Monday, May 18, 2020

সমালোচনা

বাঙালিরা ঠিক কতটা ফাঁপা হয়? না, আমি অবশ্যই সব বাঙালিদের কথা বলছিনা। আমি বলবো বেশিরভাগ বাঙালিদের কথা। একটা ঘটনা দিয়ে লেখাটা আরম্ভ করি। আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি রামকৃষ্ণ মিশনে। এর আগে স্কুলে পড়াশোনা বাদ দিয়ে কোন বিষয়ে আমি পুরস্কার কখনো পাইনি। এমনকি আমি যে প্রাইমারি স্কুলে পড়েছি সেখানে একজন দিদিমণি আমাকে থাপ্পড় মেরে বলেছিল - তোর মত ক্যালাসের দ্বারা আর যাই হোক আঁকা হবেনা।
 বাংলা তে আমি নামে মাত্র নাম্বার পেতাম। আমি ক্লাস সিক্স থেকে লেখা-লিখি করি। মানছি সেগুলো ভালো লেখা নয়৷ কিন্তু লিখতাম। কেউ সেগুলো কোন পত্রিকা তেও ছাপেনি কোনদিন৷ স্কুলের পত্রিকাতে আমার জায়গা হয়নি৷ আমি কোন বিতর্ক সভাতে অংশগ্রহণ করিনি৷ কারণ আমার মনে হত ওখানে বিচার হবেনা। প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় চুপচাপ লিখে আসতাম। কোনদিন সান্ত্বনা পুরস্কার জোটেনি। প্রসংগত, আমি স্কুলের কোন শিক্ষক মহাশয়ের কাছে কখনো টিউশন পড়িনি৷ এরপর জীবনে একটি ঘটনা ঘটল। নরেন্দ্রপুরে একটি ইন্টারস্কুল প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পেয়ে গেলাম। তারপর থেকে প্রতিবছর পত্রিকায় আমার লেখা ছাপানো হল। আমি না চাইলেও যেচে লেখা নিয়ে যায় পত্রিকার সম্পাদক। দেবোনা বললে স্যারদের দিয়ে লেখা চাওয়ায়। প্রবন্ধ প্রতিযোগিতাতে পরপর দু বছর পুরস্কার। তারপর প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা নিয়ে ভেবে আমিই আর অংশগ্রহণ করিনি। বাংলা তে আগের থেকে নাম্বার বাড়লো৷ কিন্তু সর্বোচ্চ নাম্বার পেলাম না। সর্বোচ্চ পেলাম মাধ্যমিকে। তারপর এগারো বারো তে পরীক্ষায় আংবাং হাবিজাবি যাই লিখেছি আমার বাংলার নাম্বার সবচেয়ে বেশি এসেছে৷ আরো অনেক কিছুই লেখা যায়, তবে এই লেখার উদ্দেশ্য কোন বিশেষ স্কুল বা কোন বিশেষ শিক্ষক মহাশয় নয়। যেখানে গোটা জাত একই রোগে আক্রান্ত সেখানে আমি এত নরম জায়গা নিয়ে সমালোচনায় নিজেকে আবদ্ধ রাখতে যাবো কেন? আমি সেই সব বাঙালি জাতির বিজ্ঞ আঁতেল দের ঢ্যামনামি নিয়ে লিখছি৷ গোটা জাতটা কত প্রতিভাকে উঠতে দেয়নি৷ সে বিজ্ঞানের সুভাষ মুখার্জি থেকে শুরু করে আর্টের ঋত্বিক ঘটক। তোমরা কয়েকটা বই মুখস্ত করে নিজেদের বিশাল বিজ্ঞ আর আঁতেল ভেবে ফেলো। এখন তো বই পড়তেও লাগেনা, গুগুল বাবা আছে। করেছোটা কি? নিজের জাতকে নিজে ভাতে মেরেছো । পাশের বাড়ির কেউ ভালো কিছু করলে আড়ালে তাকে নিয়ে সমালোচনা করেছো।  তার চরিত্র খারাপ, তার প্যান্ট ছোট ইত্যাদি ইত্যাদি। একজন আর্টিস্ট উঠতে চাইলে এমন ভাব দেখিয়েছো তোমার এত সময় নেই তার আর্ট বোঝার, তুমি রোজ পায়খানা করে পিকাসোর ছবি দিয়ে পেছন মোছো। ভ্যান ঘঘ তোমার বাগানে আম চুরি করতে এসে মাঝে মাঝেই কানমলা খায়। আর তুমি শুনবে আমার কাজ। আমার কি যোগ্যতা আছে তোমার মত গুরুদেবের এক্সটার্ণাল ইয়ার ক্যানালের ইয়ার ওয়াক্সে গিয়ে সুড়সুড়ি দেওয়ার। দিনের শেষে তো সেই রঙীন ছবি দেখে আত্মনির্ভর হও। তোমার দৌড় জানা আছে। পনের আগস্টে বুক ফুলিয়ে জয় হিন্দ আর বাকি দিনে গান্ধীজীর ছবি টাঙিয়ে টেবিলের তলায় হাত।
আজ মনটা প্রচন্ড ভারী। তাই এসব কথা লিখতে বাধ্য হলাম। আমি একটা গিটারে গান করলে বলবে পূর্ণ এরেঞ্জমেন্ট দরকার, গিটারের টুংটাং এ ঠিক জমছে না । পূর্ণ এরেঞ্জমেন্টে করলে বলবে এত যন্ত্রের আওয়াজে কিছু শুনতে পেলাম না। এই করলে বলবে ওই, ওই করলে বলবে এই। তুমি একটি ঘৃণাপূর্ণ প্রজাতির ড্রেনের জলের কীট যারা কাঠিবাজি করে বেড়াতে ভালোবাসে। তোমাদেরকে সেই ছোট থেকে কোনদিন পাত্তা দিইনি৷ আজো দিইনা। আমি যাই কাজ করি, সেটা আমার কাজ। শুনতে ইচ্ছে হলে শোনো। নাহলে শুনোনা। পড়তে ইচ্ছে হলে পড়, নাহলে পড়তে হবে না।  মিটে গেল। আমার কাজ ভালো না লেগেও যদি তুমি যেচে এসে কাঠি করতে থাকো, তার মানে তোমাকে আমি কাঠি পোকা ফ্যান হিসেবে ধরে নেবো। বাকিদের আমি সম্মান করি।যারা সত্যি নিজেরাও গুণী আর আমার ভুল ধরিয়ে আমাকে আরো ভালো কাজে উত্সাহ দিয়ে চলেছে। যারা আমাকে ভালোবেসে আরো কাজ করতে এগিয়ে যেতে সাহস যুগিয়েছে। আসলে এখনো কিছু সত্যিকারের মানুষ আছে, যাদের জন্য এই কাঠিপোকারা পরজীবী হিসেবে টিকে থাকার জন্য একটা চায়ের দোকান, একটা সমাজ আস্ত পাচ্ছে।



*****



আমি যে আমার মনের কথা বলবো কা'রে,
বুঝবে আমায় কোন্ জন?
সব জায়গায় ঠোকর খেয়ে, ক্লান্ত এই মন।
তেমন করে বুঝবে, শুনবে আমায় কোন্ জন?

সবাই যে যার ধান্দা শেষে,
ছুঁড়বে ফেলে তোমায়,
তুমি তখন আপন দেশে,
যাবে অকুল স্রোতে ভেসে,
হয়তো কারো অপেক্ষায়।

কেউ নয় ভাই আপন মোদের,
আমরা ভাবের পাগল,
ভাবের সাগরে ডুব দিয়ে ভাই,
দিন হয়ে এল শেষ।
সময়ে কেউ কাছেতে আসে,
আঁকড়ে ধরি তারে,
দিনের শেষে,
কাজ ফুরালে -
বদল করে বেশ।

দরকারে সব ভক্ত তোমার,
যেদিন পাবে আঘাত কারো কাছে,
কেউ রবে না, বন্ধু তোমার -
যদি না থাকে স্বার্থ তাহার -
তোমার আশে পাশে।

কেউ শোনেনা আমার গান,
কেউ বোঝেনা আমার লেখা,
জ্ঞান দেওয়াতে কিন্তু আগে,
মেসেজে তে কলম জাগে।
যদি তোমার যায় না আসে,
কেন তবে জ্ঞানের বহর?
পেলেই বড় পুরস্কার,
তোমার কাছে আমি তখন হয়ে যাবো মহান।
তোমার জীবনে যেটুকু অবদান,
দুটো ছেলে আর একটা মেয়ে,
আমার ছবি দেওয়ালে টাঙিয়ে,
ফুলের মালা দিয়ে করবে কীর্তন।
যার বাবা দিত গালি,
পুরস্কারের পরে ছেলে,
বলবে আমার, অনেক বড় মন।

ভাবনার আগ্নেয়গিরি ভেতরে ফোঁপায়
কান্না হয়ে,
কেউ শোনেনা,
কেউ বোঝেনা -
কি বেদনা।
আমি শুধু নিজের দেশে -
নিজের কাছে ফাটতে থাকি।।


 *****



নীলরতনের পাঁচ রতন | অষ্টম পর্ব | ভগ্ন অংকুর |

ভগার নাম কি শুরু থেকেই ভগা ছিল? কখনোই না। ওর নাম আমাদের মধ্যে সব থেকে ভালো। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস এমনই যে ওকে ওরকম একটা নাম পেতে হয়েছে। গল্পটা বলি তাহলে। MBBS এর একদম শুরুর দিকে এনাটমি প্র‍্যাক্টিকাল ক্লাস চলছে। হঠাৎ স্যার দেখতে পেলেন আমার দিকে তাকিয়ে একজন মুখ ভেঙাচ্ছে।
স্যার ডাকলেন - হেই ইউ, তোমার নাম কি?
ছেলেটি উঠে দাঁড়িয়ে বললো - স্যার, অংকুর।
তুমি এদিকে এসো ৷ বলে অংকুরকে একটা ফিমেল রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেম ধরিয়ে দিয়ে বললেন - তোমাকে আমি কঠিন প্রশ্ন করবোনা। তুমি এটা ধরে বিভিন্ন অংশের নাম বলো।

অংকুর সবই ঠিক ঠাক বললো, শুধু ক্লাইটোরিস এ আংগুল দেখিয়ে বললো - স্যার এর বাংলা টা মনে আছে। ইংরেজিটা মনে নেই। আসলে বাংলা মিডিয়াম তো।
স্যার বললেন - বেশ বলো।
অঙ্কুর বললো - ভগাঙ্কুর।
ব্যাস্ ক্লাসে সেই যে হাসির রোল উঠেছিল সেই থেকে অংকুর কে দেখলেই সবার ভগাঙ্কুরের কথা মনে পড়ে৷ সেখান থেকে ছোট হতে হতে ভগা। বাকিদের নীলাদ্রি থেকে নীল, বিশ্বজিৎ থেকে বিশু, শিলাদিত্য থেকে শীলু আর আমার ধর্মদাস থেকে ধীরু। শিবেনের আসল নামটা কি মনে নেই। আমি ছিলাম বাংলার বদ। শিবেন বং এর ব্যাড। ভগার ছিল সং সাজার শখ। নীলের চং আর বিশুর ল্যাদ৷ এই নিয়ে ছিলো আমাদের জীবন। আমরা স্বপ্ন দেখতাম সমাজ থেকে wedding ceremony  র ধারণা বদলে weeding ceremony হবে একদিন। তো যাই হোক্। বিশু সেদিন দীঘার সমুদ্রের ধারে যে গল্পটা বললো সেটা হলো বিশু একবার ভগার বাড়ি গিয়েছিলো। ভগার পাশের বাড়ির মেয়েটাকে দেখে ওর মনে প্রেম জেগেছে৷ মেয়েটার নাম সায়নী৷ ঘটনাচক্রে ও ভগার বন্ধু৷ কথাটা ওর ভগাকে বলার সাহস নেই। তাই আমায় বলছে। আমি ওখান থেকে ফিরে ভগাকে বললাম৷ ভগা রেগে তো গেলোই না বরং আমার কানে কানে বললো - ভাই চলো, হস্টেল ফিরে মস্তি হবে।
ভগা বিশু কে বললো - কোন চাপ নেই ভাই। তোদের দেখা করানোর দায়িত্ব আমার। ও আমার বন্ধুই হয়।

