়ে হাঁ হাঁ করে উঠলো মেয়েটি।
' আরে দাদা কি করছো, দেখছো কোন ভালো মানুষ, কোলে বাচ্চা।'
পেছন থেকে আক্রমণকারী দাদা বললো -" ভালোমানুষ! ওই দেখ তরবারি। হাতে রক্ত। "
শম্ভু বলে উঠলো - 'দেখুন আমি একজন শ্রমিক। আমার পরিবারকে মেরে দিয়েছে ওরা। এ আমার ছেলে। আমাদের আশ্রয় দিন।'
তারপর থেকে শম্ভু ওদের বাড়ির পাশে একটা ছোট কুটির বানিয়ে থাকে। শম্ভু আর মেয়েটির দাদা মিলে পাহাড়ের কোলে চাষ করে আর সন্ধ্যে হলে তিনজন গল্প করে। বাচ্চাটির বয়স এখন এক বছর বেড়ে গেছে। শম্ভু এদের কাছে এসে জানলো রক্তপাত আর যুদ্ধ ছাড়াও মানুষের মধ্যে কিছু আলোচনা থাকতে পারে। সন্ধ্যেবেলা একদিন মেয়েটি এসে তাকে বললো,আমার সাথে আসুন।

বলে তাকে সামনের ঘাসের উপত্যকা পেরিয়ে একটা জায়গায় নিয়ে গেল। যেটা খাড়া নিচের দিকে নেমে গেছে। দূরে পাহাড়ে র খাঁজে চাঁদ উঠেছে। আর সেই আলো মেয়েটিকে অপরূপ সুন্দরী করে তুলেছে। শম্ভু অনুভব করলো তার হৃদয় অশান্ত হয়ে উঠেছে। সে ওখানেই ছিলাম বের করে গঞ্জিকা সেবন করতে শুরু করলো। আর মেয়েটি বকে যেতে লাগলো। কিছুক্ষণ পরে সে অনুভব করলো সে মেয়েটির কথা খুব মন দিয়ে শুনছে। কিন্তু ঠিক পরের মুহূর্তে আগে কি বললো খেয়াল করতে পারছেনা। মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইলো।
মেয়েটি তাকে বললো - ওই শুনছেন ? ওই ওই।
বলে যেতে লাগলো।
সে অনুভব করলো, ওম্, ওঁয়া আর ওই -
সব একসাথে মিশে আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছে।

