Showing posts with label Society. Show all posts
Showing posts with label Society. Show all posts

Sunday, August 23, 2026

The Dream - Not an AI content

 নিজেকে চেনা খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ - তার জন্য নিজেকে বারবার ভাঙ্গতে হয়। ঘরবাড়ি জানালা দরজা সব নতুন করে লাগাতে হয়, বারবার - যতদিন না আলো ঠিকভাবে ঠিক জায়গায় পড়ছে। হাওয়া ঠিকভাবে ঢুকে ঠিকভাবে বেরোচ্ছে। আমাকে যারা খুব ছোট থেকে চেনে, আমার কার্য-কলাপ সম্পর্কে খোঁজ রাখে, তারা অলমোস্ট সবাই আমায় পাগলই ভাবে। খামখেয়ালি পাগল। সে ভাবুক। কিন্তু আমি নিজেকে কি ভাবি? আমি কেন এমন কাজ করি বা সিদ্ধান্ত নিই যে আমায় লোকে পাগল ভাববে? ওই যে নিজেকে চেনা। গতানুগতিক জীবন, ভাবধারা এখন আমার যদি না পোষায় আমি কি করতে পারি? আমায় খুঁজতে বেরোতেই হবে - কোন রাস্তায় আমার জন্য শান্তিটি লেখা আছে। অনেক খুঁজে, এদিক ওদিক, এই রাস্তা, সেই রাস্তা ঘুরে, হাজার ধাক্কা, অসম্মান হজম করে তারপর নিজেকে একটু চিনেছি। আমার মুক্তি সাধকের জীবনে লেখা আছে। হিমালয়ের কোলে বা আল্পসের লেকের ধারে আলপনা আঁকায় আমার মুক্তি। কিছু দায়িত্ব আছে সেসব মেটানোর আগে আমি তো নিজের খোঁজে বেরোতে পারিনা। তার আগে অবদি আমায় এই সমাজে সকলের সাথে সকলের মতো অভিনয় করে মুখোশ পরে থাকতে হবে। কিছু করার নেই। দায়িত্বগুলো মিটলেই, যদি সেদিনও আমার মধ্যে একই রকম প্রাণশক্তি থাকে, একইরকম অনুসন্ধিৎসা, জিজ্ঞাসা, প্রশ্ন থাকে ; অজানাকে জানার, অচেনাকে চেনার তীব্র অভিলাষ থাকে - আমায় আর এই সমাজ সেদিন সন্তুষ্ট করতে পারবেনা। সহস্র কোটি টাকা, রাজার সিংহাসন ও আমায় সেদিন আর ধরে রাখতে পারবেনা। আমার একটা আশ্রম থাকবে পাহাড়ের ঢেউ যেখানে উপত্যকার বালুরাশিতে মেশে, যেখানে ট্র‍্যাফিকের শব্দের অভাব পূর্ণ করবে ঝর্ণার জলকণার রেজোন্যান্স। মানুষের লোভ, হিংসে, অহংকার, বস্তুবাদ যেখানে চারিদিকে বেড়া দিয়ে দাগ কেটে আটকানো থাকবে। আশ্রমের বাইরে লেখা থাকবে - "নিজের দল, ধর্ম, ইগো, জাত আর যা কিছু মানুষে মানুষে ভেদাভেদ আনে সব বাইরে রেখে আসুন"..

আমি সেই স্বপ্ন দেখি যেদিন আমার সারা জীবনের অর্জিত দর্শন আমার দেহের মৃত্যুর আগে সবার আত্মার মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারবো। আমি সেই জায়গার পথিকৃৎ হবো যেখানে গেলে মানুষ নিজেকে খুঁজতে সাহস পাবে, নিজের জিজ্ঞাসাকে আস্কারা দিতে আগে পিছু ভাবতে হবেনা। আমি সেই জায়গার জন্ম দেবো যেখানে প্রত্যেকের জিনে লেখা সৃজনশীল বরাদ্য ট্যালেন্টের অবদান সে রেখে যেতে পারবে। যেখানে আর কোন সুপ্রভাতের দমবন্ধ হয়ে আসবে না - খোলা হাওয়া তে নতুন শিক্ষার দিগন্ত হবে উন্মুক্ত। সেই দিনের স্বপ্ন নিয়ে আমি রোজ বাঁচি - এত কিছুর পরেও। আগামীদিনেও বাঁচবো - যাই হয়ে যাক। কারণ আমি আর নিজের জন্য বাঁচি না। আমি একটা স্বপ্ন, জীবন-দর্শন আঁকড়ে বাঁচি - তাই আমার নশ্বর দেহের মৃত্যু হলেও আমি অবিনশ্বর। দেহের মৃত্যু আছে, দর্শনের মৃত্যু নেই। তবুও খুব ভালো লাগবে যদি নিজের হাতে এই স্বপ্ন বা দর্শনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন থেকে নতুন পথের খোদাই অব্দি দেখে মরতে পারি। এমন একটা সভ্যতার সূচনা যদি দেখে যেতে পারি যেখানে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম, মানব প্রবৃত্তি আর প্রযুক্তি সহাবস্থান করছে, যেখানে মানুষ খুব খুশি থাকবে - সেদিন আমার জীবন সার্থক হবে। আমি সেদিন শান্তিতে চোখ বুজতে পারবো।। 