কয়েকদিন পরে ক্লাস বাংক করে মানি স্কোয়ার মলে আমাকে ধরে নিয়ে গেল ভগা, অবশ্যই সাথে বিশু আছে। আর ওদিক থেকে দেখা করতে আসছে মেয়েটি। মেয়েটি প্রেসিডেন্সির ছাত্রী। ওকে ভগা বলেছে - এমনি তিনজন গল্প করবো।
বিশু খাওয়াবে।
তিনজন মানে আমার তখনও যাওয়ার প্ল্যান ছিলনা। শেষ মুহূর্তে ভগা আর বিশু আমাকে অনেক জোর টোর করে নিয়ে গেল। প্রথম দৃশ্য আমরা ফুড কোর্টে অপেক্ষা করছি। সায়নী এসে সবার সাথে হ্যান্ড শেক করলো। পরিচয় হল। ও তিনটেই চকলেট কিনেছিল। আমি বাড়তি। বললো ভাগ করে খেয়ে নিতে। সায়নীর হাত থেকে যখন চকোলেট টা নিল বিশু দেখি পাথরের মূর্তি হয়ে গেছে। চোখ দুটো স্থির। পিউপিল ডাইলেটেড। বুঝলাম ওর মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে। আমরা কেএফসি তে খাবো বলে কেএফসি র সামনে বসলাম। বিশু দেখি তখনো সায়নীর দিকেই তাকিয়ে আছে। আমি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বললাম - ঠিক আছে, তোরা কথা বল্। আমি কেএফসি তে অর্ডার দিয়ে নিয়ে আসি।
বলে উঠতে যাবো, বিশু বললো - নো, ম্যান্। আজ আমার ট্রিট। আমি যাচ্ছি।
ভগা আমার কানে কানে বললো, এই ছেলের কিছু হবে তোর মনে হয়?
আমরা গল্প করছিলাম খেতে খেতে। বিশু হাঁ করে তাকিয়ে ছিল।
খেয়ে দেয়ে উঠে সায়নী বললো একটা জামাকাপড়ের সেকশনে ঢুকবে। সায়নীর পেছনে সবসময় বিশু হাঁটছিল। সায়নী যখন ওকে বলছে - এই তুই সামনে হাঁট।
ও আরো নার্ভাস হয়ে যাচ্ছে। আর ভগা ওকে বলছে- যা ওর সাথে আঁঠার মতো সেঁটে থাক্। নাহলে হবে কি করে৷
বিশু আবার চলে যাচ্ছে। এমন অবস্থা সায়নী জামাকাপড়ের লেডিজ সেকশনে ঢুকে অন্তর্বাস দেখছিল। তাকিয়ে দেখে বিশু হাঁ করে তাকিয়ে।
আবার ওকে তাড়িয়ে দিল। শেষে বিশু বেরিয়ে আসার সময় নার্ভাস হয়ে সিঁড়িতে স্লিপ খাচ্ছিলো। ভগা ওকে বললো - যা সায়নীর নাম্বার চা।
বিশু ও হ্যাঁ বলে নাম্বার চেয়ে আনলো।
সন্ধ্যেবেলা বাড়িতে ফিরেই প্রোপোজ। প্রোপোজ মানে কি একদম কাঁচা পনীরের মত ভাষা। আমি তোমায় ছাড়া বাঁঁচবোনা।
যা হয়। ব্লক। আমি আমার নাম্বার থেকে একবার বোঝাতে গেলাম। আমাকেও ব্লক করে দিল। আমি বিশুকে বুদ্ধি দিলাম - ভাই তুই বেলুনে সরি লিখে প্রেসিডেন্সির সামনে দাঁড়িয়ে থাক।
প্রসংগত বলে রাখি, আমি কিন্তু তখন এতটা ঢ্যামনা ছিলাম না। আমি সত্যিই ভেবেছিলাম জীবনটা বাংলা সিনেমার মত কিছুটা তো বটেই।
বিশু একটা কাগজে লিখে নিয়ে চলে ও গেছিল। প্রেসির সামনে প্রায় এক সপ্তাহ এরকম দাঁড়িয়ে থাকা ওর রুটিন ছিল। শুধু কাগজটা বের করেনি। করলেই মার টা খেত।

ভগার দৌলতে বিশুর জীবন টা ভগ্ন অংকুরের মত হয়ে গেছিল। যাই হোক্, এই সময়ে গালাগাল ছাড়া এমনি ডাকতাম না। কোথাও গাল দিয়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করতাম। যত রকমের বাজে কাজের বুদ্ধি আসতো আমার আর শিবেণের মাথায়। একদিন ঠিক করেছিলাম ফার্মার হেড ম্যাডামের ক্লাসের শেষ বেঞ্চে বসে তাস খেলবো। কারণ ক্লাস তো চরম বোরিং। আমরাই হয়তো বোকা ছেলে। বুঝতে পারিনা। বাকিরা চালাক ক্লাসে বসে ঘাড় নাড়ে। যাই হোক আমরা যে শেষ বেঞ্চে বসে কিছু একটা কুকর্ম করছি, ম্যাডাম সেটা বুঝতে পেরে ক্লাসের মাঝে পাঁচজনকে দাঁড় করিয়ে দুজনকে বের করে দিলেন। আর আমি, ভগা আর শিবেণ কে ক্লাসের তিন প্রান্তে বসিয়ে দিলেন। খোলা দরজা দিয়ে দেখছিলাম বাইরে বেরিয়ে বিশু আর নীল লাফাচ্ছে। আমাদের দিকে তাকিয়ে অংগভংগি করছে। যেন কৃতিত্বটা তাদেরই। এরকমই একবার আমার পাশে শিবেণ বসে। ফরেন্সিক মেডিসিন হেড এর ক্লাস চলছে। শিবেণ শেষ বেঞ্চে বসে হেডস্যারের ছবি আঁকছে। আমি মন দিয়ে তার ছবি আঁকা দেখছি। হঠাৎ মুখ তুলে দেখি, সামনে স্যার দাঁড়িয়ে শিবেণের ছবি আঁকা দেখছে। আমি অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। শিবেণকে স্যার ডিপার্টমেন্টে ডেকেছিলেন। ওখানে ওর সাথে কি হয়েছিল শিবেণ আজ ও বলেনা।
যাই হোক্, এভাবেই একদিন তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা চলে এল। আমাদের মধ্যে চুক্তি হল কে কত কম পড়ে বা না পড়ে বাজে ভাবে ফেল করতে পারে এটা এই সেমে পরীক্ষা হবে৷ যে সফল হবে সবচেয়ে তার দুঃসাহস সব থেকে বেশি। আমি না পড়ে সেম দেওয়ার কয়েকটা নীতি আবিষ্কার করলাম। নাম দিলাম - রুল অফ নাইন।


(To be continued)
(Share the story with your friends if you like it.. Follow the blog to stay connected) 

Friday, May 15, 2020

আবোলতাবোল দিনলিপি

আমার কাছে অনেকেই মিউজিক শিখতে চেয়েছেন। বিশেষত সবাই যেহেতু গিটার বাজাতে দেখেন, তাই গিটার শিখতে চেয়েছেন। আমি আজ অব্দি একজনকেই কিছু শেখানোর চেষ্টা করেছি। সে এখন মিউজিক নিয়েই কাজ করছে। আমার খুব ভালো লাগে এটা। শেখালে শেখানোই যায়। কিন্তু যে শিখবে তার যাপন বা দর্শন আমার পছন্দ না হলে তাকে শেখাই কেমন করে? টাকার জন্য তো শেখাবোনা। শেখালে ভালোবেসেই শেখাবো। সেখানে যাপন টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবাইকেই ভালো করে বুঝিয়ে সরে আসি ৷ যে শিখবে তাকে আমার সাথে বাঁশঝাড়ে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা চুপ করে বসে থাকতে হবে। তাকে নদীর পাড়ে গিয়ে শব্দ শুনতে হবে৷ নাহলে শিখিয়ে লাভ কি? কয়েকটা কর্ড বাজিয়ে গান নেট খুললেই শেখা যায়। ওই প্রথাগত শিক্ষা নিজেও ওভাবে শিখিনি, কাউকে খুব টাকার অভাব না পড়লে শেখাবোও না কখনোই। আর সব থেকে বড় কথা কোন বিজ্ঞানী তো নতুন ভাবে পৃথিবীর নিয়মকে ব্যখ্যা করবে। নতুন কাজ আনবে। তার পক্ষে অ আ ক খ ওভাবে শেখানো খুব কষ্টকর কাজ৷ ওটা শিক্ষক, অধ্যাপকদের কাজ। ওনারাই করুন। আর সমালোচক রা মুখে মাংস চেবাতে মুখ বেঁকিয়ে বলুক - এটা কোন কাজ হল? আমার এসবে কিছুই যায় আসেনা। সুরের কৃষক আমি, চাষবাস করা কাজ। একদিন নিশ্চয়ই অনেক লোকে বুঝবে আমার কাজের একটা নতুন ধারা কে, আমাকে।
However, do not follow my path.. I repeat do not follow my path.. As its much more difficult than the conventional way.. I risked my everything for this.. My life, my career, my sanity, my reputation, my money.. I have realised the advantages of unconventional way of learning.. Its funny, end result is fruitful.. And u will never know the end.. Rabindranath to Tesla.. Most revolutionary philosophers are unconventional learner..


****


I have received many request in past months from my well-wishers ( at least they think that) to stay as myself that people seem i was. A love song or poem writer, a soft spoken person, gentleman. A good boy who rarely speaks. People cannot accept this form of mine. I am losing my audience, viewers for this reason and i should care about that. Now i am telling a story.

When i was in college, I watched arrogant artists and thought how could they live that life. I watched musicians of folk, rock genre and wondered that " Is that a life? " I couldn’t understand them.  So i tagged them as psychopath, abnormal, unstable, useless, anti-social etc. Later, i have gone through a heavenly(!!) process that has made me as this. I have seen so called normal people and analysed them as i am an alien. After that i started reacting to their behaviour. I was true to myself.. Now i am in a corner of a world, and i can clearly understand the normal world. I have found so much loopholes that made me unstable. Repeated brainstorming and so much beloved (?) behaviour from normal people has made me this what you called abnormal. May be i am the same, but not to you, **sho*es.. If you don't like my work, don’t watch, read. I don’t do art to get people’s approval.


****


যদি এরকম হয়,
দুটো পথ থাকে,
একটা আলোর দিকে,
আর একটা অন্ধকার।
আমি অন্ধকার পথে হাঁটতে চাই।
আলোর ট্রেনিংটা উজ্জ্বল পথে ভালো শেখা যায়না।
আমি ২০০৩ এর রানার্স আপ -
ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাপোর্টার হয়ে কাটাতে চাই,
একটা সীমাহীন অহংকার নিয়ে।
ওই হার থেকে ২০১১ র স্বপ্ন দেখতে চাই।
আমি ব্রাজিলের ২০০৬ এ অবাক বিদায়ের সংগী।
আমি মেসির ২০১৪ র আর্জেন্টিনা হতে চাই।
কিংবা বার্সার পর পর চারবার বিদায়ের সংগী।
আমি যেন সবসময় হেরে যাওয়া দলে থাকি।
সেখানে জেতা শেখা যায়।
যদি এরকম হয়,
দুটো পথ থাকে,
যার একটা সাফল্যে মোড়া ছায়া প্রকাশনী,
আর একটা ব্যর্থতার কাঠিন্যের ছাঁচে,
কপালের ভাঁজের ছোটনাগপুর মালভূমি।
আমি দ্বিতীয় পথে হাঁটতে চাই।
ওই পথেই পেশী শক্ত হয়,
স্নায়ু তীক্ষ্ণ হয়,
দর্শন হয়ে ওঠে পরশপাথরের মত অনন্য দামী।
জিপে চেপে জংগল সাফারি হয়,
জংগলকে চেনা যায়না ।
যদি এরকম হয়,
দুটো পথ থাকে,
যার একটা রেড কার্পেট মোড়া,
মুখে হাভানা চুরুট আর
চারিদিকে ফ্যানেদের ঢল।
আর একটা একাকী হ্রদের ধারে,
একলা বিকেলের জমে যাওয়া রোদে -
মুখে বিড়ি আর ছেঁড়া পকেটে,
এসরাজের সুর।
আমি দ্বিতীয় পথে হাঁটতে চাই।
মৃত্যু সবার আসবে আজ নয় কাল,
কাজ দিয়ে মানুষের মনে বাঁচতে চাই।
আমি সমাজের অভিধান নতুন ভাবে লিখতে চাই ।।