শম্ভু লক্ষ্য করলো মেয়েটির গালে তার মাথার চুল এসে বাঁধা সৃষ্টি করছিল। সে তার হাত দিয়ে তার চুলটাকে সরিয়ে দিল।
মেয়েটি অবাক হল না। বাঁধাও দিলনা। বরং মেয়েটি তার হাত শম্ভুর বুকে রেখে বললো - আমারও ভেতরে একি রকম চঞ্চল।
মেয়েটি শম্ভুকে চুম্বন করলো। শম্ভু সেই সন্ধ্যেতে অনুভব করলো, একটা ঠোঁটের স্পর্শ তরবারির থেকেও ধারলো। অনেক গভীরে পৌঁছায়। আর এই শক্তি পৃথিবী জয় করার ক্ষমতা রাখে।
মেয়েটি বললো - " আমরা মুসলিম। আমি যখন খুব ছোট দাদার মুখে শুনেছি হিন্দুরা আমাদের বাড়ি থেকে উৎখাত করে। আমার হাল্কা হাল্কা মনে পড়ে। তুমি নিজের অতীত সম্পর্কে কখনো কিছু বলোনি সেভাবে। "
শম্ভু কিছু বলতে যাবে হঠাৎ কিছু অশ্বারোহী এসে সেখানে পৌঁছালো। তাদের দুজনকে ঘিরে ধরলো। শম্ভুর কাছে তরবারি নেই। দুজন অশ্বারোহী কুটিরের ভেতর থেকে মেয়েটির দাদাকে বের করে আনলো। একটি ঘোড়া থেকে মহাদেব নামলো। গম্ভীর কন্ঠে বললে -
" শম্ভু আমার সব থেকে প্রিয় শিষ্য । বহুদিন ধরে খবর পাচ্ছিলাম যে তুই কোন এক পাহাড়ের কোলে দুজন মুসলমানের সাথে আছিস। তোর মাথা কি খারাপ হয়ে গেছে। তুই জানিস বিধর্মীদের সাথে মেশা আর বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি কি "
শম্ভু হাতজোড় করে বললো - "আমি জানি। মৃত্যু। আপনার কাছে আমার কিছু বলার আছে।"
মহাদেব ঘাড় ঝাঁকিয়ে বলতে বললে।
শম্ভু বললো - আমায় ছোট থেকে কখনো শেখানো হয়নি একটা শিশুর হাসি কি। একটা শিশুর আংগুল কেটে যখন রক্ত বেরোয় তার স্বাদ নোনতা। যেরকম আমার আংগুল কাটলেও। সে ওম্ উচ্চারণ করতে পারেনা। কিন্তু ওঁয়া বলে। মন থেকে বলে। একটা শিশুর কোন ধর্ম থাকে না। আমরা তার উপর ধর্ম আরোপ করি। আমার ধর্ম হিন্দু নয়। আমার ধর্ম প্রতিশোধের নেশায় অন্ধ হয়ে মানুষ খুন করা। আমি শিখেছি ভালোবাসা কি। আমাকে মেরে ফেলা হোক। কিন্তু এদেরকে ছেড়ে দেওয়া হোক।

মেয়েটি চেঁচিয়ে উঠলো- না তুমি আমাদের ঠকিয়েছ। তুমি একজন খুনি। হিন্দু। তোমরাই আমার বাবা-মা কে মেরেছো। আমি তোমাকে ভালোবাসিনা। ঘৃণা করি।

বলে কাঁদতে লাগলো।
মহাদেব এবার ঘোড়া থেকে নেমে পা তুললো মেয়েটিকে আঘাত করার উদ্দেশ্য নিয়ে। শম্ভু এবার মহাদেব কে আটকালো। মহাদেব আর তার সাথীরা তরবারি খুলে শম্ভুকে আক্রমণ করলো। শম্ভু তরবারি ছাড়াই তাদেরকে ধরাশায়ী করলো তার নিজস্ব নৈপুণ্যে। তাদের দুজনকে বললো - "আপনারা চলে যান, ঘোড়াটা নিয়ে আর আমার বাচ্চাটির খেয়াল রাখবেন। আমার বাচ্চাটি একজন মুসলমানের। ওর বাবা-মা কে আমি মেরে ফেলেছি।আমি বেশিক্ষণ এদের আটকে রাখতে পারবোনা। যান "
বলে তাদেরকে যেতে বললো।
মেয়েটির দাদা ছুটে বাচ্চাটিকে ঘর থেকে বের করে একটি ঘোড়া নিয়ে বেরিয়ে গেল। কিন্তু মেয়েটি ঘোড়া নিয়ে ফিরে এল শম্ভুর কাছে। "আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবোনা।" মেয়েটি বললো।

শম্ভু মেয়েটির ঘোড়াতে উঠলো। কিন্তু বেশিদূর তারা যেতে পারলোনা। মহাদেবের দল তাদের আটকে ফেললো। শম্ভু কে তরবারির আঘাতে দুর্বল করলো। তারপর তাদের দুজনকে চাবুকে গলা বেঁধে শ্বাসরোধ করে মৃতপ্রায় করে তোলা হল। মহাদেবের তরবারি যখন দুজনের গলা লক্ষ্য করে আসছে। দুজনে তখন দুজনের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে। মেয়েটি শম্ভুর হাত আঁকড়ে ধরলো।