Sunday, October 5, 2025

মনের কথা- পর্ব ৫ - This is bee-zzness

 "ব্যবসা" শব্দটা শুনলেই গড়পড়তা বাঙালি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন নাক সিঁটকে ওঠেন। আচ্ছা, তাহলে দুটো সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন তোলা যাক।

পৃথিবীর সব থেকে বড় ব্যবসায়ী সংস্থার নাম কি? আর সেই কোম্পানির কর্মচারী-ই বা আনুমানিক কতজন?
না আমি Apple, Amazon, Microsoft, Wallmart এসবের কথা বলছিইনা। যার কথা বলছি তার ধারে কাছে নেই এরা। পাঠক ভাবছেন, এ এবার কার কথা বলবে রে ভাই?
আমি বলছি পৃথিবীর সব থেকে বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান - 'সমাজ' র কথা। কি পছন্দ হলো না উত্তরটা। বেশ তাহলে ব্যাখ্যা দিই। ব্যবসা মানে কি? "অর্থশাস্ত্রের পরিভাষায় ব্যবসায় এক ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ড (বিজ্ঞান) যেখানে নির্দিষ্ট সৃষ্টিশীল ও উৎপাদনীয় লক্ষ্যকে সামনে রেখে বৈধভাবে সম্পদ উপার্জন বা লাভের উদ্দেশ্যে লোকজনকে সংগঠিত করা হয় ও তাদের উৎপাদনীয় কর্মকাণ্ড রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।" ( Source - Wikipedia)
এবার? পরিষ্কার হলনা? সে কি? কোনদিন ভাবেনই নি এভাবে? আমি ভাবাচ্ছি। সেই ছোট থেকে ভাবুন। আপনার বাবা-মা- পরিবার যে তাদের লোকজনকে সংগঠিত করে তাদের উৎপাদনীয় কর্মকান্ডকে রক্ষণাবেক্ষণ করলেন, সেটা কবি কেন করলেন? এর উত্তর জানেন না আপনি? অবশ্যই বিবাহ এক সামাজিক কর্মকান্ড। ইহা বৈধ। এবং লাভের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আপনার জন্ম হয়েছে এই আশাতেই যে আপনি আপনার পরিবারের প্রয়োজনে ও বার্ধক্যে কাজে আসবেন। আপনার নিজের প্রয়োজনকে গুলি মারতে হবে সবার আগে এর জন্য। তার জন্য আপনাকে বিবাহ করতে হবে। তাহলে আপনার ব্যবসা লেগে গেলো। এই ব্যবসায়িক রিলেরেসে সূক্ষ্ম অনুভূতির জায়গা কোথায়?? আপনি একটা ব্যবসায়িক প্রোডাক্ট। হয় পরিবারে নয় সমাজে আপনাকে সামাজিক ভাবে বৈধ নিয়ম অনুযায়ী লাভ দিয়ে যেতে হবে। নাহলে খুব বিপদ। ওরা রেগে যাবে। তখন শাস্ত্রের শ্লোকের কথা উঠবে। পোয়েনজিতের "বাবা কেন চাকর" সিনেমার কথা উঠবে, কিন্তু বাবা কেন মা কে চাকর বানিয়ে রেখেছে সেই কথা উঠবে না।
উঠবে আপনি কতটা স্বার্থপর আর নীচ। কেউ দেখবেনা আপনি কিভাবে আপনার জায়গায় এসেছেন। আপনি কাজের কিছু হলেন - তো ব্যবসা আর আত্মীয়ের সংখ্যার অভাব হবেনা। নাহলে আপনার অবর্তমানে আপনাকে নিয়ে মিটিং বসবে কিভাবে আপনার মতো ছোটলোক কে পারিবারিক তথা সামাজিক ব্যবসায় কাজে লাগানো যায়। Free will, emotion এগুলো ওই দু তিনটে বইতে দাগ দেওয়া মার্কামারা রবীন্দ্রসংগীত কলার টিউন লাগালেই হবে। ছেলে হলে মাইনেটা কিন্তু মাসে এক লাখের উপরে চাই-ই চাই। নাহলে ছেলে হাঁস। এরপর চাই এক উচ্চ শিক্ষিত বুদ্ধিমতী বউমা, কিন্তু যে ঘরে এসে কাজের মাসির কাজ করবে ( ভালো ভাষায় হোম-মেকার) আর বৈধভাবে সন্তান উৎপাদন করে তার দেখভাল করবে। সোজা কথায় একটা পরিবারকে যদি সমাজের ইউনিট ভাবা হয়, সে পরিবারে work from home করবে তার