©অবচেতন

***

এই সংকট সমাপ্ত হইলে একটি খামারবাড়ি বানাইবো। সেথায় রকমারি খাদ্যশস্য ও ফল-ফুলের কর্ষণ করিবো। আমার নাম হইবে কৃষক সুপ্রভাত। খাদ্যশস্য যাহাতে বায়সে ভোজন না করিতে পারে , একটি যন্ত্রমানব স্থাপন করিবো যাহা দূর হইতে আরেকটি যন্ত্রের দ্বারা কেহ পরিচালনা করিতে পারিবে।

খাদ্যশস্য ও ফল-ফূলের তালিকা -
তরমুজ, শসা, লিচু, আম, জাম, আঙুর, আপেল, ভূট্টা, গম, ধান, আলু, পেঁয়াজ, টম্যাটো, লেবু, কাঁচালঙ্কা, পেয়ারা, সবেদা, কলা ( এই একটি গাছ নানারকম উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইতে পারে। কলাপাতায় খাবো.. মোচার তরকারি... কলা কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থায় খাদ্য হিসেবে গৃহীত হইতে পারে। কলামান্দাসে জলে ভাসিলে প্লবতা বৃদ্ধি পায়, ফলে ভাসিয়া থাকিতে সুবিধা )... ফুলের তালিকায় শুধুমাত্র শিউলি, কদম, ছাতিম ও গোলাপ চাষ করা হইবে।

একটি দেশি আপেল-পাই তৈরির ছোট কারখানা, একটি দেশি ওয়াইন কারখানা, একটি গোরু ও দেশি কুক্কুটীর খামার, একটি দেশি পপকর্ণ  কারখানা, একটি দেশি ক্ষীর ও ছানা তৈরির কারখানা, একটি দেশি মৎস উৎপাদনের হ্রদ, একটি দেশি চিপস্ তৈরির কারখানা, মৌমাছি পালন কেন্দ্র এই খামারবাড়িতে অন্তর্ভুক্ত থাকিবে। উপরন্তু শূলপক্ক কুক্কুটীর মাংস ও আমার বিশেষ নির্দেশের বিরিয়ানি রন্ধনের নির্দিষ্ট একটি স্থান থাকিবে। উক্ত খামারবাড়ির চারিপাশে একটি পরিখা খনন করা থাকিবে ও উঁচু দুর্ভেদ্য প্রাচীরের দ্বারা উহা বেষ্টিত থাকিবে। পরিখার জলে ক্ষুধার্ত কামুক কুমির জলকেলি করিবে। দুষ্ট মানবকুলকে এই সম্পত্তিতে লোলুপ দৃষ্টি হইতে বিরত রাখিতে দুটি দন্তবিহীন ব্যাঘ্র পালন করিবো, যাহারা শুধুমাত্র গর্জন করিতে পারিবে, আবার ক্ষুধার তাড়নায় আমাকে ভোজন করিবার প্রবৃত্তি রাখিবেনা।

Damn, I am going to be rich...


***

আমার খুব ভালো লাগে, নিজেকে বিভিন্ন পারসনালিটিতে নিয়ে গিয়ে আর্ট বা লেখালেখি করতে।
কখনো টিনেজ, কখনো পরিণত, কখনো যুবক, কখনো বাচ্চা, কখনো শিশু, কখনো পুরুষ, কখনো নারী, কখনো কোন প্রিয় চরিত্র ইত্যাদি। আমি একটা জেনারেশনে বা একটা আর্টে বেশিদিন থাকলে বোর ফিল করি। যা করি নিজে উপভোগ করি, দেওয়ার মত হলে ফেবুতে দিই। নিজের নানারকম স্পেকট্রাম এক্সপ্লোর করা যায়। সবকিছু ফেসবুকে দেওয়া যায় না। তবে যেটুকু দেওয়া যায় লোকজন খুব কনফিউজড্ বা বিরক্ত হয়ে যায়, এটা আমার সব থেকে বড় পাওনা। কারো কারো চরম ভালো লেগে যায়। এরকম ঘটনা আমার সাথে প্রায় হয়ে থাকে যেমন, আমার থেকে বয়সে অনেক বড় কোন স্যারের সাথে আমার দেখা। আলাপ হল। স্যার চোখ বড় করে বললেন - ও তুমিই সুপ্রভাত। তুমি তো আমার থেকে অনেক ছোট।
আমি উত্তরে, আমি সত্যিই অনেক ছোট, স্যার। উল্টোটাও হয়। "তুমি তো আমার থেকে বয়সে অনেক বড়। "
এতে নিজের মানসিক ব্যালেন্স একটু হলেও ডিস্টার্বড হয়। এই দুদিন আগেই এত হতাশা এসেছিল মনে হল আর নিজেকে নিতে পারা যাচ্ছেনা। কিন্তু যেহেতু বন্ধুদের মতে, আমি একটা সাইকিয়াট্রির বই, নিজের একটা সমস্যাকে ডিফেন্ড করতে আরেকটা সমস্যায় চলে যাই। একটা অজানা হস্টেলের অজানা ঘরে বসে থাকা আমার পক্ষে খুব অসুবিধেজনক। ভাবছি একটা নতুন কিছু আর্ট ফর্ম চেষ্টা করবো।

***

ধনী - এই শব্দের দ্বারা এম.এস.ধোনি কে বোঝানো হয়না, কিংবা যার প্রচুর ধন-সম্পদ আছে তাকে বোঝানো হয়না। বরং যে বেঁচে থাকতে তার যেটুকু সম্বল সেটা যতটা ব্যবহার করতে পারে, তাকেই তত বেশী ধনী বলা যেতে পারে। এটির বিচার পরিস্থিতির সাথে পাল্টাতে পারে।
ধরা যাক্, একজন ব্যবসায়ীর প্রচুর টাকা। এই মহামারীর সময় সে চাইলেই রেস্তোরাঁয় গিয়ে খেতে পারবেনা। কিন্তু ধরা যাক্, তার এত টাকা, সে ঘরেই একটা রেস্তোরাঁ খুললো। সেখানে শুধু নিজের জন্য রাঁধুনি নিযুক্ত করলো। তারা বাড়ি না গিয়ে শুধুমাত্র মোটা টাকার লোভে সেখানে পড়ে থেকে বাবুর আড়ালে খিস্তি করতে করতে বার্বিকিউ চিকেন, মাটন রেজালা রেঁধে খাওয়ালো। কিন্তু কতদিন? ধরা যাক্, তাঁর এত টাকা যে, অনন্তকাল সে এটা চালিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের জন্য তাকে যে পরিমাণ শ্রম বা মস্তিষ্ক প্রক্ষালন করতে হবে, যে তার সেই খাবার হজম হবে না। ধীরে ধীরে প্রেসার, সুগার হবে। সে মোটা হবে৷ সেই চর্বি ঝরাতে তাকে ট্রেডমিল কিনতে হবে। একদিন ভেন্টিলেটরে থাকা অবস্থায় মারা যাবে। লাভবান হবে তার স্ত্রী, সন্তান, পরিবার। যাদেরকে সে হয়তো সময়ের অভাবে অদৃশ্য দেওয়ালের ওপার থেকে দেখেছে। মৃত্যুর পর কিছুদিনের লোকদেখানো কান্নাকাটির পর তারা সম্পত্তি ভাগাভাগিতে বসবে। সে কঠিন হিসেব। সারা জীবনের দুশ্চিন্তার এই জীবনের পর তাকে ধনী আমার অভিধান অনুযায়ী আমি বলতে পারছিনা। আমার অভিধানে সেই ধনী, যার বাড়ির উঠোনে ঝিঙ্গে, আলু, পেঁয়াজ, বেগুন, পালং চাষ করা হয়েছে৷ পুকুরে টাটকা মাছ। পোলট্রিতে দেশি মুরগি, আর গোয়ালে গোরু আছে। বাঁধ পেরোলেই নদী। সেখানে ফ্যান লাগেনা, এসি লাগেনা। ফাঁকা মাঠে হু হু করে হাওয়া দেয়। রান্নার গ্যাস ও কিনতে হয়না। সব বেসিক টেকনোলজির মাধ্যমে সমাধান করে সে স্বনির্ভর। তার টাকার দরকারই নেই সেরকম। ক্লান্ত দিনের শেষ হয় ছাদে কাঁচের শেডে আকাশে তারা গুনতে গুনতে পিয়ানোতে ইন্টারস্টেলার জ্যামিং করে, দিনের শুরু হয় পেয়ারা গাছে উঠে বাঁশি বাজিয়ে। যে কারো উপর অতি নির্ভর নয়। যার কোন চাকর নেই, যে কারো চাকর নয়। যে তার জীবনলব্ধ শিক্ষা মানুষকে দিয়ে যেতে চেষ্টা করে সফল হয়, সেই ধনী। দুশ্চিন্তা তার একটাই, এই জীবনটা কি সত্যি নাকি স্বপ্ন?


***

|| আমি ভাইরাল হতে চাই ||
রাস্তায় হসপিটাল যাওয়ার বাস ধরবো বলে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময় একজন মহোদয় আমাকে দেখে এগিয়ে এসে বললেন - হে ব্রো, এটা কি মদের লাইন?

প্রশ্নটা অবান্তর ছিলনা। কারণ একটু দূরেই ছিল মদিরার দোকান। আর আমাকে দেখে সবাই মাতাল ভাবে কেন জানিনা। অথচ আমি জল ও কোল্ড ড্রিংক্স ব্যতীত কোনরকম তরল পদার্থ পান করিনা। চা, কফিও না। নিজেকে বোঝালাম প্রশ্নকর্তা তার দূরদৃষ্টির অভাবে আমার সাথে মদের লাইন গুলিয়ে ফেলেছেন৷
আমি বললাম - Bon Jour !! এটা মদের লাইন নয়। তবে মোদের একটা গানের লাইন শোনাতে পারি, দেওয়াল ভাঙো, দেওয়াল ভাঙো, দেওয়াল ভাঙো।

মহাশয় হঠাৎ ক্ষেপে গিয়ে বললেন - শালা পাগল নাকি।
আমি বললাম - আমি পাগল নয়। আমি শুধু চাই আমায় করোনার মত ভাইরাল করো।

ভদ্রলোকটি আমাকে খিস্তি দিতে দিতে মিছিলের শেষ মুখে দাঁড়ালেন। মদের লাইনের আরো কাছে গেলাম। দেখলাম তিনটি স্তরে লাইনে কাজ হচ্ছে৷ প্রথম স্তর লাইনে দাঁড়াচ্ছে। দ্বিতীয় স্তর লাইনে দাঁড়াচ্ছেনা। তারা প্রথম স্তর থেকে কিনছে। কারণ কাউকে দুটির বেশি বোতল একবারে দেওয়া হচ্ছেনা। দ্বিতীয় স্তরের কাছে টাকা বেশি৷ আর তৃতীয় স্তরে পুলিশ আর আমি।
আমি বললাম পুলিশ কাকুকে - কাকু, দাঁড়িয়ে বোর হচ্ছেন? একটা গান গাই ? বাংলা গান।

পুলিশ কাকু বললেন - গাও৷
আমি এবার ঠিক করলাম আমার গান আর গাইবোনা। আন্তর্জাতিক শিল্পীর গান গাইবো৷ একেবারে বাংলা অনুবাদ করে। গাইতে শুরু করলাম - "তোমার শরীরকে ভালোবেসেছি, চুম্বকের মত টেনেছি, ঠেলেছি। হুয়া হুয়া হুয়া... "

পুলিশকাকু - এই বেটা, এটা গান না শিয়ালের ডাক?

আমি - কাকু গানটা ২০০ কোটির উপর লোক শুনেছে৷ গ্র‍্যামি ট্যামিও পেয়েছে জানেন?

কাকু - তাই নাকি?  গ্রানিও পেয়েছে? এর থেকে আমাদের পাড়ার পচা পেঁয়াজকলি, পটল গানে নিয়ে এসে লেখে, ভালোই লেখে।

আমি - কাকু কিন্তু আমার ভাইরাল হওয়াটা??