বললো - আমার কথায় আঘাত পেলে ক্ষমা কোরো আমায়।

শম্ভু বললো - আমায় মনে রেখো।

দুটো কাটা মাথা নরম ঘাসের উপর গিয়ে পড়লো। কাটা মাথা থেকে রক্ত বেরোচ্ছিল দুটোর রংই লাল। ভালবাসার রং। তাই মিশে গেলো।

**************
"কি দাদা, মন টা কি সোনাগাছিতে ? "
আরেকটু হলে পেছনের গাড়িটা গায়ে এসে পড়ছিল। দোষটা শতদ্রুর ই, তাই কথাটা হজম করে নিল। সে সত্যিই অন্যমনস্ক। আজকেই তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের কোম্পানি থেকে, অডিটে একটা প্রশ্ন করার জন্য। প্রশ্ন করলেই কেন মাদার গাছের তলা আঁধার হয়ে যায় রবীন্দ্রনাথই শুধু বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি তো ইহলোকে আর নেই। আজে বাজে ভাবতে ভাবতে একটু এগিয়ে পেছন দিকে তাকালো আবার কোন গাড়ি আসছেনা তো। সন্ধ্যে নেমে এসেছে। সেই স্ট্রিট লাইটের আলোয় সে পরিষ্কার বুঝতে পারলো পেছন দিকে তাকিয়ে কেউ তাকে পিছু করছে। সে হাঁটার গতি বাড়ালো, কিন্তু তার সাথে সেই অজানা ব্যক্তিটিও গতি বাড়ালো। আর একটু দূরেই শতদ্রুর বাড়ি। এক দৌড়ে সে চলে গেল বাড়ির গেটে। তাড়াতাড়ি গেট টা লাগিয়ে হাঁফাতে লাগলো। একটা সিগারেট প্রচন্ড রকম দরকার। জল খেয়ে পাখা টা ছেড়ে চেয়ারে শরীর টা এলিয়ে দিয়ে সিগ্রেট টা ধরালো । কে পিছু করতে পারে। তার শত্রু কে আছে ? ধুস এত টানছে ধোঁয়া আসছে না।
সিগ্রেটটা ধরেনি নাকি? ধুস্ এ তো সিগ্রেটের ফিল্টারে আগুন ধরিয়ে বসেছে সে। পুরো সিগ্রেটটাই নষ্ট তার অন্যমনস্কতার জন্য। সিগ্রেটের ভুল দিকে আগুন ধরানো অনেকটা যেন ... এক মিনিট। তাই তো, ভেবে দেখেনি। লোকটা সমকামী নয় তো ? তার পিছু নিয়েছিল হয়তো। হঠাত্ কলিংবেল টা বেজে উঠলো। দরজার ফুটো দিয়ে দেখলো সেই লোকটা। দরজার এপার থেকে চেঁচিয়ে শতদ্রু বললো - দেখুন, আমি আপনার মত নই। প্লিজ আপনি অন্য কারো পিছনে যান।
ওদিক থেকে লোকটা হেসে বললো - আরে আপনিও যা ভাবছেন আমি তা নই। আপনাকে দেখে চেনা মনে হল, কিন্তু কিছুতেই মনে পড়ছেনা তাই পিছু নিয়েছিলাম। খুলুন না মশাই।
শতদ্রু আরো ভয় পেয়ে বললো -দেখুন, এসব ট্রিক্স পুরানো হয়ে গেছে। আমি কোনভাবেই আপনাকে চিনিনা।এভাবে রাস্তায় ছেলে দেখলে উত্যক্ত করা বন্ধ করুন। আপনার বাড়িতে বাবা - ভাই নেই?
লোকটা এবার আরো জোরে হেসে বললো - বাবা, ভাই আছে। আমার স্ত্রী- পুত্র ও আছে। কথা বলবেন ফোনে? ছবি দেখবেন? প্লিজ একবার আপনি দরজাটা খুলুন। আপনি আমার খুব চেনা। কিন্তু মনে করতে পারছিনা।
দুঘন্টা পর লোকটা যখন শতদ্রুর বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গেলো তখন শতদ্রু নিজের উপরই হাসছিল। লোকটা খুব ভালো লোক, কথা বলে শতদ্রুর ও মনে হল, খুব পরিচিত কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছেনা। শতদ্রুর রাতটা হতাশায় না ঘুমানোর কথা ছিল, কিন্তু সে সেদিন সারা রাত ধরে এটাই মনে করে যেতে লাগল কোথায় এর আগে পরিচয় হয়েছে। লোকটাকে নিজের ফোন নাম্বার ও দিয়েছে।