বউমা। প্রথম কয়েকবারের দাম্পত্য কলহের একমাত্র সমাধান - একটা বাচ্চা তো নিতেই হবে। ব্যবসায়িক বুদ্ধি আনতে হবে তো মাথায়! বাচ্চা নেওয়ার পর বউমা, ছেলে ক্লান্ত। ঘুমানোর সময় নেই। ভালোবাসা থাকলেও কবে উড়ে গেছে। কিন্তু এবার বড় ছেলের সাথে খেলবে কে? অতএব, আরেকটা বাচ্চা নাও। সমস্যা শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ইত্যাদি হাজার হতে পারে, দুয়ারে সমাধান একটাই - কি ঘরে কবে কার্তিক আসছে? কবে হবে? কাজের জায়গাতেও একই প্রশ্ন। আরে নিজের ঘুমানোর সময় নেই তো কি? বয়স থাকতে প্রোডাক্ট না তৈরি করলে পরে কিন্তু আফশোস হবে! এই যে এত খাটছো, এত দো-তালা বাড়ির বিপুল (!) সম্পত্তি কার জন্য করছো? না,না নিজের জন্য বললে তো ঠিক এলগরিদম এ মিলছেনা।
এবার ঘরে যদি মেয়ে হয়, তখন মুখটা একটু ভার হয়ে গেলো। কিন্তু মেয়ে একটু বড় হলেই বাড়ির লোক বুঝতে পারে তার মেয়ের তথাকথিত ভাই থুড়ি বন্ধুদের লাইন। এতে লাভ তো অনেক বেশি। ফ্রি তে প্রচুর ম্যান পাওয়ার পাওয়া যাচ্ছে। এখানে সেখানে হেল্প হয়ে যাচ্ছে। কেউ ডিম এনে দিচ্ছে, কেউ মোবাইলের ব্যলান্স ভরে দিচ্ছে তো কেউ এসে ফ্রিতে বডি-ম্যাসাজ করে দিচ্ছে। কারণ ভারতীয় সিনেমা থেকে কি ব্যবসায়িক শিক্ষা পেলাম? মেয়েকে পটানোর আগে তার বাবা-মা কে পটাও। Poetry, kind heart - ব্যবসা তে এর জায়গা নেই। কবিদের জায়গা অন্ধকার ঘরে এক কোণে আর ড্রেনের জলে। এবং অবশ্যই যার সাথে বিয়ে হবে সে যেন মেয়ের থেকে বেশি আয় করে আর খুব বড় প্রতিষ্ঠিত পরিবার ( পড়ুন ব্যবসা) থাকে। এখানে যায় আসে না সে মানুষ কেমন, দুটি জীবনানন্দের কবিতা জানে কিনা। কি বোঝালাম এতক্ষণ ! This is beeezzness.
এবার এখানে একটা সামাজিক দ্বিচারিতা আছে। বউমা হলে ঘরের কাজের লোক আর নিজের মেয়ে হলে ( সে যত গর্ধ-শিক্ষিতই হোক না কেন) জামাইকে নিয়ে নিজের ঘরে ( যদি নিজেরা তুলনামূলক প্রচুর টাকার মালিক হয়) ঘর-জামাই, অন্যথায় আলাদা থাকতে হবে শ্বশুর-শাশুড়ি-দেওর-ননদের বিষাক্ত ছোবলের বাইরে গিয়ে। এবার যুক্তি দিয়ে ভাবলে ইহা দ্বিচারিতা। কিন্তু ব্যবসা দিয়ে ভাবলে - This is pure and classic beeezzness ( বিশ্বাস করুন আসল ব্যবসার বানান আসছেনা)।
তো এবার বলুন এলন মাস্ক বড় নাকি আপনার মত এক জীবন্ত রোবোট তথা বুদ্ধিমত্তার উত্‌পাদনের ব্যবসা করা সমাজের প্রতিনিধি আপনার পরিবার বড় ব্যবসায়ী?
তফাৎ একটাই এলন মাস্ক রা পৃথিবীতে এলেন মাস্ক না পরা ব্যবসায়ী হয়ে। আর সমাজ হল আবেগী মুখোশের আড়ালে ব্যবসায়ী। একবার এই মিথ্যাচার আপনি যদি বুঝে যান আপনাকে এই সমাজের 'থ্যানোস' উপাধি দেওয়া হবে। সব মেনে নেওয়া যায়। শুধু আমাদের মত লোকজনকে সমাজ থেকে বের করে দেওয়ার আগে ওরা একবার যেন হাসিমুখে বলে দেয় - This is beeezzness!!!

একমিনিট তাড়াহুড়ো করবেন না। লাইন দিয়ে আসুন। গালাগালি দেওয়ার সুযোগ সবাই পাবেন! This is bee-zzness!!

পাঁচ মিনিট

"বিষ টা খাওয়ার আগে একবার আমাকে বলতো!! " কথাটা শেষ করতে না করতেই গলা ধরে এলো কিরণ এর। হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট এর বাইরে ...