কাকু - ভাগ্।

আমি - না মানে, ভাগ করে রেট বেড়ে গেলে পরিসংখ্যানের গলদ ধরা পড়ে যাবে।

কাকু এবার এমন ভাবে তাকালো। আমি চলে এলাম। এখন না ভাগলে নিজের গুণ আর ভাইরাল হওয়া হবেনা। পুরো বেগুনের ভার্তা করে দেবে।
অতঃপর রাস্তার ডিভাইডারে একটা পাগল বসে ছিল। তার কাছে গিয়ে, আমি আমার লেখা "আমি পাগল " গানটা শোনালাম। সে বেজায় খুশি। গানটি ১২ তারিখ গাইবো। ফেসবুক লাইভে। সন্ধ্যে ৬ টায়। এতটা পড়ে যারা খিস্তি মারছেন, তারা যেন আমাকে ভাইরাল করে খিস্তি মারেন। আমি দুষ্টু ভাইরাস।





****


মতামত ব্যক্তিগত -
যেকোন রকমের শিল্পীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দর্শন থাকতেই পারে। কারণ তারা মানুষ। কিন্তু যেহেতু তারা শিল্পী, তাদের সামাজিক কর্তব্য হল নিজের জায়গাটা ধরে রেখে ঠিক কে ঠিক, আর ভুলকে ভুল বলা। একজন শিল্পী যখন কোন রাজনৈতিক দলের পতাকা ধরে হাঁটেন, তিনি আর শিল্পী থাকেন না। শিল্পীর আবার ব্যক্তিগত দর্শন বলে কিছু হয় কি? শিল্পীর সামাজিক কর্তব্য নিজেকে একটা ধূসর জোনে রেখে দেওয়া। যাতে যেকোন দর্শনে তার আর্ট সৃষ্টি করার ক্ষমতা থাকে৷ যেমন - লিও লেনিন চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে যদি বলে, আমি করবোনা, কারণ আমি কমিউনিস্ট নই৷ তাহলে আর কিসের আর্টিস্ট।
শিল্পীদের যেকোন গোষ্ঠীর সাথে কাদায় পাঁকাল মাছের মত সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত।


****

আগের পোস্টে কালচার কাকুদের কিছু প্রশ্ন করায় কিছু মানুষ অসন্তুষ্ট আমার উপর। সখী, কালচার কারে কয়? সে কি কেবলি যাতনাময়? আজ একটু স্বপ্ন দেখাবো তাহলে। জানেন, St louis lambert international airport এ পিয়ানো রাখা থাকে। আর্টিস্ট যারা এয়ার ট্র‍্যাভেল করেন, তারা যাওয়ার পথে পিয়ানো বাজিয়ে যান। ইউটিউবে অনেক ভিডিও পাবেন। আমি প্রায় শুনি আর স্বপ্ন দেখি। শুধু তাই নয়, সব থেকে বড় কথা যাত্রীরা যাওয়ার পথে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে শোনেন। বিদেশে স্ট্রিট আর্ট কে এরকম হ্যাটা করে দেখা হয়না। আজ কোলকাতার রাস্তায় গান গাইলে পাগল ছাগল বলবে। কিন্তু বিদেশে দেখুন ওটাই ওদের কালচার।  বিখ্যাত আর্টিস্ট রা বিখ্যাত হওয়ার পরেও রাস্তায় দুমদাম নেমে পড়ে পারফর্ম করে থাকেন। চেস্টার বেনিংটনের স্ট্রিট পারফরম্যান্স খুঁজলেই পাবেন। বিদেশে লাইভ মিউজিক শোগুলোতে সবাই দল বেঁধে যান, শিষ দিতে না, একসাথে গাইবেন বলে। একসাথে যখন সবাই গান গায়, তখন প্রত্যেকটা মানুষ একে অপরের মাঝে নিজেকে খুঁজে পান। তখন এই যে মানুষে মানুষে নানা অজুহাতে বিভেদ সেগুলো ভুলে যায় লোকে। সা পাওলো তে কোল্ড প্লে র লাইভ শো আর মুম্বাই তে ওই একই কোল্ড প্লে র লাইভ শোর পার্থক্যটা দেখবেন, বুঝে যাবেন। কোথায় ফারাকটা আছে। আমাদের গান নাহলে উপরে উপরে শুনে রেখে দেবে, ঠিক আছে। কিন্তু কোল্ড প্লে শুনেও মনে রাখতে পারছে না? সাও পাওলো তে তো গাইছে হাজার হাজার লোক একসাথে। মুম্বাই তে কেন পারছেনা? একদিন একটা লাইভ গাইছি রাস্তায়৷ একজন বললো তুমি "নাথিং এলস্ ম্যাটারস্" এর সোলো টা বাজাতে পারবে? মুড গরম ছিল। বললাম - ভাই, Metalica র লাইভ শো তে গিয়ে তাকে বোলো তো সুপ্রভাতের Renovatio র সোলো টা বাজাতে। কি উত্তর দেয়।
একটু ফুটবলে আসি। আমি যেহেতু বার্সিলোনার ভক্ত, ক্যাম্প নৌ এর কথা বলবো। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শুরুর আগে প্রত্যেকের চেয়ারে নির্দিষ্ট রঙের প্ল্যাকার্ড রাখা থাকে। তারা সেটা তুলে ধরে আর একসাথে প্রায় এক লাখ দর্শক বার্সা এন্থেম গায়। আমাদের স্টেডিয়ামগুলোতে এটা খুব বিরল এ দৃশ্য। তাও শৃঙ্খলার অভাব। এরকম একটা শব্দব্রহ্ম র মধ্যে খেলোয়াড়রা এমনিই ভালো খেলবে। এমনিই তাদের প্র‍্যাক্টিসে উত্সাহ বাড়বে। আর এবার আসি আমাদের মধ্যবিত্ত চেতনা। সায়েন্স টাই একমাত্র সাবজেক্ট, বাকিরা অনাথ বাচ্চা। ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং টাই একমাত্র লাইন, বাকিরা বানের জলে ভেসে এসেছে। আমাদের আর্টিস্ট দের অল অর নান ল তে ফেলে দেওয়া হয়। হয় প্রচুর সম্মান, নাহলে পাত্তাও দেওয়া হয়না।
গান করিস? ওটা তো শখে করে। শখে যেরকম লোকে বিড়াল পোষে সেরকম। আঁকিস? এঁকে নিজের ঘরের দেওয়াল ভরিয়ে রেখেছিস। আরে ওর উপর নেরোল্যাক পেন্ট মেরে দে। ধুয়ে যাবে। এটাই তো বিজ্ঞাপন না? আরে ছিঁড়ে ফেলে দে, দেওয়াল নোংরা লাগছে। কি ছেলে বায়োলজি না গাঁতিয়ে ক্যানভাস কিনেছে? আঁকার মাস্টার কেই বের করে দে। বাড়িতে ডবল, ট্রিপল বাথরুম চাই, কিন্তু ঘরে যে একজন আর্টিস্ট আছে তার যে একটা নিসংগ গুহা লাগবে সেটা কেউ ভাবেনা। আরে জায়গার অপচয় শালা। আঁকার থেকে হাগু করবে তাও ভালো।
এটাকে কালচার বলেনা কাকু। এটাকে ভাঁড়ামো বলে। ক্লার্ক তৈরির সিস্টেমের জাঁতাকলে কত ছাত্র ছাত্রীর সৃজনশীল মস্তিষ্ক রোজ ধর্ষিত হয় কে হিসেব রাখে?

Tuesday, April 21, 2020

My Discography as a solo music composer


A) Singles - তোকে আমার (২০১২), ইচ্ছে (২০১২)
নতুন সমাজের ডাক (২০১২), দেওয়াল ভাঙো ( ২০১৮), ক্লিভেজ

B) Album -
1) Renovatio -
Renovatio-Title track (২০১৮) ,
Buddha (২০২০) ,
জলনূপুর ,
নিখোঁজ বলাকা

2) সময়ের দাবী -
ডাক্তার মানে একটাই সমাধান (২০১৯) ,
শুধরাবে বলো কবে সমাজ (২০২০),
ডাক্তার প্রদীপ কুমার (২০২০)

3) Suprabhat unplugged -

মানুষের গান (২০১৯) ,
অসামাজিক (২০২০) ,
এইটুকু আমি চাইছি,
Jazz-mental (২০২০),
বৃষ্টি ,
Hi Kolkata,
Just Like me,
An MBBS Song (২০১৯),
গানটা শুনছো নাকি দেখছো তুমি (২০১৯)

4) যেমন খুশি গান (During Quarantine period)
 কিছু বুঝতে পারছিনা (২০২০),
 শিশুদের গান (২০২০),
 যদি তুমি (২০২০),
 প্রিয়া (২০২০),
 আমি পাগল, ডিভোর্স, Save the nature

C) Instrumental Track - 
Spontaneous ( ২০১৯ ),
Noise inside my head ( ২০১৯ ),
Third Eye (২০১৯ )


N.B.-
* Will be updated regularly.
* Between 2012-2017, i have worked as a composer duo.. Those were our works, so i have not mentioned a single one under my solo discography.

নীলরতনের পাঁচ রতন | সপ্তম পর্ব | ঢ্যামনামির সাতকাহন |

গাছ ঢ্যামনা আর ঢ্যামনার গাছ এই দুটি শব্দের পার্থক্য কি? আমরা পাঁচজন ছিলাম গাছ ঢ্যামনা। মানে আমাদের গাছের শিকড় বা ভিত্তি ছিল ঢ্যামনামি। কিন্তু মনে একটু হলেও সুপ্রবৃত্তি ছিল। শিলু ছিল ঢ্যামনার গাছ৷ ওর মাথা থেকে যাই প্রোডাক্ট বেরোবে সেটা ঢ্যামনামিই হবে। ইদানীং শিলু আর নীলের খুব বন্ধুত্ব হয়েছিল৷ শীলু ছিল এমন একজন যে আমাদের মধ্যে থেকেও ছিলনা। কারণ ও নেশাটা করতোনা। মাঝে ও কিছুদিন একটি জুনিয়র ছেলের সাথে খুব ঘুরতো। আমরা ছাদে গেলেই দেখতাম। দুজনে অন্ধকার এক কোণে গুজুর গুজুর ফুসুর ফুসুর করছে। শীলু ততদিনে তার বাঙাল টান ছেড়ে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলা শিখে গেছে।
 আমার কাছে আক্ষেপ করে একদিন বললো - আর তোরা তো এদিক ওদিক ঘুরতে বেরোস, সিনেমা দেখতে যাস, আমাকে ডাকিসও না। যখন কেউ থাকেনা তখন ডাকিস।
ওকে বললাম, "তুই ওই জুনিয়র ছেলেটার সাথে আর ঘুরিস না কেন? "
বললো - আর বলিস না। শুরুতে দেখতাম খুব ভালো বন্ধুর মত। আমার সাথে তো কেউ কথা বলেনা দরকার না থাকলে। তারপর দেখলাম, আমি যা বলবো করে দিতে পারে। মানে ধর্, এই ছাদ থেকে ঝাঁপাতে বললে ঝাঁপিয়ে দেবে। আমি বুঝলাম গন্ডগোল আছে। বলে সরে এলাম।
যাই হোক্, একদিন বিকেলে আমি, বিশু আর ভগা এনেক্সের ছাদে গিয়ে দেখি, নীল আর শীলু খাটে বসে গল্প করছে। আমরাও সেখানে বসলাম ভাঁটের আসর পেতে। শীলু হঠাৎ বললো - তোরা কেউ সেক্স করেছিস?
নীল বললো - ডিফাইন সেক্স।
শীলু - রিয়েল সেক্স উইথ আ রিয়েল গার্ল।
আমরা চারজনেই সমস্বরে না বললাম।
শীলু বললো - জানিস আমি কত বছর বয়সে সেক্স করেছি?
ভগা - এই শুরু হল গ্যাস।
শীলু - আরে না শোন্। আমি তখন ক্লাস ইলেভেনে পড়ি। আমার পাশের বাড়িতে একটা নতুন ভাড়াটেরা এসেছিল। তার একটা মেয়ে ক্লাস টেনে পড়তো। আমার কাছে অংক দেখতে আসতো।
ভগা - কোন চটি বই গাঁতিয়েছিস, আমাকে বল্।
বিশু - দাঁড়ানা ভগা, ওকে বলতে দে।

ভগা বিশুর আপত্তি শুনে চুপ করে গেল৷ শীলু বলে চললো - একদিন আমার বাড়িতে কেউ ছিলনা। বাড়ির সবাই মামাবাড়ি গেছিলো। ওর বাড়িতেও কেউ ছিলনা। ও আমার বাড়ি এসেছিল অংক কষার নাম করে। আমি বুঝতেই পেরেছিলাম ও আমার কাছে কিছু চায়। আমি টিভি টা চালিয়ে দিয়ে দুজনে খেলা দেখছিলাম। তারপর আর থাকতে না পেরে ধীরে ধীরে ওর থাইএর উপর বাম হাত টা রাখলাম।

ভগা - তুই পানু লেখ, ভাই। কাজে দেবে।
নীল - এই বাল্, তুই এখান থেকে বেরো।
আমি ভগাকে বসিয়ে দিলাম- ভাই চুপ করে শোন না।
শীলু আবার বলে চললো - আমি উপরের দিকে উঠছি, ও আমাকে আটকাচ্ছেও না। তারপর আমি আর থাকতে না পেরে ওকে জড়িয়ে কিস করতে শুরু করলাম। ও আমাকে ছাড়িয়ে বললো - শীলু, তুমি না ভারী দুষ্টু। তারপর...