পরেরদিন সন্ধ্যেবেলা কলিংবেল এর আওয়াজ শুনে শতদ্রু এসে দেখলো সেই লোকটাই এসেছে।
লোকটাকে দেখে আজ মনে খুব আনন্দ হল। বলেও ফেললো -
আমার এখন খুব খারাপ অবস্থা চলছে, আপনাকে দেখে মনটা খুব ভালো হয়ে গেল।
- বলছেন কি ? তাহলে আজ আমরা একটু জলপান এর ব্যবস্থা করি।
- হলে তো ভালোই হত। কিন্তু আমার টাকাকড়ি খুব কম পড়ে আছে। তাই আমি গাঁজা খাই।
- বেশ তো। আমি মদ খাওয়াচ্ছি আজ। গাঁজাও খাওয়া হবে।
শতদ্রু এক বাক্যে রাজি হয়ে গেল। দুজনের এক রাউন্ড মদ আর গাঁজা চলার পর লোকটা বললো - আচ্ছা আপনি এখনো বিয়ে করেন নি কেন ?
- বিয়ে!
বলে হাসলো শতদ্রু।
- এতে হাসির কি হল। আপনার এখন নাহলে খারাপ অবস্থা,কিন্তু সারাজীবন তো এরকম চলবেনা। একা একা কতদিন কাটাবেন।
- একা একা কেন, এই আপনার মত কেউ তো আছে যেন অনেকদিনের চেনা।
- আমি ও তো বিবাহিত। আমি কি রোজ আপনাকে সময় দিতে পারবো নাকি ?
- ছিল। আমার কয়েকটা সম্পর্ক কিন্তু একটাও বেশিদিন টেকেনি।
- কেন ?
- এরকম মনে হয় আমি কাউকে খুঁজছি। বুঝতে পারিনা কাকে ? তার সাথে যখন যার মিল খুঁজে পাই মনে হয় একেই। কিন্তু বুঝতে পারি আমি ভুল করেছি। আমার সাথে মেলেনা। ভেংগে যায়। হয় তার দিক থেকে, নাহয় আমার। তাই ভাংগার ভয়ে কারো সাথে আর এগোতে পারিনা। এখন একজনের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে। কিন্তু সেই ভয়ে এগোতে পারিনা।
- আর তার ?
- সে এগোবেনা।
- হুম্, তার ছবি দেখতে পারি।
- নিশচয়ই। এই দেখুন।
বলে মোবাইলে একটা ছবি খুলে লোকটার দিকে এগিয়ে দিল। মোবাইলটি হাতে নিতে নিতে, লোকটি বললো, তা আপনি কাকে খুঁজছেন তার কোন বৈশিষ্ট্য ? তাকে চিনবেন কি করে ?
- জানিনা। কিন্তু খুঁজছি। একটা সবুজ ঘাসের মাঠ, সেই ঘাসের আগায় শিশির জমে। সামনে পাহাড়। আর ও। এই দৃশ্যটা আমি গাঁজা খেয়ে থাকলেই চোখে ভাসে। এখনো ভাসছে। অনেক চেষ্টা করি ও কেমন দেখতে চেনার, নাম জানার। আরো একটা দৃশ্য ভাসে ওই মাঠে অন্ধকার নেমেছে। কালো ঘাসের উপর আমি আর সে হাত ধরে হাঁটু মুড়ে বসে। ঘাড় থেকে রক্ত পড়ছে। একজনের লাথি। ঘোড়ার শব্দ। উফ্ আমি আর মনে করতে পারছিনা।
- একটা বাচ্চা, একটা পাহাড়ের কোলে দুটো কুটির।
- হ্যাঁ হ্যাঁ আপনি কি করে জানলেন, আমিও দেখেছি।
- শতদ্রু বাবু আপনি অন্য জন্মে বিশ্বাস করেন ?
- হ্যাঁ করি।
- আমিও এই একই আবছা আবছা স্বপ্নের মত জায়গাটাকে দেখেছি। আমার মনে হয় আমরা অন্য জন্মে পরিচিত। নাহলে একদিনের আলাপে এতটা বিশ্বাস করে মদ খেতে বসতে পারতাম না। শুধু তাই নয় আমি এই মেয়েটিকেও চিনি।
- কিভাবে ?
- মনে করতে পারছিনা। কিন্তু আমি আমার স্বপ্নে একে দেখেছি। আমাকে দাদা, ভাইজান বলে ডাকছে। আমাকে আর এক রাউন্ড গাঁজা দেবেন ?
দুজনে আর এক ছিলিম শেষ করতেই লোকটির সব মনে পড়ে গেল। সে সব বলে দিল। তারপর কাঁদতে লাগল। শতদ্রু থ মেরে বসে রইল। একটা দীর্ঘনি:শ্বাস পড়ল তার। লোকটি বললো এই মেয়েটি আমার বোন ছিল। আমি নিশ্চিত। আপনার বাচ্চাটির কথা ভেবে আমি আর ফিরিনি। আমি ফিরলে আমার সাথে বাচ্চাটিকেও মেরে ফেলতো ওরা।
শতদ্রু বললো - আমার সব মনে পড়ে গেছে। আমি তাহলে এখন কি করবো ? আমার কথা তো ও বিশ্বাস করবেনা। এতদিন তো আমি ওর ভালো বন্ধু ই ছিলাম। কিন্তু এবার এসব মনে পড়ার পর। আর সম্ভব না বন্ধু থাকা।
- তুমি ওকে এসব কিছুই বলবেনা। ওকে শুধু তোমার মনের কথা খুলে বলো। তারপর ওর হাতে ছেড়ে দাও। চুপ করে যাও। ও যেটা ভেবে করার করবে।
- বলছেন ? কিন্তু আমি জানি ও কিছু বলবেনা।
- সব ম্যাচ তো কেউ হারে বা কেউ জেতে এরকম হয়না। কিছু ম্যাচ অমীমাংসিত থাকে। আবার পরের জীবনে রিম্যাচ হয়। যদি হওয়ার হয় ও বুঝবে। নাহলে আবার পরের জীবনে।
শতদ্রু মোবাইলটা নিল। হোয়াটস্যাপ রেকর্ডার অন করে মেয়েটিকে ভালোবাসি বলে কেঁদে ফেললো। তারপর
ফোনটা রেখে দিল। লোকটি বাড়িতে ফোন করে বললো - হ্যাঁ শোনো, আমি আজ আমার এক নতুন বন্ধুর বাড়িতে থেকে যাবো।
বাড়ি ফিরবোনা। তোমার সাথে পরে আলাপ করাবো।
তারপর জড়িয়ে ধরলো শতদ্রুকে, আগের জীবনের হারানো বন্ধুকে,
" এই জীবনেও ও তোমার জীবনে খারাপ সময়েই এসেছে। ও ফিরে আসবে আজ না হোক কাল।"

পাঁচ মিনিট

"বিষ টা খাওয়ার আগে একবার আমাকে বলতো!! " কথাটা শেষ করতে না করতেই গলা ধরে এলো কিরণ এর। হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট এর বাইরে ...