শীলুর কথা শেষ হতে না হতেই হঠাৎ একটু দূরে একটা শব্দ হলো। যেন একটা ভারী বস্তা কেউ নর্থের ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে। এরকম শব্দ আমরা কেউ আগে শুনিনি। সবাই ছুটে গেলাম শব্দ টা কি দেখার জন্য। যা দেখলাম, সে দৃশ্য জীবনে ভুলবোনা। একটা ছেলের শরীর নীচে উল্টো হয়ে মাটিতে পড়ে। মাটি রক্তে ভেসে যাচ্ছে। আমি হঠাৎ দেখলাম আমি ছুটছি। আমার সাথে বিশু, নীল, ভগা, শীলু সবাই ছুটছে। বারান্দা থেকে সবাই হাঁ করে দেখছে। তখন হস্টেলে লিফট ছিলনা। আমরা ছুটে যখন নীচে নামলাম। দেখলাম আমাদের মত কিছু লোকজন পৌঁছে শরীরটাকে তোলার চেষ্টা করছে। একজন স্ট্রেচার, ট্রলি বলে পাগলের মত চেঁচাচ্ছে। বাকিরা বারান্দা থেকে দাঁড়িয়ে দেখছে। স্ট্রেচার বা ট্রলি কখন আসবে জানিনা। তখনো শরীরে প্রাণ ছিলো বোঝার পরেই আমরা শরীরটা হাতে তুললাম। ইমার্জেন্সি খুব বেশি দূরে নয়। হেঁটে তিন-চার মিনিট। কিন্তু ওই ভারী শরীর
এতটা রাস্তা এই কজনে হাতে চাগিয়ে বয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন কাজ। আমরা কিছু না ভেবে শরীরটা তুলে নিলাম। ছুটতে শুরু করলাম শরীরটাকে তুলে নিয়ে। কেউ হাঁফিয়ে গেলে, হাত বদল হচ্ছিল। কিন্তু এন্যাটমি বিল্ডিং পেরোতে না পেরোতেই শরীরটা থেকে শেষ নিঃশ্বাস বেরিয়ে গেলো৷ আমরা কেউ কখনো এর আগে মৃত্যু দেখিনি। তাই সেটা বুঝেও আমরা শরীরটাকে নিয়ে পৌঁছালাম ইমার্জেন্সি তে। ডাক্তার মৃত বলে ঘোষণা করলেন। আমাদের সবার গায়ে রক্ত লেগে আছে। আমাদের জুতো মাঝপথে পা থেকে ছিঁড়ে বেরিয়ে গেছে। আমরা খালি পায়ে হেঁটে ফিরলাম। কেউ কারো সাথে একটা কথাও বলিনি। হস্টেলে ফিরে যে যার রুমে ফিরে গেলাম। তারপর আমি রুমে ফিরে জামাটা এক কোণে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। তারপর সে কি প্রবল কান্না। রাতে যখন খেতে গেলাম একসাথে দেখলাম আমাদের সবার চোখ মুখ ফুলে ঢোল হয়ে আছে। সেই আমাদের প্রথম মৃত্যু দেখা।
যে আত্মহত্যা করেছিল, দাদাটা আমাদের সিনিয়র। দাদাটার দোষ ছিল সে থিওরি তে ভালো নাম্বার পেয়েও স্যার কে খুশি করতে পারেনি, তাই তাকে ফেল করতে হয়েছিল। দাদাটা পড়াকু ছিল।
পরেরদিন দাদার শোকসভায় এসে শুনলাম ভূতের ভয়ে গোটা হস্টেলের অর্ধেক ফাঁকা হয়ে গেছে।
যাই হোক্, আমাদের পাঁচ জনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বেশ কয়েক সপ্তাহ সময় লেগেছিল। দাদাটা আমার হাতের উপর শেষ নিঃশ্বাস ফেলেছিল। আমার হাতে আজো সেই নিঃশ্বাসের স্মৃতি লেগে আছে।
শক কাটলো শিবেণের কাছে গিয়ে। রাত বারোটার সময় ঠিক হল আমরা দীঘা যাবো। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। বেরিয়ে পড়লাম হলুদ ট্যাক্সিতে। হলুদ ট্যাক্সি করে আমরা পৌঁছে গেলাম ধর্মতলা। ধর্মতলাতে এসি ভলভো বাসে উঠেই ঘুম৷ সবাই ঘুমালেও আমার ঘুম আসছিলোনা৷ চিন্তা ছিল নীল কে নিয়ে৷ এর আগে ফার্স্ট এম বি র পরে নীল, ভগা আর বিশু মাইথন যাচ্ছিল৷ আমি বাড়িতেই ছিলাম৷ সে এক কেচ্ছা। মাঝরাতের ট্রেন হাওড়া থেকে ধরে ভোরে আসানসোল নামতো। তিনজন ভাঁটাতে ভাঁটাতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। কিন্তু নীল সাহেব ঘুমান নি। উনি অন্ডালে নেমেছিলেন ব্যাগ, ফোন সব ট্রেনে রেখে জল খেতে৷ অন্ডালে বেশিক্ষণ তো দাঁড়ায়না। হঠাৎ একজন বুড়ি এসে নীলকে বলে বোতলে জল ভরে দিতে। দয়াপরবশ হয়ে নীল বোতল ভর্তি করতে শুরু করা মাত্রই ট্রেন চলতে শুরু করে। কিন্তু নীল তো হিরো৷ ও ভাবে ও ক্রিশের মত ছুটে ট্রেন ধরবে। তাই বোতলে জল ভরতেই থাকে। কিন্তু নীল কিছু বোঝার আগেই ট্রেন স্পিড নিয়ে নেয়৷ ও ওই মোটা শরীরে ছুটতে চেষ্টা করে বোতল ছুঁড়ে দিয়ে। ও ভাবে অন্তত ও ট্রেন না ধরতে পারুক, ওকে ছুটতে দেখে কেউ অন্তত চেন টানবে। ট্রেনের সবাই তাকিয়ে দেখে একটি মোটা ছেলে ট্রেন ধরার জন্য ছুটছে। কেউ আর চেন টানেনা। তারপর ও ভোরবেলায় অন্ডাল থেকে হেঁটে নাকি রাণীগঞ্জ আসে। তারপরের লোকাল ট্রেন ধরে আসানসোলে গিয়ে বাকিদের হাতে চরম ক্যালানি খায়। সমস্যা টা আমার ক্ষেত্রে আলাদা। ওদেরকে তো নীলের বাবা চেনেনা। চেনে আমাকে। ওর বাবা বেশ জাঁদরেল টাইপের। আমাকে ডেকে প্রথমদিন বলেছিল, শোনো নীলের একটু খেয়াল টেয়াল রেখো।
ও যদি আবার এই বাস থেকে নেমে যায়, সেই ভয়ে আমি চোখের পাতা এক করতে পারলাম না।
দীঘা পৌঁছলাম যখন তখনো সূর্য ওঠেনি। একটা সস্তা হোটেলে ব্যাগ রেখেই নিউ দীঘার সমুদ্রে নামলাম। সমুদ্রতটে ওই ভোরেও বেশ কিছু লোকজন নেমে পড়েছে।
আমাদের মধ্যে ভগা বললো - সমুদ্রে নামলে আমার কান কটকট করে, তাই নামা যাবেনা। তোরা নাম্৷

আমরাও মুরগী পেয়ে ভগার কাছে আমাদের জামা কাপড়, জুতো, চশমা সব রেখে নেমে পড়লাম। সমুদ্র সেদিন উত্তাল ছিল। আমরাও উত্তাল হয়ে উঠেছিলাম। যে সবসময় ল্যাদ খেয়ে থাকতো সেই বিশু ট্রিগারটা প্রথম চাপল । হঠাৎ সমুদ্রের জল থেকে দুহাতে বালি নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললো - আমি সমুদ্রের রাজা।
শিবেণ আক্রমণ বলে ছুটে গেল বিশুর দিকে। বিশু বালি ছুঁড়ে মারলো শিবেণের গায়ে। বিশু আর শিবেণ বালিযুদ্ধ খেলছিলো। আমি আর নীল থাকতে না পেরে যোগ দিলাম। বিশু নীলকে তাক করে এক মুঠো বালি ছুঁড়েছিল। নীল সরে যেতে পাশের এক বৌদির গায়ে লাগলো। বৌদি হেসে সরে গেল দাদার দিকে। বিশু বললো - আমি একটা দেশলাই কাঠি। তোমরা আমাকে জ্বালিয়ে দাও।
আমরা বিশুকে চ্যাংদোলা করে সমুদ্রের জলে ছুঁড়ে দিলাম। হঠাৎ দেখি ভগা দুহাত তুলে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে আমি আসছি, আমি আসছি করতে করতে। তার দুহাতে আমার আর ভগার চশমা ধরা। আমি বললাম -আরে আমাদের জামাকাপড়, জুতো।
ভগা - ওই ছেঁড়া জামা আর জুতো কেউ নেবেনা।

বলে নেমে এলো। বিশু এবার বললো - চলো আমরা সমুদ্রের জলের মধ্যে হাতের কাজ করি।
শিবেণ আবার খিস্তি দিলো - এই মালটা জলে নামলেই ওখানে ব্রেন চলে যায়।
আমি মনে করলাম্ একোয়াটিকাতে সুইমিং পুলে ও কি করেছিল। আমি বললাম - ভাই চল,আর নয়। বিশুকে চ্যাংদোলা করে তোল্।
প্রথমে কেউ রাজি না হলেও পরে কারণটা বলাতে ওকে নিয়ে তোলা হল। বিশু কিছুতেই উঠবেনা।

 বললো - যতক্ষণ বৌদি জলে থাকবে, আমিও থাকবো।
যাই হোক্, সন্ধ্যেবেলা আবার জলে নামবো বলে ওকে টেনে হিঁচড়ে তোলা হল।

ভগার কান যথারীতি কটকট শুরু হল। ও আমাদের মাঝে মাঝে ভয় খাইয়ে দিত। কিন্তু ভগার ওষুধ ও আমাদের কাছে ছিল। শিবেণ। শিবেণ শুদ্ধ গাঁজাখোর। কিন্তু বললো আমাকে, ভাই কয়েকটা বিয়ার বোতল কিনে নিয়ে আয়। আমাদের মধ্যে বিয়ার বিশেষজ্ঞ ছিল নীল। ওই একমাত্র মদ টা খেতো। বাকিরা শুদ্ধ গাঁজা খোর ছিলাম। শিবেণ বলতো - যারা গাঁজা তে ভেজাল মেশায়, তারা শিবের আশীর্বাদ পায়না।
তো সত্যি সেই বিয়ার খেয়ে ভগা চাঙ্গা হয়ে গেল একদম। সন্ধ্যে যখন নামলো, আমার আর বিশু কারোর আর সমুদ্রতীরে যাওয়ার ইচ্ছে হলনা। ভগা শুনলো না কারো কথা। একাই বেরিয়ে গেলো। বললো - আধঘন্টা একটু খোলা হাওয়া খেয়ে আসি।

আধঘন্টা হল, ভগার দেখা নেই। শিবেণ গেল খুঁজতে। পনেরো মিনিট গেলো, শিবেণের দেখা নেই। নীলকে একা পাঠাতে ভয় লাগলো। যক্ষ আর যুধিষ্ঠির কান্ড রিপিট হোক চাইনা। তাই আমরা বাকি তিনজন একসাথে ওদের দুজনকে খুঁজতে বেরোলাম৷ গিয়ে দেখি একটা লোকাল মঞ্চের সামনে বক্সে রিদমটিকা বাজছে। আর লোকাল ছেলেপুলের সাথে শিবেণ আর ভগা উত্তাল নাচছে। আমরা আর কি করবো। আমরাও সেই নাচে যোগ দিলাম। নাচের পর ওরা ফিরে গেলো। আমি আর বিশু সমুদ্রের তীরে বসে ভাবলাম একটা বিয়ার খাই। সমুদ্রের তীরে বসে আমাদের দুজনের পায়ে এসে সমুদ্রের জল এসে লাগছিলো। 
বিয়ার খেতে খেতে বিশু বললো - ভাই তোকে একটা কথা বলবো?
আমি বললাম কি?
- আমি একজনের প্রেমে পড়েছি।
- কে?
- ভগার পাশের বাড়ির একটা মেয়ে।
- তুই চিনলি কি করে?
- আমি ওর বাড়ি গিয়ে দেখেছি।



(পড়ে যে শেয়ার, কমেন্ট না করে যাবে, তার দিন খারাপ যাবে)

(To be continued) 

Friday, April 17, 2020

|| নীলরতনের পাঁচ রতন || ষষ্ঠ পর্ব || Be a Rebel ||

তৃতীয় সেমিস্টারের ক্লাসগুলো ছিল অসহ্য। বিশেষ করে মাইক্রোবায়োলজি ডেমো ক্লাসগুলো। ক্লাসে গেলে সব কিছু হিব্রু মনে হত। লোকজন প্রথম বেঞ্চে বসে নোট নিত। আমি আর ভগা শেষদিকে বসে বাইরের ছাতিম গাছটার দিকে তাকিয়ে ক্লাস শেষ হওয়ার অপেক্ষা করে থাকতাম। কি পড়ছি, কেন পড়ছি কিছুই বুঝতে পারতাম না। তার উপর মাইক্রো ডিপার্টমেন্ট এ নতুন দুজন স্যার এসেছিলেন। একজন খুব ভালো, নরম স্বভাবের। অনেক জানেন। কিন্তু আমাদের দুজনের বুঝতে খুব সমস্যা হত। আমি পড়ার কোন কারণ খুঁজে পেতাম না। আর অন্য একজন কে আমার অসহ্যকর লাগতো। উনি প্র‍্যাক্টিকাল খাতায় আমাদের কালচার মিডিয়াম কালার পেন্সিলে এঁকে নিয়ে যেতে বলতেন।  একটু বেশি হলুদ হয়ে গেলো, একটু কম হলুদ হয়ে গেলো, আর একটু খয়েরি হতো এরকম নানারকম অযুহাত দিয়ে আমার আর ভগা দুজনের আঁকা কেটে দিতেন। মেয়েদের বা ফার্স্ট বেঞ্চের দিকে বসা ছেলেদের কিন্তু দিব্যি সই হয়ে যেত।

 ভগা একদিন ক্লাস থেকে ফিরে বললো - "উই হ্যাভ টু কিল হিম্। "

আমি ওকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করলাম। আমি ঠান্ডা মাথার ছেলে। শান্ত, নরম স্বভাবের। স্কুলে স্যারেরা সবাই আমাকে "ভালো ছেলে" বলে ডাকতো। আমি একটা ভালো ছেলের স্টিরিওটাইপ হয়ে গেছিলাম। অনেক কিছুই অসহ্যকর লাগলেও চুপ করে থাকতাম তখন। কারণ, কোন সিস্টেম পছন্দ না হলে সেই সিস্টেম মেনে উপরে উঠে নিয়ম বদলাতে হয়। কিন্তু কতদিন, কতটা উপরে ওঠার পর বদল আনতে চাইবো? যাই হোক্, আমি শান্ত, কিন্তু ওর মাথা গরম। বলেছে মানে উল্টো পাল্টা কিছু একটা করেই ফেলবে।
ভগা বলেই চললো - "দেখ্ আমাকে বাড়ি থেকে মাসে আড়াই হাজার টাকা দেয়, তোকে দেয় দুহাজার৷ এতে সিগারেট ও ঠিকঠাক কিনতে পারিনা। বিড়ি খেতে হয়। আর মালটা পেন দিয়ে কেটে দেয়। আবার নতুন পেজ কিনতে লাগে। স্যারকে কত করে আজ বললাম, স্যার, আজ কাটবেন কাটুন, কিন্তু প্লিজ পেন্সিলে কাটুন। নাহলে আবার নতুন পেজের বান্ডিল কিনতে হবে। স্যার, পেন দিয়ে আরো বড় করে কেটে দিলো। "

আমি ওকে বললাম - "আচ্ছা, ঠিক আছে শান্ত হ। সব ঠিক হয়ে যাবে। কিছু একটা সমাধান হয়ে যাবে। "

ওকে সান্ত্বনা দিলেও আমি জানতাম এভাবে কিছু ঠিক হবেনা। বাড়িতে শিখেছি শিক্ষকদের সম্মান করতে হয়। স্কুলে শিখেছি শিক্ষকদের অসম্মান করা পাপ। তাহলে কি করা উচিত?
আমি সেদিন সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। মাথায় একটা চাপ ধরে ছিল। যা ভাবার ভেবে ফেলেছিলাম। কয়েকটা কালচার মিডিয়াম এঁকে আমি একটা সিগারেটে টান মেরে পরদিন সকাল সকাল একা ডিপার্টমেন্ট এ গেলাম। আমার মাথায় তখন একটা কথাই ঘুরছিল। সিস্টেম চেঞ্জ করতে লাগবে। এমন সময়ে ডিপার্টমেন্টে গেলাম যখন কেউ সেরকম থাকেনা। ওই স্যার যথারীতি আবার পেন দিয়ে প্রত্যেকটা আঁকা কেটে দিলেন। আমার মাথায় আগুন চড়ে গেল। তবুও বরফশীতল ভাবে আমি স্যারকে বললাম, "স্যার আপনাকে একটা গোপন কথা বলার ছিল। "

স্যার বললেন - "বলো.. "

আমি বরফশীতল মাথায় বললাম - স্যার, আমরা হস্টেলের ছেলে। কাদের পেছনে লাগছেন একবার ভেবে লাগা উচিত।

স্যার উত্তেজিত হয়ে চেঁচিয়ে চেয়ার থেকে উঠলেন - এই তুমি কাকে কি..

স্যারের কথা শেষ করতে না দিয়েই আমি স্যারের কাঁধে হাত দিয়ে আবার চেয়ারে বসিয়ে দিলাম। বললাম - "স্যার, ঠান্ডা হোন। জল খান। কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন। আপনি তো আমাদের শিক্ষক। ছোট থেকে এটাই শিখেছি শিক্ষকদের ভগবানের মত শ্রদ্ধা করা উচিত। কিন্তু কাল রাতে যখন ডোমদের সাথে গাঁজা খাচ্ছিলাম, ঠিক করে এসেছি, সম্মান তাকেই করা উচিত যে সম্মানের যোগ্য। এই যে কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ান ভুঁড়ি নিয়ে। মাথায় কখন একটা ইঁট পড়ে যাবে, কেউ জানতেও পারবে না কে ফেললো। সুতরাং আপনিও আপনার জায়গায় থাকুন, আমরাও আমাদের জায়গায় থাকবো। "
বলে স্যারের পায়ে একটা প্রণাম করে আমি বেরিয়ে এলাম। স্যারের জামা ঘামে পুরো ভিজে গেছিলো। আমি অনেক হাল্কা অনুভব করলাম।
হস্টেলে ফিরে ভগাকে বললাম - "যা চলে যা ডিপার্টমেন্টে, তোর সই হয়ে যাবে। "
ভগা বললো - আর তোর?
- আমি নকল সই করে নেবো, চাপ নেই।
- আরে ও তো মনে রেখে দিয়েছে আমাদের। ও জানে যে সই করেনি। মার্ক করে রেখেছে।
- তুই চাপ নিসনা। তুই যা। আমি আমারটা বুঝে নেবো।

সেদিন ভগা হাসিমুখে রুমে ফিরলো। ওর প্রত্যেকটা কালচার মিডিয়াম আঁকা নাকি খুব ভালো হয়েছে স্যার বলেছেন। সব একবারে সই হয়ে গেছে।
 "তুই ও যা। তোর ও হয়ে যাবে। " ভগা বললো।

আমি বললাম - না ঠিক আছে।

ওই যে বাঁধন একবার খুললো। তারপর আমি আর ঠিক পথে চলতেই পারলাম না। আমরা তখন সদ্য দাদা হয়েছি। হস্টেলে নতুন ফার্স্ট ইয়ার এসেছে। এ এক অদ্ভুত সময়। আমরা যে কাউকে ডমিনেট করতে পারি, এই প্রথম সেই স্বাদ পাওয়া। যাই হোক্, আমার ডমিনেশনের ইচ্ছে খুব একটা ছিলনা। কারণ আমাকে কেউ ডমিনেট করলে আমি নিতে পারিনা। যেটা নিজে নিতে পারিনা, সেটা অন্যের উপর করা ঠিক নয়। তবে বাকিরা বেশ মজা নিচ্ছিলো। দিনরাত বাচ্চাদের চাঁটাচাঁটি চলতো। আমাদের রুম থেকে অরুণদা বেরিয়ে গেছিলো। ফলে একটা বেড আমাদের ফাঁকা হয়েছিল। আমার রুমে তখনো নতুন কেউ আসেনি। আমার অনেক মাস পরে একবার বাড়ি যেতে হত।

আমি প্রবাল দাকে বাড়ি যাওয়ার আগে বলে গেলাম - "দেখো দাদা, যেকোন জায়গা থেকে ফার্স্ট ইয়ার আসে আসুক। কিন্তু বাঁকুড়া থেকে যেন না আসে। ওরা চরম গাঁতু হয়। নেওয়া যায়না। "

বাড়ি থেকে ফিরে যখন আমার রুম ৮৬ র দরজা টা খুললাম, আরেকটু হলে আমি মাথা ঘুরে পড়ে যেতাম। যে রুমে সিনিয়রের সিগারেটের ধোঁয়া ভরে থাকতো, মদের গন্ধে ম ম করতো। সেই রুমে কেউ ধূপকাঠি জ্বেলে ঘন্টা নেড়ে পূজো করছে। সামনে আবার রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দের ছবি।
আমি জিজ্ঞেস করলাম - এই ছেলে, তুই কে?
বললো - স্যার, আমি ফার্স্ট ইয়ার।
- ওহ্।
আমি ব্যাগ ট্যাগ রেখে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "তোর বাড়ি কোথায়? নাম কি? "
- আমার নাম শ্রীমান বরেণ্য মিশ্র। বাড়ি বাঁকুড়া। আপনি ধর্মদাস দাদা তো?
আমি মাথা নাড়তে নাড়তে মনে মনে বললাম, যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যে হয়।

সে আমাকে বললো - স্যার, আপনি কি আর কিছু বলবেন?  আপনি অনুমতি দিলে আমি পড়তে বসবো। আমার পড়ার সময় হয়েছে।

- হ্যাঁ, হ্যাঁ ঠিক আছে। আর শোন্, আমাকে আপনি, স্যার এসব কে বলতে বলেছে?
- প্রবল দা।
- সে কে?
- আপনার অপর রুমমেট।
- ওর নাম প্রবাল দা।
- না আমাকে উনি বলেছেন ওনার নাম প্রবল দা। ওনাকে মোকাম্বো বলে ডাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই দেখুন।

বলে আমাকে তার নোটবুকে দেখালো। সে হস্টেলের রুম অনুযায়ী সিনিয়রদের নাম একটা নোটবুকে লিখে সেগুলো রোজ সকাল বিকেল গাঁতায়। আমি বুঝলাম আমার মৃত্যু আসন্ন। এটাও বুঝলাম বরেণ্যকে রুমে প্রবল ভাবে বরণ করা হয়েছে। ও করুণ মুখ করে তাকিয়ে আমার দিকে, আমার অনুমতির অপেক্ষায়। আমি অনুমতি দিলে ও পড়তে বসবে। ওকে আর ঘাঁটাতে সাহস হলনা। ওকে অনুমতি দিয়ে আমি বেরিয়ে এলাম। ঠিক করলাম এই প্রবাল দা কে ধরে কেলাবো আমি আজ। এলাম ৮৯ এ। প্রবাল দা ভগার কাছে আছে কিনা দেখতে। দেখলাম ঠিক তাই। ভগা, প্রবাল দা, বিশু, নীল সবাই মিলে বাচ্চা কাচ্চা সামলাচ্ছে।
প্রবাল দা আমাকে দেখে বেরিয়ে এলো হাসিমুখে ,দাঁত কেলিয়ে বললো
- কি, আলাপ হল?
- আমি বললাম, এ তুমি কাকে ঢুকিয়েছো? তোমাকে না বলেছিলাম বাঁকুড়া নয়।
- না ওকে তাড়িয়েই দিতাম। তারপর শুনলাম ওর কেউ একজন আমার বাবার পরিচিত। তাই তোর জন্য তুলে রেখেছি। তুই কিছু একটা কর্।

প্রবাল দা তো বলে দিল। কিন্তু আমি এই মহীরূহের সাথে করবো টা কি? স্যারকে যেরকম করেছিলাম সেরকম এর সাথে করলে যদি কান্নাকাটি শুরু করে দেয়, চাপ। অতএব আমি একটা কূটনৈতিক চাল চাললাম্।

রাতে গিয়ে বললাম,
 - বরেণ্য, তুই গান শুনিস?
বরেণ্য - হ্যাঁ। পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী শুনি।
- রূপম ইসলাম শুনিস?
- সে কে?

বেশ্। বেটা রূপম ইসলাম শোনেনি, মানে রক্ শোনেনি। ও ঠিক রাত এগারোটায় ঘুমিয়ে পড়তো। আমাদের তখন সন্ধ্যে। পরেরদিন আমি আমার পঞ্চ পান্ডব কে নিয়ে এসে রাত একটায় শুরু করলাম আমাদের রূপমীয় তান্ডব। বরেণ্য যোগনিদ্রা থেকে ধড়পড় করে উঠে পড়লো।
পরেরদিন প্রবালদা র কাছে প্রবালদার বাবার ফোন এলো। বরেণ্য আমাদের নামে ওর বাবাকে বলেছে। ওর বাবা প্রবালদার বাবাকে ফোনে বলছে।

প্রবাল দা ফোনে বললো - ঠিক আছে আমি ওকে সাবধান করে দেবো। আর হবেনা।

 প্রবালদা ফোন রেখে আমাকে বললো - ধীরু, এবার তো তাড়াতেই হবে। কিছু একটা কর।

এরই মাঝে বরেণ্য ওর ব্যাচে একটা সেনসেশন হয়ে গেছিলো৷ ৮৯ এ ভগার রুমে যে ফার্স্ট ইয়ার ঢুকেছে সে মাঝে মাঝেই ওর কাছে আসতো আর ভুলভাল প্রশ্ন করতো। 'বরেণ্য, তুই হাতের কাজ করিস তো? বরেণ্য তুই কি কি গাল দিতে পারিস?'
বরেণ্য জিভ কেটে বলতো - "ছি ছি ছি।"
এরকম করতো। ওদের অবসর সময়ের বিনোদন ছিল বরেণ্য।
অসুবিধে আরো ছিল। একদিন ক্লাস থেকে ফিরে দেখি, বরেণ্যর বাবা এসে তার মশারির খুঁটি টাঙিয়ে দিচ্ছে। আর একজন তার বেডের দিকের প্লাগ পয়েন্ট ঠিক করে দিচ্ছে।

আমাকে তারা দুজন দেখে বললো - নমস্কার।

আমিও প্রত্যুত্তরে নমস্কার বললাম।
 যাই হোক্, আমার মাথায় একটা বদ বুদ্ধি এলো। হোস্টেলের বেশ কিছু রুমে পর্ণোগ্রাফিক ম্যাগাজিন নেওয়া হত। তার মধ্যে রুম নং ৮৯ ও ছিল একটি। আমি গোটা হস্টেল জুড়ে সব পর্ণোগ্রাফিক ম্যাগাজিনের সব থেকে বাছাই করা ন্যুড ছবিগুলো ভালো করে কাঁচি দিয়ে কেটে আমার দিকের গোটা দেয়াল জুড়ে আঠা দিয়ে সেঁটে দিলাম। সেদিন সন্ধ্যেবেলা ক্লাসের পরে বরেণ্য ঢুকলো। আমার দিকের দেওয়ালে একবার দেখেই চোখ ফিরিয়ে নিলো। আবার ধূপকাঠি নেড়ে পূজো করে পড়তে বসে গেলো। কিন্তু ও ভুলেও আর আমার দিকের দেওয়ালে চাইলো না। পরের দিন থেকে আমার রুমটা মিউজিয়াম হয়ে গেল। জুনিয়র, সিনিয়র, ব্যাচমেট রা সবাই আসতো গল্প করার নাম করে। এসে আমার দেওয়ালটার দিকে তাকিয়ে হা হুতাশ করতো। রুমে বরেণ্যর বাড়ির কেউ আসা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেলো।
একদিন প্রবালদার কাছে আবার ফোন এলো। এবার বরেণ্যর বাবা সরাসরি অভিযোগ করছেন - রুমে কিছু কুরুচিকর ছবি লাগানো হয়েছে, এ ব্যাপারে তোমার মতামত কি?

প্রবাল দা বললো - দেখুন, কারো দেওয়ালে সে তার মতো ছবি লাগাতেই পারে।

প্রবালদার কাছেও ফোন আসা বন্ধ হয়ে গেলো। কিন্তু নিয়তির এমন খেলা। যে বরেণ্যকে রুমমেট হিসেবে তখন বরণ করতে পারিনি, সেই এখন এই চল্লিশ বছর বয়সেও আমার বন্ধু। বরেণ্য এখন কথায় কথায় গাল দেয়। কুরুচিকর কথা বলে। সেই ধূপকাঠি জ্বালানো বরেণ্য নীলরতনে নীল তারা হয়ে গেলো। বরেণ্য এখন গান গায়। রক্ গান। কথায় কথায় -
"আই এম সো ফাক্ড আপ,ম্যান " বলে। বরেণ্য এখন একজন রেবেল।
নীলরতন জাদু জানে।

(To be continued)
( সব চরিত্র ও ঘটনা কাল্পনিক)

Last vocal revolt

আমি নিজেকে উপহাস করতে ভালোবাসি। আমি অবশ্যই আমাদের পল সিস্টেমকেও উপহাস করব। যে কেউ এটি নিয়ে উপহাস করতে পারেন। তবে তার পরে, আরও ভাল পরিকল্পনা নিয়ে আসুন। একটি নতুন ধারণা বা দর্শন তৈরি করা হোক্। কোন ধারণা বা দর্শন 100% নিখুঁত হতে পারে বলে আমি মনে করিনা। তবে "দাস ক্যাপিটাল " এর প্রভাব নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ থাকার কথা নয়। এটি আজ অবধি সামাজিক বিজ্ঞানের সবচেয়ে উদ্ধৃত গ্রন্থ। কার্ল মার্কস 1867 সালে দাস কাপিটালের খণ্ড 1 প্রকাশ করেছিলেন।  কার্ল মার্কস 1883 সালে মারা যান। পরবর্তী খণ্ডগুলি তার মৃত্যুর পরে তার বন্ধু ফ্রিডরিচ এঙ্গেলস তাঁর নোটবই থেকে বই লিখে প্রকাশ করেছিলেন। দাস কপিটাল খণ্ড ১ প্রকাশের পরে লক্ষ্য করুন, মার্কসের মৃত্যুর আগে ১৬ বছরের একটা ফাঁক ছিল। তাঁর কাজটি তখন সঠিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি। কিন্তু সময় এবং প্রয়োজনীয়তার সাথে তার কাজগুলি স্বীকৃত হয়। দার্শনিক নীটশে-র ক্ষেত্রেও একই কথা সত্যি।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি কোনও সিস্টেম পারফেক্ট নয়। আমরা আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু চক্রের মধ্যে সবসময় বিভিন্ন দর্শন এবং ধারণা সম্পর্কে আলোচনা করি। আমি এই কদিন হল পল সিস্টেমটি প্রকাশ করেছি, তবে এর কাঠামোটি বহু বছর ধরে আমাদের সবার চর্চার মাধ্যমে তৈরি হচ্ছিল। আমি আমার সমস্ত বন্ধু এবং অবদানকারীদের হৃদয় থেকে ধন্যবাদ জানাই। এটি করার জন্য এই লকডাউন পিরিয়ডের চেয়ে ভাল সময় আর নেই। দুমদাম চ্যালেঞ্জ এবং পিএনপিসি খেলার পরিবর্তে একটি হাসি মুখের সাথে কমেডি থেকে একসঙ্গে একটি দর্শন তৈরি করা যাক্। আলোচনায় বাম,ডান, মধ্যপন্থী সবাইকে স্বাগত। কারো যদি "পল মেনিফেস্টো" র কোন পয়েন্ট বুঝতে অসুবিধে হয় সে জিজ্ঞেস করলে, তাকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বুঝিয়ে দেবেন। তবে একটু ধৈর্য নিয়ে পড়তে হবে, এই যা।

****


||অসুবিধে হচ্ছে ||
প্রচন্ড ডিপ্রেশনে ভুগছি। প্রচন্ড। কতজন আছে যারা প্রচন্ড ডিপ্রেশনে ভুগছে? যারা মুক্তি চাইছে এই ঘুণ ধরে যাওয়া সমাজ থেকে? ভাইরাল লেখা কি খুব কঠিন? আমি জানি কিভাবে ভাইরাল লেখা লিখতে হয়। যে ইস্যুটা বাজারে খাচ্ছে সেটা নিয়ে একটা শাঁসালো ঝাঁঝালো চমকালো মনে পিনিক জাগানো প্রতিবাদী লেখা কি খুব কঠিন? তারপর আমার লেখা আমাকেই লোকজন বেনামে বা কপিড করে ফরোয়ার্ড করবে। অপরিচিত বন্ধুত্ব গ্রহণের কিছু আবেদন আসবে। আমার ঠোঁটের কোণে ডিপ্রেশন আসবে এই ভেবে নয়, যে আমারই ভাইরাল লেখা দাম পেলোনা। বরং এই ভেবে আমার বাজে লেখা কিছু লোক তাও পড়লো, যেগুলো ভালো লেখা কেউ পড়লো না। এসব হিসেব হলে দিনের শেষে তোমার আমার ভাঁড়ারে সেই ডিপ্রেশনের গুড় পড়ে থাকে। সেটা মাখিয়ে যে কিছু রুটি খাবো, তার উপায় নেই।
প্রচন্ড ডিপ্রেশনে ভুগছি। চারিদিকে এত ইস্যু। আমি প্রতিবাদ জানিয়ে যে লিখবো, কি লাভ। ঘৃণার বিপক্ষে ঘৃণা বাড়বে। দিশাহীন মানুষ আরো দিশাহীন হয়ে পড়বে। আসলে মাঠের কৃষক থেকে ডাক্তার সবাই প্রলেতারিয়েত৷ সবাই। সবাই তারা কোন অংগুলিহেলনে চলে। তাদের স্বপ্ন নিয়ে, তাদের স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে কেউ ভাবেনা। আর গাছের গায়ে পেরেক মেরে সেখানে সাইনবোর্ডে সমাজের মৃতদেহ ঝুলতে থাকে। সমাজের পিস্টনে নিষ্পেষিত সর্বহারা যখন বিলের ধারে পাখিটিকে ঝুপ করে জলে ডুব মারতে দেখে, সে বুঝতে পারে ভগবান আছেন। সে যখন সমাজের সর্বস্তরে ডিপ্লোম্যাসির লাথি খেতে খেতে, মাথা নামিয়ে নদীর পাড়ে বসে দেখে লাল গোল সূর্য পশ্চিমদিকে নামছে, সে অনুভব করে ভগবান আছেন। কিন্তু ভগবান নেই। ভগবান সর্বহারার অলীক কল্পনা মাত্র। চেষ্টা করলে কোন অলৌকিক আদর্শবাদী সামাজিক সিস্টেম কার্যকরী হতে পারে। কিন্তু ভগবান হাজার চেষ্টাতেও সামনে এসে দাঁড়াবেন, এটা বিজ্ঞানভিত্তিক কথা নয়। যদি কেউ এনে দিতে পারেন, আমি মাথা নত করে প্রণাম করবো। একটা সুস্থ সমাজের সর্বহারার দাবী খুব সামান্য। শান্তি ও ভালোবাসা। বাকিসব এই দুটো না পাওয়ার হতাশা থেকে তৈরি হয়। নববধূর মত ফুলের কুঁড়িটা ফুটছে। পাপড়ি মেলছে। আর দিশাহীন সমাজ ইস্যুর পর ইস্যু খুঁজতে খুঁজতে হারিয়ে ফেলেছে। মানুষ এমন একটা প্রজাতি যাদের মধ্যে এমপ্যাথি সবচেয়ে বেশি। মানুষ তার এই অভ্যেস হারিয়ে ফেলেছে। মানুষ ঘৃণা অভ্যেস করেছে। হিংস্রতা অভ্যেস করেছে। কোথায় আমরা চলেছি খেয়াল নেই। নদীতে জোয়ার এলে জলের টানে নৌকা যেভাবে দিশাহীন হয়ে ভেসে যায়, আমরাও সেভাবে ভেসে চলেছি। সামনে অসীম সমুদ্র। আমাদের সভ্যতা সেখানে গিয়ে প্যারাবোলার মত মিশবে। ঘরে খোকাকে বাবা বলবে - "বাবু, রায় ও মার্টিনের ওই পেপার টা চতুর্থবার করে ফেলো। সমাজের মংগল হবে।"
অসুবিধে হচ্ছে? হ্যাঁ, অসুবিধে হচ্ছে।

****

আজ সভ্যতা যতদূর -
কিছু পাগলের অবদান।
স্বাভাবিকেরা সেই সভ্যতায় ঘর বাঁধে,
নিশ্চুপ, নিরুত্তাপ জীবনের পরে মারা যায়।
যতদিন বেঁচে থাকে তারা,
কিছু পাগলের গড়া -
ভুল-ঠিকে ভরা সভ্য সমাজে,
ততদিন পাগল দাগাতে থাকে।
সেই পাগলরাই আবার নতুন সূর্য আনে।।

****
**উচ্ছে**
বিগত এক বছরে আমি খুবই উচ্ছের মতো তিক্ত এক ব্যক্তি হয়ে উঠেছি৷ খুব আজে বাজে কথা যেখানে সেখানে বলে দিই৷ আজে বাজে লিখছি৷ লোকজন দুমদাম ব্লক করছে, আনফলো করছে।
আর আমার বিন্দুমাত্র যায় না এসে, অন্ধকার একটা ঘরের কোণে ব্যাঙ এর মতো বসে থেকে আরো আজে বাজে লিখছি।
আসলে আমি একটা লেবুর মত, সমাজ আমাকে এমন কচলাচ্ছে যে দিনদিন তিতো হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু তিতো ভিলানোভা হলে অকালে মরতে হবে। মরে গেলে তো আমি শেষ। আমি শেষ হলে "আমরা"র অস্তিত্ব নেই। আমড়া না থাকলে চাটনি কি দিয়ে বানাবো? শেষপাতে একটু, মানে কথা চাটনি না পেলে কি বরফ জমে? কি যেন বলছিলাম। হ্যাঁ, উচ্ছে। জঘন্য একটা সবজি। গোটা গায়ে নিউরোফাইব্রোমা হয়ে থাকে। আর স্বাদ অতীব জঘন্য। লোকে আবার ডায়েটিং করার জন্য উচ্ছের জুস খায়। না মানে, সবার যেরকম পেচ্ছাপ, পায়খানা পায়। আমারো সেরকম মাঝে মাঝে লেখা পায়৷ তাই এই লেখাটা। এর কোন মর্মার্থ নেই ৷।



****

নাগরিক জীবনে হাঁফিয়ে উঠেছি। এখানে হাওয়া নেই, গাছ নেই, ঝিল নেই, মানুষ নেই। আছে শুধু কিছু রোবোট৷ সবাই পাগলের মত দৌড়চ্ছে৷ এরা এতে অভ্যস্ত। আমি তো নই। আমার ঝিলের ধারে বসে পাখি দেখতে দেখতে মনের ভেতর ডানা না মেললে দম বন্ধ লাগে। নিশুতি কুয়াশা রাতে চুপ করে বাঁশঝাড়ে বসে হ্যাল হয়ে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক না শুনলে আমার অশান্ত লাগে৷ ভুলভাল কাজ করি, আজেবাজে বকি। লোকে ভাবে পাগল৷ মাথায় অক্সিজেনের অভাব। কিন্তু মাছকে ভালো লাইফের লোভ দেখিয়ে ডাঙায় তুললে মাছের কেমন লাগবে? আমি আবার ভেবেছিলাম এই দেশ ছেড়ে পালাবো৷ মাথা খারাপ নাকি? মার খাই, যাই খাই এখানেই থাকতে হবে আমাকে৷
 আমার বেশিরভাগ পাঠক, শ্রোতা সবাই নগর জীবন ভালোবাসে । তাই আমার কাজের ভাষাও ওইরকম হয়ে গেছে। তোমরা কি কেউ জানো যে "শাপমোচন" আমার খুব প্রিয় সিনেমা? "সন্ধ্যারাগ" আমার খুব প্রিয় বই। শেষ দশ বছরে যত সিনেমা হলে গিয়ে দেখেছি, একমাত্র "সহজপাঠের গপ্পো" দেখে আমি দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়েছি। আমার সব থেকে প্রিয় সিনেমা "আগস্ট রাশ"। এই এখন যে জীবন কাটাচ্ছি, আমার জন্য নয়৷ আমাকে ফিরে যেতে হবে কোন সবুজ জায়গায়৷ যেখানে কেউ আমাকে চিনবেনা, ঘাঁটাবেনা। কাছেই কোথাও সাঁওতালি গান ভেসে আসবে। হ্যাল হয়ে শুনবো। কাছে পিঠে কোথাও মাদল বাজবে৷ তোমাদের কারো কালী দাশগুপ্ত র গান ভালো লাগে?? বড়ন্তী লেক ঘুরে এসে মনটা আরো উচাটন হয়ে গেছে। ওখানে একটা ছোটখাটো ঘর লাগবে আমার। কিন্তু জীবনের সমীকরণ বড়ই জটিল। একটা অংক মেলাতে গেলে অন্যটা মেলেনা৷


****



|| বিড়ি ও আদিম মানুষ ||
লকডাউনের মার্কেটে বিড়ি কিনতে বেরিয়েছি। আমার পথে হাঁটতে হাঁটতে একাকীত্ব কাটাতে বিড়ি ধরানো স্বভাব। তো সেই আমি মাস্ক পড়ে বিড়ি কিভাবে খাওয়া যায় ভাবছিলাম। N-95 মাস্কের এক্সপিরেটরি ভালভের ফুঁটো দিয়ে যদি বিড়িটা গলিয়ে ফোঁকা যায় কিনা চিন্তা করছিলাম। হঠাৎ পথে এক উলঙ্গ মানুষের সাথে দেখা৷ আমাকে এসে বললো - আচ্ছা দাদা, আমি এখানে চকমকি পাথর খুঁজছি। খুঁজে দেবেন?
আমি কিন্তু চকমকি পাথরের কথা শুনে একটুও না চমকে ভাবতে লাগলাম বাঙালী আজকাল বাংলা জানেনা৷ আর এই উলঙ্গ মানব কিনা পরিষ্কার বাংলায় কথা বলছে!

আমি জিজ্ঞাসা করলাম - আপনি কে মশাই? চকমকি পাথর কেন খুঁজছেন?

সে উত্তর দিল - আমি আদিম মানুষ। আমার নাম উলংগ রাজা। আমি বহু বছর আগে তীর ধনুক নিয়ে শিকারে বেরিয়েছিলাম৷ জংগলে এক এলিয়েনের পেছনে শূকর ভেবে তীর মারি৷ সে আমাকে ধরে নিয়ে যায় তাদের উড়ুক্কু যানে। সেখানে আমার উপর নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়। আজ আমাকে এখানে ছেড়ে দিয়ে গেছে। পথে একটা বাঁদুড় পেয়েছি। ওটাকে পুড়িয়ে খেতে হলে আগুন লাগবে। তাই চকমকি পাথর খুঁজছি।

আমি তাকে দেশলাই আর বাক্সর টেকনলজি টা শেখালাম। তাকে একটা দেশলাই বাক্স উপহার দিলাম। সে সেই এক টাকার বাক্স পেয়ে কি খুশি। তাকে এটাও বললাম বাঁদুড় না খেতে। যত রোগের আঁতুড় ঘর ওটাই৷ সব শেষে বললাম - আচ্ছা আপনাদের সময় কমিটি ছিল?

বললো - হ্যাঁ ছিল। তারা সবাই মিলে বসে ঠিক করতো কিছুই করা সম্ভব নয়। কেন বলো তো ভায়া?

আমার উপর নীরেন্দ্রনাথ ভর করেছিল৷ ফস্ করে বলে ফেললাম - রাজা তুমি উলংগ৷

বললো - হ্যাঁ, জানি তো আমার নামই উলংগ রাজা।

এত কিউট রাজার সাথে আলাপ হয়ে কি মনে হল রুমে ফিরে আমিও উলংগ হয়ে গিটার বাজালাম। একটা উপলব্ধি হল - এই পোশাক আশাকের কি দরকার? সভ্যতা সমাজের দোহাই দিয়ে প্রখর গ্রীষ্মেও জামা কাপড় পরে থাকি৷ কিন্তু যেখানে সভ্যতা উলংগ সেখানে জামা কাপড় পরে থাকা বিলাসিতা।
© Suprabhat Das


*****

এই লেখা করোনা, করোনা বলার জন্য নয়, বরং করতে বলার জন্য লেখা। ওগো, মাঝরাতে আমাকে কেউ বার খাইয়ে যাও। যেমন বলতে পারো - আমি খুব ভালো। আমি খুব ভালো গান গাই৷ আমি করোনা যোদ্ধা। আমি খুব বড় হিরো আলম৷ আমি খুব দারুণ তরতাজা চিন্তার জোয়ার নিয়ে আসি। আমার লেখাতে মণিমুক্তো ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমির বাসা থেকে বিগব্যাং হয়ে বেরিয়ে আসে। আমার যাপন হিপ্পোপটেমাসের হিপোক্রেসিতে নিষিক্ত হয়।
আমার তো বার খেয়ে গাইনোকোম্যাস্টিয়া হয়ে গেল। কিন্তু ওদিকে ক্লাই-মেট চেঞ্জ এর ফলে সমাজের ক্লাই-টোরেস প্রচন্ড সেনসিটিভ হয়ে গোলপোস্টের বাইরে পেনাল্টি মারে ৷ পত্রালাপে বাক্-যুদ্ধ শুরু হয়৷ আর জনগণের মাথার গোবর ওয়ার্মিং হলে মুখ ঘুরিয়ে গাল পাড়ে আমার নামে। তার থেকে গালই দাও সামনে দাঁড়িয়ে, হে উদ্ধত ফাঁপা নাগরিক । প্রমাণ দাও, তুমি আমাকে বার খাইয়ে মেশিন নিতে আসোনি। আমি বারবার বার্বণ খেয়ে কবে মরে ভূত হয়ে, পুনর্জন্মের অপেক্ষায় কলতলায় বসে খড়-বিচালী চিবাচ্ছি। তুমি বরং তোমাকে নিয়ে বলো। তুমি কেমন আছো? সব ভালো তো কাকা? ছবিটি একটি বাচ্চা মেয়ের আঁকা। আর নিজের কথা শুনে বা লিখে কি হবে? মন কি বাতেলা মেরে মেরে বাঙালীর তো আর কিছুই বাকি নেই। সবাই যদি ভাবতে পারতো, তাহলে এক্সট্রা জ্যামিতি কষতে মেড-ইজি লাগতোনা। তোমাদের কথা লিখতে লিখতে ভোর হয়ে এলো ৷

©অবচেতন

পাঁচ মিনিট

"বিষ টা খাওয়ার আগে একবার আমাকে বলতো!! " কথাটা শেষ করতে না করতেই গলা ধরে এলো কিরণ এর। হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট এর বাইরে ...